loading...
Home / সম্পাদকীয় / নারায়ণগঞ্জ হত্যায় ১১ মৃত্যুদণ্ড বহাল মামলার দ্রুত নিষ্পতি চায় জনগণ

নারায়ণগঞ্জ হত্যায় ১১ মৃত্যুদণ্ড বহাল মামলার দ্রুত নিষ্পতি চায় জনগণ

সাম্প্রতিক কয়েক বছরে দেশে যেসব অপরাধ সংঘটিত হয়েছে এসবের মধ্যে ২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জে সংঘটিত ৭ হত্যা আপামর মানুষকে ভীষণভাবে বিস্মিত করেছে। এ ঘটনায় একপ্রকার স্তব্ধ হয়ে যায় দেশবাসী। মানুষের মনে প্রশ্ন জাগে- এও কী সম্ভব? মানুষ এত বর্বর হতে পারে? নির্দয়তার কি কোন সীমা নেই? গণমাধ্যম ও সারাদেশে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে এ হত্যাকাণ্ড। আলোচিত সেই ৭ খুন মামলায় ১৫ জনের মৃত্যুদণ্ডের রায় বহাল রেখেছেন হাইকোর্ট। বাকি ১১ জনের মৃত্যুদণ্ডের পরিবর্তে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

দৈনিক আলোকিত সময়ের খবর অনুযায়ী, সাবেক কাউন্সিলর ও আওয়ামী লীগ নেতা নূর হোসেন, র‌্যাব-১১-এর সাবেক অধিনায়ক সশস্ত্র বাহিনী থেকে চাকরিচ্যুত লেফটেন্যান্ট কর্নেল তারেক সাঈদ মোহাম্মদ, মেজর আরিফ হোসেন, লেফটেন্যান্ট কমান্ডার মাসুদ রানাসহ ১৫ জনের মৃত্যুদণ্ড ও বাকি ১১ জনের মৃত্যুদণ্ড কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করেছেন আদালত।

মামলার ডেথ রেফারেন্স ও আসামিদের আপিল শুনানি শেষে ২২ আগস্ট বিচারপতি ভবানী প্রসাদ সিং ও বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলামের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন। এর আগে গত ১৬ জানুয়ারি সাত খুন মামলার রায় দেন নারায়ণগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ সৈয়দ এনায়েত হোসেন। ওই রায়ে ২৬ জনকে মৃত্যুদণ্ড এবং মোট ৩৫ আসামির মধ্যে বাকি ৯ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। ২২ মে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের ওপর হাইকোর্টের শুনানি শুরু হয়। শুনানি শেষ হলে ২২ আগস্ট রায় ঘোষিত হয়। নিম্ন আদালতে সাজাপ্রাপ্ত ৩৫ আসামির মধ্যে ১২ জন পলাতক। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন নূর হোসেন, তারেক সাঈদ ও আরিফ হোসেন বাদে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত অপর আসামিরা হলেন লে. কমান্ডার (চাকরিচ্যুত) এম মাসুদ রানা, হাবিলদার মো. এমদাদুল হক, এবি মো. আরিফ হোসেন, ল্যান্স নায়েক হিরা মিয়া, ল্যান্স নায়েক বেলাল হোসেন, সিপাহি আবু তৈয়ব আলী, কনস্টেবল মো. শিহাব উদ্দিন, এসআই পুর্ণেন্দু বালা, সৈনিক আবদুল আলিম, সৈনিক মহিউদ্দিন মুনশি, সৈনিক আল আমিন ও সৈনিক তাজুল ইসলাম। যাবজ্জীবন পেয়েছেন সৈনিক আসাদুজ্জামান নূর, সার্জেন্ট এনামুল কবির, নূর হোসেনের সহযোগী আলী মোহাম্মদ, মিজানুর রহমান, রহম আলী, আবুল বাশার, মোর্তুজা জামান, সেলিম, সানাউল্লাহ, শাহজাহান ও জামালউদ্দিন। এ ছাড়া বাকি আসামিদের বিভিন্ন মেয়াদের সাজা বহাল আছে।

হাই কোর্ট মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ২৬ জনের মধ্যে থেকে ১১ জনের সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিলেও রায়ে সন্তুষ্ট নিহত কাউন্সিলর নজরুল ইসলামের স্ত্রী সেলিনা ইসলাম বিউটি। রায় শোনার পর এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, ‘আমরা এ রায়ে সন্তুষ্ট। আমরা চাই সুপ্রিম কোর্টও এ রায় বহাল রাখুক। দ্রুত এ রায় কার্যকর করা হোক।’ তিনি মনে করেন, আসামিরা যে ধরনের অপকর্ম করেছে তার উপযুক্ত শাস্তি হয়েছে।

প্রতিক্রিয়ায় নূর হোসেনের ভাই নূর উদ্দিন বলেছেন, তার ভাইয়ের বর্তমান পরিণতির জন্য মিডিয়াই দায়ী। তার ভাষ্য, মিডিয়ার চাপে এ-মামলা তাড়াতাড়ি এগিয়েছে। এ কারণে তারা ঠিকমতো প্রস্তুতিও নিতে পারেননি। তারা নিম্ন আদালতে আইনজীবী দেওয়ার আগেই বিচার শুরু হয়ে যায়। তিনি মনে করেন, তার ভাই ছাড়া পাবেন। আর ছাড়া না পেলে আইনি লড়াই চালিয়ে যাবেন।

এ মামলা অধিক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে যখন অন্যতম অভিযুক্ত নূর হোসেন পালিয়ে ভারতে চলে যান। এ সময়ে নারায়ণগঞ্জের সাংসদ শামীম ওসমানের সঙ্গে তার একটি টেলি কথোপকথন প্রকাশ পায়। যাতে তিনি ভারতে পালাতে শামীম ওসমানের সহায়তা চান।

হাই কোর্টের রায়ে দেশের মানুষ সুখী বোধ করছে। ন্যায় বিচার হয়েছে বলে জনগণ মনে করে। জনগণের প্রত্যাশা, মামলাটি দ্রুত নিষ্পত্তি করে অপরাধীদের প্রাপ্য পুরষ্কার বুঝিয়ে দেওয়া হোক। আর তা মানুষের কাছে এ-বার্তা পৌঁছে দেবে- অপরাধী যেই হোক সাজা পেতেই হবে।

Loading...
loading...

ভিডিওটি দেখতে নিচে ক্লিক করুন



Loading...

About sylhet24 express

Check Also

S24e

শরণার্থী ও বাংলাদেশের সামর্থ্য বিশ নেতৃবৃন্দকে ভাবতে হবে

ইতিপূর্বে মিয়ানমারের রোহিঙ্গাদের কাছে কাউকে যেতে না দেওয়ার সরকারি সিদ্ধান্তকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে বর্ণনা করেছে জাতিসংঘ। …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *