loading...
Home / তথ্য প্রযুক্তি / পূর্ণ গ্রহণের সময় দিনদুপুরে অন্ধকার (ভিডিও)

পূর্ণ গ্রহণের সময় দিনদুপুরে অন্ধকার (ভিডিও)

পূর্ণ গ্রহণের সময় দিনদুপুরে অন্ধকার (ভিডিও)

সিলেট টুয়েন্টিফোর এক্সপ্রেস ডেস্ক : আপনারা নিশ্চয়ই অমাবশ্য, পূর্ণিমা, সূর্যগ্রহণ, চন্দ্রগ্রহণ দেখেছেন। অনেকে বলেন সবগুলো গ্রহণ একই বলে গন্ডগোল লেগে যায়। এখন আর গন্ডগোল হবে না। চাঁদ হলো সূর্য আর পৃথিবীর মাঝে অবস্থিত। পৃথিবী সূর্যকে ঘিরে ঘুরছে, আর চাঁদ পৃথিবীকে ঘিরে ঘুরছে। সূর্যকে ঘিরে পৃথিবী ঘুরে আসে ৩৬৫ দিনে একবার। আর চাঁদ পৃথিবীকে ঘুরে আসে মাত্র ২৯ দিনে একবার। তাহলে দ্রুত ঘুরছে চাঁদ। এই চাদের অবস্থানের উপরই হয় সূর্য আর চন্দ্রগ্রহণ।

এছাড়া প্রাকৃতিক বা কৃত্রিম উপগ্রহগুলি যখন তাদের গ্রহের পেছনে চলে যায়, তখন পৃথিবীর পর্যবেক্ষকের সাপেক্ষে তাদেরও গ্রহণ ঘটে।

যুক্তরাষ্ট্রে গেলো ২৩ আগস্ট রাতের আঁধার নেমেছিল ভরদুপুরে। গত ৯৯ বছরের মধ্যে দেশটির একপ্রান্ত থেকে আরেক প্রান্ত পর্যন্ত প্রথম পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ দেখেছে লাখো মার্কিন। এ কারণে পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ তোলপাড় ফেলেছিল দেশটিতে এবং সারা বিশ্বে।

পৃথিবীর আরেক প্রান্তে থাকা বাংলাদেশ থেকে এ সূর্যগ্রহণ দেখা যায়নি। বাংলাদেশে পরবর্তী সূর্যগ্রহণ দেখা যাবে ২০১৯ সালের ২৬ ডিসেম্বর। তবে এটি পূর্ণ সূর্যগ্রহণ নয়, এটা আংশিক সূর্যগ্রহণ। বাংলাদেশ থেকে পরবর্তী বলয়গ্রাস সূর্যগ্রহণ দেখা যাবে অনেক দিন পর। সেই ২০৬৪ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি!

বাংলাদেশে সর্বশেষ পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ দেখা গেছে ২০০৯ সালের ২২ জুলাই। সকাল ৭টা থেকে শুরু হয়ে ৯টা ৫ মিনিট পর্যন্ত দেখা গিয়েছিল এ গ্রহণ। তবে কেবল পঞ্চগড় ও ঠাকুরগাঁও থেকে এ গ্রহণ দেখা গেছে শতভাগ। তখন এ গ্রহণকে কেন্দ্র করে দেশ-বিদেশের জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা এসে ভিড় করেছিলেন পঞ্চগড়-ঠাকুরগাঁওয়ে। ২০১০ সালে বলয়গ্রাস গ্রহণ দেখা গেছে বাংলাদেশ থেকে।

পৃথিবীতে প্রতি বছর অন্তত দুই থেকে পাঁচটি সূর্যগ্রহণ দেখা যায়। এর মধ্যে ন্যূনতম দুটি পূর্ণ সূর্যগ্রহণ। বলয়গ্রাস গ্রহণ দেখতে বাংলাদেশের মানুষদের অপেক্ষা করতে হবে অনেক দিন। ৪৭ বছর, কম সময় তো আর নয়। ২০৬৪ সালের সেই গ্রহণ বাংলাদেশ ছাড়াও ভুটান, ভারত, নেপাল, চীন, জাম্বিয়া ও তানজানিয়া থেকে দেখা যাবে।

বাংলাদেশে এর পরের পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ দেখা যাবে ২১১৪ সালের ৩ জুন। এর চার বছর পর ২২ মার্চ আবারও দেখা যাবে বলয়গ্রাস গ্রহণ।

বাংলাদেশ থেকে কবে প্রথম সূর্যগ্রহণ দেখা গেছে, তার সঠিক হিসাব নেই। তবে সতেরো শতকে (১ সেপ্টেম্বর ১৬৪৪) প্রথম পূর্ণগ্রাস গ্রহণ দেখার নথি রয়েছে। এরপর আংশিক, বলয়গ্রাস ও পূর্ণগ্রাস মিলিয়ে আরও ১৯ বার সূর্যগ্রহণ দেখা গেছে বাংলাদেশ থেকে।

সূর্যগ্রহণে চাঁদ সূর্যকে সম্পূর্ণ ঢেকে ফেলতে পারে। এতে কোনো কোনো স্থানে পূর্ণ সূর্যগ্রহণ দেখা যায়। চাঁদ সূর্যের আংশিক ঢেকে রাখলে সংগঠিত হয় আংশিক গ্রহণ। তবে চাঁদের কৌণিক ব্যস সূর্যের চেয়ে ছোট হলে হবে বলয়গ্রাস গ্রহণ। পূর্ণ গ্রহণের সময় দিনদুপুরে ‘অন্ধকার’ নেমে আসার ঘটনায় অনেক মানুষের মধ্যে ভয়ের অনুভূতি সৃষ্টি হয়।

সূর্য গ্রহণের সময় পশুপাখিদের আচরণ নিয়ে অনেক গবেষণা হয়েছে। প্রায় সব গবেষণায় বলা হয়েছে, ভর দুপুরে গ্রহণ হলেও পশুপাখিরা বিভ্রান্ত হয়। ‘পুরোপুরি রাত হয়ে গেছে’ এমনটাও তারা মনে করে না। আবার তখন দিন এটাও ভাবতে পারে না। ফলে আতঙ্কে তারা নানারকম অসংলগ্ন আচরণ করে।

বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, কেবল মানুষ নয়— পশুপাখিরাও সূর্য গ্রহণের সময় অদ্ভুত আচরণ করে। বিভিন্ন সময়ে গবেষকরা পশুপাখিদের এসব আচরণ রেকর্ড করেছেন।

১২৩৯ সালের ৩ জুন হওয়া একটি পুর্ণ সূর্যগ্রহণের বর্ণনায় গবেষকরা বলেছেন, দুপুর বেলা যখন গোটা সূর্য আড়ালে চলে গিয়ে আধার নেমে এলো তখন প্রাণী এবং পাখিদের আচরণ বদলে গেল। তারা আতঙ্কিত হয়ে ছোটাছুটি শুরু করল। বনের পশুপাখিরা লোকালয়ের দিকে ছুটে আসতে লাগলো। পাখিরাও ভয়ে মানুষের বাড়িঘরে ঢুকে পড়ল। সূর্যগ্রহণ শেষ হবার পরেও স্বাভাবিক আচরণ ফিরে পেতে তাদের বেশ সময় লেগে গিয়েছিল।

জ্যোতির্বিদ ক্রিস্টোফ ক্ল্যাভিয়াস লিখেছেন, পর্তুগালে ১৫৬০ সালের ২১ আগস্ট একটি পুর্ণ সূর্যগ্রহণের সময় আকাশ জুড়ে তারা ভেসে উঠেছিল। আকাশ থেকে ঝাঁকে ঝাঁকে পাখিরা এসে মাটিতে আছাড় খেতে লাগলো। কেউ ধরতে গেলেও পাখিগুলো পালাচ্ছিল না।

সাম্প্রতিক সময়ের অনেক ঘটনার বর্ণনা দিয়েছেন জ্যোতির্বিদরা। তারা জানিয়েছেন, গ্রহণ শুরু হবার পর গবাদি পশুরা রাত হয়ে গেছে মনে করে ঘরে ফিরে আসা শুরু করে। পাখিরা কলরব করে বাসায় ফিরে আসে। পানির মাছ ও অন্যান্য প্রাণীরাও তখন যে আচরণ করে সেই আচরণ তারা করে থাকে সাধারণত রাতের বেলায়।

প্রখ্যাত গ্রহণ বিশেষজ্ঞ পিটার ডেন হারটগ ১৯৯৯ সালে হাঙ্গেরিতে গিয়েছিলেন পুর্ণ সূর্যগ্রহণ পর্যবেক্ষণ করতে। তিনি লক্ষ্য করেন গ্রহণ পূর্ণ হবার পর বাঁদুড়, চামচিকার দল ঝাঁকে ঝাঁকে বের হয়ে এসেছে। চিড়িয়াখানার প্রাণীরা দৌড়াদৌড়ি শুরু করে দেয়। আর কুমিরের দল অজ্ঞাত কারণে চরকির মতো ঘুরতে থাকে!

সূর্যগ্রহণ ও চন্দ্রগ্রহণ হল একটি তারা ও দুইটি অন্য ধরনের জ্যোতিষ্ক নিয়ে গঠিত ব্যবস্থায় সংঘটিত গ্রহণ।

সূর্য ও চন্দ্রগ্রহণ নিয়ে আমাদের সমাজে অনেক কুসংস্কার আছে। ওই সময় খেতে নেই, তৈরি করা খাবার ফেলে দিতে হবে, গর্ভবতী মায়েরা এ সময় যা করেন, তার প্রভাব সন্তানের ওপর পড়ে, চন্দ্র বা সূর্যগ্রহণের সময় যদি গর্ভবতী নারী কিছু কাটাকাটি করেন, তাহলে গর্ভস্থ সন্তানের ক্ষতি হয়—এটি ভুল বিশ্বাস। তবে অসুস্থ ব্যক্তিরা বা গর্ভবতী নারী সব সময় সাবধানতা ও সচেতনতা অবলম্বন করাটাই উচিৎ।

এ প্রসঙ্গে নবীজি (সা.) বলেছেন, ‘সূর্য ও চন্দ্র আল্লাহ তাআলার অগণিত নিদর্শনের দুটি। কারো মৃত্যু বা জন্মের কারণে চন্দ্রগ্রহণ বা সূর্যগ্রহণ হয় না। ’ (সহিহ বুখারি : ১০৪৩) চন্দ্র বা সূর্যগ্রহণকে আল্লাহ তাআলার কুদরত হিসেবে অভিহিত করে অন্য হদিসে নবীজি (সা.) সাহাবিদের চন্দ্র বা সূর্যগ্রহণের সময় নামাজ আদায়ের নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘কোনো লোকের মৃত্যুর কারণে কখনো সূর্যগ্রহণ বা চন্দ্রগ্রহণ হয় না। তবে তা আল্লাহ তাআলার নিদর্শনগুলোর দুটি। তোমরা সূর্যগ্রহণ বা চন্দ্রগ্রহণ হতে দেখলে নামাজে দাঁড়িয়ে যাবে। (সহিহ বুখারি : ৯৮৪)

Loading...
loading...

ভিডিওটি দেখতে নিচে ক্লিক করুন



Loading...

About admin

Check Also

চালকবিহীন গাড়ি ভক্স ভাগেন

চালক ছাড়াই চলবে গাড়ি

সিলেট টুয়েন্টিফোর এক্সপ্রেস ডেস্ক : মাত্র এক দশক পর, ২০২৮ সালে ২০ নভেম্বরের কথা কল্পনা …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *