Breaking News
loading...
Home / অর্থনীতি / সবজির বাজারে আগুন

সবজির বাজারে আগুন

ঊর্ধ্বমুখী মাছ-মাংস, দাম বেড়েছে সবজিরও

মো.আবু বকর . রাজধানীর কাঁচাবাজারে সব ধরনের সবজি ও মাছের দাম এখনও চড়া। দেশের উত্তরাঞ্চলে বন্যার কারণে রাজধানীর বাজারগুলোতে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে বাড়তি দামেই বিক্রি হচ্ছে সবজিসহ প্রায় সব পণ্য। তবে পেঁয়াজের দাম কেজিপ্রতি ৫ টাকা থেকে ৭ টাকা কমেছে। এদিকে মাত্র এক সপ্তাহ পরই কোরবানি ঈদ। ফলে চাহিদা তেমন না থাকায় মুরগির দামও কিছুটা কমতির দিকে রয়েছে। প্রতি কেজি মুরগির দাম ১০ টাকা থেকে ৩০ টাকা কমেছে। বেড়েছে গরুর মাংস ও ডিমের দাম।

দাম বাড়ার কারণ হিসেবে ব্যবসায়ীরা বলছেন, বন্যার কারণে দেশের অনেক এলাকা এখনো পানির নিচে। এতে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। তাই সবজির সরবরাহ কমে যাওয়ার কারণেই দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে সবজির দাম।

গতকাল রাজধানীর শান্তিনগর, মৌচাক, হাতিরপুল ও কারওয়ান বাজারসহ, কয়েকটি বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। বাজারে সবজি, মাছসহ সব ধরনের পণ্যের দাম বাড়তি থাকলেও কমেছে মুরগির দাম। ব্যবসায়ীরা বলছেন, কোরবানি ঈদকে কেন্দ্র করে মুরগির দাম অন্যান্য সময়ের তুলনায় কিছুটা কমে যায়। এ সময়ে চাহিদা কম থাকায় মুরগির দাম কমতির দিকে থাকে।

বাজার ঘুরে দেখা গেছে, সপ্তাহের ব্যবধানে সব ধরনের মুরগির দাম কেজিপ্রতি ১০ টাকা থেকে ৩০ টাকা কমেছে। ব্রয়লার মুরগি কেজি প্রতি ১০ টাকা কমে গতকাল বাজারে বিক্রি হচ্ছে ১৩০ টাকা থেকে ১৪০ টাকা দরে। লেয়ার মুরগি ২০০ টাকা থেকে ২২০ টাকা; দেশি মুরগি প্রতি পিস ৪২০ টাকা থেকে ৪৪০ টাকা; পাকিস্তানি লাল মুরগি ৩০ টাকা কমে ২৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত ঈদুল ফিতরের পর জুলাই মাসের প্রথম দিকে মুরগির দাম কিছুটা বাড়ে। তখন ব্রয়লার মুরগি কেজিপ্রতি বিক্রি হচ্ছিল ১৮০ টাকা দরে। লেয়ার মুরগি ১৮০ টাকা থেকে ৪০ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে ২২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছিল। এছাড়া দেশি মুরগি প্রতি পিস ৪৫০ টাকা; পাকিস্তানি লাল মুরগি ২৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছিল। এদিকে সপ্তাহের ব্যবধানে কমেছে দেশি ও আমদানি করা পেঁঁঁয়াজের দাম। ৫ টাকা থেকে ৭ টাকা কমে আজকের বাজারে দেশি পেঁয়াজ প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪৮-৫০ টাকা; আমদানি করা পেঁয়াজ ৫ টাকা কমে প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪৫ টাকা দরে। তবে বাজারের এই দামের সঙ্গে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) মূল্য তালিকার দামে কিছুটা পার্থক্য দেখা গেছে।

টিসিবির মূল্য তালিকায় দেখা যাচ্ছে, ব্রয়লার মুরগি কেজিপ্রতি ১২৫ টাকা থেকে ১৩৫ টাকা এবং দেশি মুরগি ৩৭০ টাকা থেকে ৪০০ টাকা। দেশি পেঁয়াজ ৫০-৬০ টাকা; আমদানি করা পেঁয়াজ ৪৫-৫০ টাকা। এদিকে কাঁচামরিচ আগের বাড়তি দামেই বিক্রি হচ্ছে। গতকাল বাজারে কাঁচা মরিচ কেজিপ্রতি বিক্রি হচ্ছে ১৬০ টাকা দরে। এছাড়া কেজিপ্রতি দেশি রসুন ১১০ টাকা, আমদানি করা ভারতীয় রসুন ১৩০ টাকা, আলু কেজি প্রতি বিক্রি হচ্ছে ২৪ টাকা দরে। কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা গেছে, গত সপ্তাহের বাড়তি দামেই বিক্রি হচ্ছে বেগুন। গতকাল বাজারে কেজিপ্রতি বিক্রি হচ্ছে ৭০-১০০ টাকা দরে। এছাড়া সব ধরনের সবজির দাম ৫ টাকা থেকে ১০ টাকা হারে বেড়েছে। শিম ১৪০ টাকা; হাইব্রিড টমেটো ১৬০ টাকা; দেশি টমেটো ১০০ টাকা; শসা ৬০ টাকা; চাল কুমড়া ৫০-৫৫ টাকা; কচুরলতি ৬০-৬৫ টাকা; পটোল ৬০ টাকা; ঢেঁড়স ৬০ টাকা; ঝিঙ্গা ৬০ টাকা; চিচিঙ্গা ৫৫-৬০ টাকা; করলা ৬০ টাকা; কাঁকরোল ৫৫ টাকা; পেঁপে ৪০-৫০ টাকা; কচুরমুখী ৬০ টাকা; আমড়া ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রতিটি ফুলকপি ৩৫ টাকা; বাঁধাকপি ৩০ টাকা এবং লেবু হালি প্রতি ২০ থেকে ৪০ টাকা; পালংশাক আঁটি প্রতি ২০ টাকা; লালশাক ২০ টাকা; পুঁইশাক ৩০ টাকা এবং লাউশাক ৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এদিকে আগের দামেই স্থিতিশীল রয়েছে অধিকাংশ মুদি পণ্যের দাম। গতকাল বাজারে কেজিপ্রতি ছোলা ৮৫ টাকা; দেশি মুগ ডাল ১৩০ টাকা; ভারতীয় মুগ ডাল ১২০ টাকা; মাষকলাই ১৩৫ টাকা; দেশি মসুর ডাল ১২৫ টাকা; ভারতীয় মসুর ডাল ৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এদিকে গতকাল বাজারে ব্র্যান্ডভেদে ৫ লিটারের বোতল ৫৩০-৫৪০ টাকা; প্রতি লিটারে ১-২ টাকা বেড়ে ১০৭ টাকা থেকে ১০৯ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

চালের বাজার ঘুরে দেখা গেছে, মোটা স্বর্ণা চাল প্রতি কেজি ৪২-৪৩ টাকা, পারিজা চাল ৪২ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া মিনিকেট (ভালো মানের) ৫৫ টাকা, মিনিকেট (সাধারণ) ৫৩ টাকা, বিআর-২৮ ৪৮-৫০ টাকা, সাধারণ মানের নাজিরশাইল ৫০ টাকা, উন্নত মানের নাজিরশাইল ৫২ টাকা, পাইজাম চাল ৪৮ টাকা, বাসমতি ৫৩ টাকা, কাটারিভোগ ৭২-৭৩ টাকা এবং পোলাও চাল (পুরাতন) ১০০ টাকা, (নতুন) ৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। মাছের বাজার ঘুরে দেখা গেছে, আকারভেদে সব মাছের দাম বেড়েছে। প্রতি কেজি রুই মাছ ২৮০-৪০০ টাকা, সরপুঁটি ৩৮০-৪৫০ টাকা, কাতলা ৩৫০-৪০০ টাকা, তেলাপিয়া ১৪০-১৮০ টাকা, সিলভার কার্প ২৫০-৩০০ টাকা, চাষের কৈ ৩০০-৩৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। পাঙ্গাস প্রতি কেজি ১৫০-২৫০ টাকা, টেংরা ৬০০ টাকা, মাগুর ৬০০-৮০০ টাকা, প্রকারভেদে চিংড়ি ৪০০-৮০০ টাকা, ৭০০ গ্রাম ওজনের প্রতিটি ইলিশ ৬০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে, প্রতি কেজি ইলিশের দাম রাখা হচ্ছে ১০০০ টাকা। গতকাল বাজারে প্রতি কেজি গরুর মাংস ৫০০ টাকা এবং খাসির মাংস ৭৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

দাম বেড়েছে ৩ মসলার : এদিকে কোরবানী ঈদকে সামনে রেখে মসলার বাজার চড়া। গতকাল সকালে রাজধানীর রায় সাহেব বাজার ও শ্যামবাজার পাইকারি বাজারে গিয়ে বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য জানা যায়।

রায় সাহেব বাজারের মসলার খুচরা বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পাইকারি বাজারের ব্যবসায়ীরা তাদের এই তিন মসলা বাড়তি দামে বিক্রির জন্য বলেছেন।
তাদের কাছে গত চালানের মসলা থাকায় এখনো নতুন দাম যোগ করেননি। তবে নতুন চালান আসলেই বাড়তি দামে বিক্রি হবে এলাচ, লং ও জিরা।
রায় সাহেব বাজারের খুচরা মসলা বিক্রেতা পরমাণ আলী বলেন, মসলার দাম কেজি প্রতি কত বেড়েছে তা নতুন চালান না আসলে বলতে পারবো না। তবে দাম বাড়ার বিষয়টি পাইকারি বাজারের ব্যবসায়ীরা আমাদের নিশ্চিত করেছেন। এ বিষয়ে শ্যামবাজারের পাইকারি ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, লং ও এলাচে কেজি প্রতি ১০০-১২০ টাকা এবং জিরাতে কেজি প্রতি ১৫-২০ টাকা দাম বেড়েছে।

পাইকারি ব্যবসায়ীদের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে লংয়ের পাইকারি দর ১ হাজার ২০-৪০ টাকা যা সাপ্তাহখানেক আগে ছিল ৯’শ ২০-৪০ টাকা। অন্যদিকে ১৩’শ টাকা কেজি দরের এলাচ বিক্রি হচ্ছে ১৪’শ টাকা এবং ১৪’শ টাকা কেজি দরের এলাচ বিক্রি হচ্ছে ১৫’শ টাকায়। এছাড়া ৩৬০ টাকা কেজি দরের জিরা পাইকারি বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৩৭৫-৩৮০ টাকা।
এই তিন মসলার সর্বশেষ খুচরা বাজার মূল্য হচ্ছে এলাচ কেজি প্রতি ১৬’শ থেকে ১৮’শ টাকা, জিরা কেজি প্রতি ৪০০ টাকা ও লং ১৪’শ টাকা করে কেজি প্রতি বিক্রি হচ্ছে। যদিও ১-২ দিন পর এ দাম আরও বাড়বে বলে জানা গেছে।

শ্যামবাজারের মেসার্স ভাই ভাই স্টোরের মসলা বিক্রেতা সাইফুল ইসলাম বলেন, আমাদের দেশে যে সব মসলা পাওয়া যায় প্রায় সবই আমদানি নির্ভর। এই তিন মসলার চাহিদা অনুযায়ী আমদানি হচ্ছে না বলে দাম বেড়েছে।

শ্যামবাজারের আরেক ব্যবসায়ী মো. মানিক বলেন, ঈদকে সামনে রেখে মসলার আমদানিকারী ব্যবসায়ীরা কম করে মসলা আমদানি করে দাম বাড়িয়ে বিক্রি করছেন। এখন পর্যন্ত তো মনে হচ্ছে এই তিন মসলা ছাড়া অন্য কোনো মসলার দাম বাড়বে না। তবে তারা যদি আবার অন্য কোনো মসলার ক্ষেত্রে একই পন্থা ব্যবহার করে তাহলে দাম বাড়তেও পারে।

সর্বশেষ খুচরা বাজার দর অনুযায়ী প্রতি কেজি দারচিনি ৩৫০ টাকা, প্রতি কেজি তেজপাতা ১৬০-২০০ টাকা, প্রতি কেজি ধনিয়া ১২০ টাকা, প্রতি কেজি গোলমরিচ ১২’শ টাকা, প্রতি কেজি আলুবোখারা ৬০০ টাকা, প্রতি কেজি জয়ত্রী ২ হাজার টাকা, প্রতি কেজি পোস্তগোলা ১২ শ’ টাকা, জায়ফল পিস ১০ টাকা, সাদা গোলমরিচ ২ হাজার টাকা, আমদানি করা প্রতি কেজি পেঁয়াজ ৫০ টাকা, দেশি প্রতি কেজি পেঁয়াজ ৫৫ টাকা, দেশি রসুন প্রতি কেজি ৯০ টাকা, আমদানি করা প্রতি কেজি ১১০ টাকা ও চায়না আধা ১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

loading...

About sylhet24 express

Check Also

কেজিতে চালের দাম ঊর্ধ্বমুখী

কমেনি চালের দাম বেড়েছে মুরগির দাম

মো. আবু বকর  : সরকার বলছে চালের দাম কমেছে কিন্তু ব্যবসায়ীরা বলছেন কমেনি, বেশি দাম দিয়ে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *