loading...
Home / স্বাস্থ্য / রাতকানা রোগের লক্ষণ ও চিকিৎসা

রাতকানা রোগের লক্ষণ ও চিকিৎসা

রাতকানা রোগের  লক্ষণ ও চিকিৎসা

সিলেট টুয়েন্টিফোর এক্সপ্রেস ডেস্ক : রাতকানা হচ্ছে ভিটামিন এ-এর অভাবজনিত রোগ (জেরোফথালমিয়া) এর প্রথম পর্যায়। প্রধানত ভিটামিন-এ এর অভাবে শিশুদের এই রোগ হয়ে থাকে। এর ফলে রোগী দিনে স্বাভাবিক দেখতে পায় কিন্তু রাতে বা অল্প আলোতে প্রথম প্রথম ঝাপসা বা হালকা দেখলেও পরে দেখতে পায় না। আমাদের দেশে ৬ বছরের কম বয়েসী শিশুদের মধ্যে রাতকানা রোগ বেশি দেখা যায়। অথচ আমরা একটু সচেতন হলেই এই রোগ প্রতিরোধ করতে পারি। রাতকানা রোগের কারণ : সাধারণত খাবারে ভিটামিন এ-এর অভাব।

জন্মর  সময় বাচ্চার ওজন কম হলে এবং জন্মর পর অপুষ্টিতে ভোগলেও শিশুদের এই রোগ হয়। ডায়রিয়া, হাম, নিউমোনিয়া ইত্যাদি হলে শরীরে ভিটামিনের অভাব হয়। তখনও শিশুদের এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। বাড়ন্ত বয়সে অতিরিক্ত খাদ্যের চাহিদা পূরণ করতে না পারলেও এই রোগ হতে পারে। রাতকানার লক্ষণ : প্রথমে ভোরে ও সন্ধ্যায় অল্প আলোতে দেখতে অসুবিধে হয়। পরে তার চোখ শুকিয়ে যায় (জেরোসিস), চোখের সাদা অংশের চকচকে ভাবটা চলে গিয়ে সেটা কুঁচকিয়ে যায়। চোখে ছোট ছোট ছাই রঙের বুদবুদ ভর্তি দাগ দেখা দেয়। এরপর চোখের কর্নিয়া নরম হয়ে যায় এবং কর্নিয়াতে ঘা হয়ে ঘোলাটে হয়ে যায়। কখনও কখনও নরম কর্নিয়া ঠেলে ফোঁড়ার মতো বেরিয়ে আসতে পারে বা ফুটো হয়ে যেতে পারে। অবশেষে সম্পূর্ণ অন্ধ হয়ে যায়। চিকিৎসা : রাতকানা রোগে আক্রান্ত শিশুকে (১ বছরের বেশি বয়সী) তিনটি ভিটামিন-এ ক্যাপসুল খাওয়াতে হবে। ক্যাপসুল খাওয়ানোর নিয়ম হলো প্রথম দিন একটি, দ্বিতীয় দিনে একটি এবং দুই সপ্তাহ বা ১৪ দিন পর তৃতীয়টি খাওয়াতে হয়। তবে এক বছরের কম বয়সী শিশুরা একই নিয়মে অর্ধেক ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাবে অর্থাৎ প্রতিবারে চার ফোঁটা। কারণ একটি ক্যাপসুলে মোট আট ফোঁটা ওষুধ থাকে। প্রয়োজনে ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে। একটু সতর্ক ও সচেতন থাকলেই রাতকানা থেকে মুক্ত থাকা যায়। রাতকানা প্রতিরোধে করণীয় : বাচ্চাকে প্রথম ৫ মাস শুধু মায়ের বুকের দুধ খাওয়াতে হবে। বুকের দুধ শিশুকে রাতকানা হওয়া থেকে রক্ষা করে। সম্ভব হলে শিশুর দুই বছর বয়স পর্যন্ত বুকের দুধ খাওয়াতে হবে। শিশু  জন্মর  দুই সপ্তাহ পর মাকে ২ লক্ষ আই.ইউ. ভিটামিন-এ এর ১ ডোজ খাওয়াতে হবে।

শিশুকে ভিটামিন-এ সমৃদ্ধ খাবার (হলুদ ফলমূল ও শাক-সবজি, ডিম/দুধ/কলিজা, মাছ, মাংস) খাওয়াতে হবে। ৬ মাস বয়স থেকে শুরু করে ৬ বছর বয়স পর্যন্ত প্রতি ৬ মাস অন্তর উচ্চমাত্রার ভিটামিন-এ ক্যাপসুল খাওয়াতে হবে। অপুষ্টি রোধ করতে হবে। শিশু অপুষ্টিতে ভুগলে কিংবা হাম, ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া হলে ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসার পাশাপাশি ভিটামিন-এ ক্যাপসুল খাওয়াতে হবে। চোখের কালো অংশে কোনো পরিবর্তন (যেমন- ধোঁয়াটে, ঘোলা, ছিদ্র, সাদা হওয়া) দেখা দিলে চক্ষু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে হবে।

Loading...
loading...

ভিডিওটি দেখতে নিচে ক্লিক করুন



Loading...

About sylhet24 express

Check Also

অসহ্য যন্ত্রণা মাথাব্যথা-(মাইগ্রেন) হলে কি করবেন

অসহ্য যন্ত্রণা মাথাব্যথা-(মাইগ্রেন) হলে কি করবেন

সিলেট টুয়েন্টিফোর এক্সপ্রেস ডেস্ক : মাথাব্যথা বিভিন্ন প্রকারের হয়ে থাকে। এর মধ্যে এক প্রকারের মাথাব্যথা …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *