Breaking News
loading...
Home / সম্পাদকীয় / আজ জাতীয় শোক দিবস, রক্তঝরা ১৫ আগস্ট

আজ জাতীয় শোক দিবস, রক্তঝরা ১৫ আগস্ট

আজ জাতীয় শোক দিবস রক্তঝরা ১৫ আগস্ট

বছর ঘুরে রক্তের কালিতে লেখা সেই দিন-রাত আবার ফিরে এসেছে। কী নিষ্ঠুর, কী ভয়াল, কী ভয়ঙ্কর- সেই রাত। ৪২ বছর পরও ৫৬ হাজার বর্গমাইলের প্রকৃতি ভুলতে পারেনি, ভুলতে পারবেও না- স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে অশ্রুভেজা, কলঙ্কময় রাতের কথা। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট, সেই রাতে আত্নীয়-পরিজনসহ সপরিবারে নিহত হয়েছিলেন স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। ঘাতকের ধারণা ভুল প্রমাণিত করে এই মৃত্যু বঙ্গবন্ধুকে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকার পথ অবারিত করে দিয়েছে- শোকের মধ্য দিয়েও। তাই তো ‘ধন্য সেই পুরুষ’র জন্য আজ আমরা আবারও বাষ্পরুদ্ধ কণ্ঠে কবি শামসুর রাহমানের সঙ্গে উচ্চারণ করি- ‘ধন্য সেই পুরুষ, যার নামের উপর রৌদ্র ঝরে/চিরকাল গান হয়ে/নেমে আসে শ্রাবণের বৃষ্টিধারা/যার নামের উপর কখনো ধুলো জমতে দেয় না হাওয়া/ধন্য সেই পুরুষ যার নামের উপর ঝরে/মুক্তিযোদ্ধাদের জয়ধ্বনি।’

আজ ১৫ আগস্ট, জাতীয় শোক দিবস। জাতির পিতার ৪২তম শাহাদাতবার্ষিকী। ১৯৭৫ সালের এদিনে স্ত্রী বেগম শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব, পুত্র- শেখ কামাল, শেখ জামাল ও ১০ বছরের শিশুপুত্র শেখ রাসেল, দুই পুত্রবধূ সুলতানা কামাল ও রোজি জামাল, এক সহোদর এবং আত্মীয় পরিজনসহ নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার হন জাতির জনক। একাত্তরের ২৫ মার্চ মধ্যরাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর নৃশংস গণহত্যা ঘটনার সঙ্গে পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট মধ্যরাতের এ বর্বর হত্যাকা-ই তুলনীয় হতে পারে। যেখানে নারী-শিশুসহ নির্বিচারে গণহত্যা চালানো হলো। একাত্তরে গণহত্যা করল পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী আর পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট মধ্যরাতে গণহত্যা চালাল পাক হানাদারদেরই এদেশীয় দোসর কিছু বিশ্বাসঘাতক। মুক্তিযুদ্ধের মূল চেতনায় আস্থাহীন দেশীয় কিছু রাজনীতিকের পাশাপাশি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে বঙ্গবন্ধু নৃশংসভাবে শহিদ হন সেই কালরাতে। তবে প্রবাসে থাকায় প্রাণে রক্ষা পান বঙ্গবন্ধুর দুই কন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা।

ন্যক্কারজনক ও নারকীয় এই সেনা অভ্যুত্থানের পরিকল্পনা করেন আওয়ামী লীগের বিক্ষুব্ধ কিছু সদস্য এবং বিপথগামী কিছু সামরিক কর্মকর্তা। এদের মধ্যে ছিলেন শেখ মুজিবের প্রাক্তন সহকর্মী খন্দকার মোশতাক আহমেদ, যিনি তার স্থলাভিষিক্ত হন। সংবাদ মাধ্যমে এ হত্যাকাণ্ডের ইন্ধনদাতা হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ-কে দায়ী করা হয়। ১৬ আগস্ট তার মরদেহ জন্মস্থান টুঙ্গিপাড়ায় হেলিকপ্টারে করে নিয়ে যাওয়া হয়। মাত্র পনের মিনিটে সামরিক তত্ত্বাবধানে মাটির নিচে শুইয়ে দেওয়া হয় হিমালয়সম সাহসী এই মানুষটিকে। বাকিদের ঢাকার বনানী কবরস্থানে দাফন করা হয়।

দেশদ্রোহী খুনিরা বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করে তার নাম চিরতরে মুছে ফেলতে চেয়েছিল। কিন্তু ইতিহাসের চাকা রোধ করে সাধ্য কার। বর্তমানে রাষ্ট্রীয়ভাবে ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস হিসেবে হিসেবে পালিত হচ্ছে। বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত খুনি লে. কর্নেল সৈয়দ ফারুক রহমান, লে. কর্নেল (অব.) সুলতান শাহরিয়ার রশিদ খান, মেজর (অব.) বজলুল হুদা, লে. কর্নেল (অব.) এ কে এম মহিউদ্দিন আহমেদ (ল্যান্সার) এবং লে. কর্নেল (অব.) মুহিউদ্দিন আহমেদকে (আর্টিলারি) ফাঁসির দড়িতে ঝুলে মৃত্যুবরণ করতে হয়েছে।

বঙ্গবন্ধু কী অসম সাহসী বীরপুরুষ ছিলেন তা তিনি জীবনের শেষক্ষণেও প্রমাণ রেখে গেছেন- হন্তারকের রাইফেলের সামনে বুক উঁচু করে, মাথা উঁচু রেখে প্রাণ দিয়েছেন; পিছপা হননি, মাথা নোয়াননি। তার মৃত্যুর মধ্য দিয়ে বিশ্বের একজন মহান জাতীয়তাবাদী নেতার জীবনাবসান ঘটে- যিনি নিজ জাতিসত্তা বাঙালিত্বের চেতনায় দেশের সাড়ে সাত কোটি মানুষকে জাগ্রত করেছিলেন। সারাটা জীবন লড়াই করেছেন প্রতিক্রিয়াশীল ও সাম্প্রদায়িক শক্তি ও রাজনীতির বিরুদ্ধে।

মাত্র মাত্র ৫৫ বছরের জীবনে স্বদেশের মাটি আর মানুষকে এতটাই দিয়েছেন যা এ জাতি কোনো দিন শোধ করতে পারবে না। এমন গভীর ভালোবাসার বন্ধনে মানুষকে বেঁধেছিলেন যা কোনোদিন ছিন্ন হওয়ার নয়। তাই তো বাঙালির কণ্ঠে আকুতি : ‘যদি রাত পোহালে শোনা যেত বঙ্গবন্ধু মরে নাই/যদি রাজপথে আবার মিছিল হতো বঙ্গবন্ধুর মুক্তি চাই/তবে বিশ্ব পেত এক মহান নেতা, আমরা পেতাম ফিরে জাতির পিতা।’

loading...

About sylhet24 express

Check Also

পাঠ্যপুস্তক

বছরে প্রথমদিন বই পৌঁছানো নিয়ে সংশয়, এক্ষুণি সতর্ক হতে হবে

প্রতি বছর ১ জানুয়ারি প্রথম দিন সরকার বই উৎসবের আয়োজন করে। বছরের প্রথম দিন নতুন …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *