loading...
Home / উপ সম্পাদকীয় / তিস্তা চুক্তি নিয়ে মমতার বোধদোয় হোক

তিস্তা চুক্তি নিয়ে মমতার বোধদোয় হোক

শতাব্দী আলম
শতাব্দী আলম

শতাব্দী আলম : ব্রহ্মপুত্র নদের পানিতে ভারতের আসাম এবং পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য বন্যা কবলিত হয়েছে। কোনোরকম আগাম সর্তকতা ছাড়াই চীন বাঁধে আটকানো পানি ভাটির দিকে ছাড়ায় এমন হঠাৎ বন্যার সৃষ্টি হয়। ভারত-বাংলাদেশ ছাড়াও বিশ্ব গণমাধ্যমের খবরে এমনই বলা হয়েছে।

প্রাকৃতিক জলপথে বাঁধ দিয়ে পানির প্রবাহে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টিই অন্যায়। সেখানে বাঁধের উজানে আটকানো পানি কোনো আগাম সর্তকতা ছাড়া ভাটিতে ছেড়ে দেওয়া অপরাধ। বানের জলে যে জানমালের ক্ষতি হলো তার দায়ভার চীনের। তিস্তা নদীর পানি বণ্টন চুক্তি পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির বাঁধার কারণে আলোর মুখ দেখছে না। অথচ দুই দেশের সরকার চুক্তি করতে নীতিগতভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছে। প্রাকৃতিক জলপথে বাঁধ এবং মানব বাঁধা কখনোই মঙ্গলজনক নয়। মমতা নিশ্চয়ই চীনের হঠকারীতায় মোটেও খুশি নন। ভাটির দেশ হিসাবে বাংলাদেশের কয়েক কোটি মানুষ বর্ষায় বন্যাকবলিত হচ্ছে। আবার শুষ্ক মৌসুমে পানির অভাবে হাহাকার করে। তিস্তা চুক্তি নিয়ে মমতার আচরণে বাংলাদেশের জনগণও তেমনি খুশি নয়। প্রাকৃতিক উৎসের ওপর মানুষে সহজাত অধিকার। ব্রহ্মপুত্র, তিস্তা বা গঙ্গার মতো আন্তর্জাতিক নদীতে বাঁধ দেওয়া সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করার সময় এসেছে। প্রতিবেশী ভারতকে বন্যায় ভাসিয়ে চীন বা বাংলাদেশকে ডুবিয়ে ভারত কোনোভাবেই স্বস্তিতে থাকবে না।

তিস্তা চুক্তি নিয়ে মমতার বোধদোয় হোক

মানব সভ্যতার সকল কিছুই বৈশ্বিক। বাণিজ্যে যেমন বিশ্বের প্রতিটি দেশ একে অন্যের ওপর নির্ভরশীল। প্রাকৃতিক দুর্যোগও বৈশ্বিক। দুর্যোগে একদেশ ক্ষতিগ্রস্ত হলে বিশ্বের অন্যান্য দেশেও এর প্রভাব অবশ্যম্ভাবী। মধ্যপ্রাচ্যে দুর্যোগ সৃষ্টি হলে তরল সোনা তেলের বাজারে প্রভাব পড়ে। চীন, ভারত, বাংলাদেশ এখন বিশ্বের অন্যতম শ্রমবাজার। কায়িক শ্রমবিহীন বিশ্ব প্রতিবন্ধী কোনো কোনো ক্ষেত্রে পঙ্গু। ভারত যদি চীনা পণ্য আমদানি বন্ধ করে তাহলে বছরে ৭০ বিলিয়ন ডলার মূল্যের বাজার হারাবে চীন। পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম পোশাক রপ্তানিকারক হিসাবে বাংলাদেশ যদি আগাম ঘোষণা না দিয়ে পোশাক উৎপাদন বন্ধ করে। তাহলে বিশ্বের কোটি কোটি মানুষ বস্ত্রহীন হয়ে যাবে। এসবের কোনটিই যুক্তিযুক্ত না। মানব সভ্যতা ধ্বংস হবে। এটাই বাস্তবতা। তাই বলে আত্মঘাতী হওয়া কোনোভাবেই মানবীয় নয়। উগ্রপন্থি মানুষ আত্মঘাতী হয়। আবার মানুষের উগ্র-বিধ্বংসী আচরণের কারণে প্রকৃতি রুদ্ররূপ ধারণ করে।

জঙ্গিবাদ নিয়ে বিশ্বের পরাশক্তি থেকে পরাধীন সব কোনের মানুষই চিন্তিত। আত্মঘাতী জঙ্গি বা উগ্রপন্থা প্রতিরোধে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়। অথচ প্রাকৃতিক দুর্যোগে কয়েকগুণ বেশি মানুষ নিধন হচ্ছে। প্রকৃতির সাথে মানুষ পরিকল্পিতভাবে শত্র“তা সৃষ্টি করছে। মানবতাকে সভ্য হিসেবে দাবি করে। হাস্যকর! বাস্তবে পরিবেশ ও প্রতিবেশ ধ্বংস করা মানব অসভ্যতার পরিচয় বহন করে। মমতা নিশ্চয়ই নিজেকে অসভ্য ভাবেন না। তিনি সৎ, মানব দরদী, দূরদর্শী, মার্জিত রুচির- সবই হতে পারেন। কিন্তু কোনোভাবেই প্রকৃত সভ্যতার পরিচয় দেননি। প্রতিবেশীকে পানিশূন্য বা বন্যাকবলিত করা তার নামের সাথে যায় না। মমতা মানবীয় বাঙালি হোন। বাঙালি হিসাবে এটাই প্রত্যাশা।

লেখক :সাংবাদিক ও কলাম লেখক

Loading...
loading...

ভিডিওটি দেখতে নিচে ক্লিক করুন



Loading...

About sylhet24 express

Check Also

জননেত্রী থেকে বিশ্বনেতা

জননেত্রী থেকে বিশ্বনেতা

মো: আব্দুল কাইয়ুম তুলা মিয়া : আমি তখন টগবগে যুবক। ১৯৬৮ সালের কথা। বঙ্গবন্ধুর মুক্তির …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *