loading...
Home / অর্থনীতি / দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে মধ্যবিত্তের নাভিশ্বাস

দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে মধ্যবিত্তের নাভিশ্বাস

দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে মধ্যবিত্তের নাভিশ্বাস

মো.আবু বকর :কাঁচাবাজার যেন সব কিছুর দামই লাগামহীন পাগলা ঘোড়া। মাছের দাম গত সপ্তাহের থেকে কেজি প্রতি মাছ ভেদে ৫০ থেকে একশ টাকা বেশি। চালের দামের ঊর্ধ্বগতির পাগলা ঘোড়া একটা পর্যায়ে থমকে থাকায়, চাল নিয়ে আতঙ্ক কিছুটা কম থাকলেও, জানালেন মিনিকেট এখনও ৫৫ টাকা কেজি কিনতে হচ্ছে। কোনো সবজির দামই ৬০ টাকার নিচে কেজি নয়। মরিচের দামেও ঊর্ধ্বগতি। কেজিতে মরিচ কিনতে লাগছে ১২০ টাকা। আর খুচরা একশগ্রাম কিংবা দুইশ গ্রাম কিনতে কেজিতে পড়ছে ১৬০ টাকা পর্যন্ত। বাজার অনেক চড়া। বিশেষ করে সবজির দাম গত সপ্তাহের থেকে কেজিপ্রতি ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়ে গেছে।

দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে মধ্যবিত্তের নাভিশ্বাস

বাজারের সব জিনিসের দাম বেড়ে যাওয়ার জন্য তিনি দায়ী করলেন সিন্ডিকেটকে। তার মতে সিন্ডিকেটই এসব জিনিসের দাম বাড়িয়ে রাখছে। বাজারে কোনো জিনিসেরই অভাব নেই। তারপরও দাম কেন কমছে না।

গতকাল হাতিরপুল, শান্তিনগর, কারওয়ান বাজারসহ, রাজধানীর কয়েকটি বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। বাজারে সবজি, মাছসহ সব ধরনের পণ্যের দাম বাড়ার জন্য অব্যাহত বৃষ্টিপাতকে দায়ী করছেন ব্যবসায়ীরা।
বাজার ঘুরে দেখা গেছে, সপ্তাহের ব্যবধানে দেশি পেঁয়াজের দাম কেজিতে ১০ টাকা বেড়ে গতকাল বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকা দরে। এর আগে গত দুই সপ্তাহে দেশি পেঁয়াজের দাম বেড়েছিল ২০ টাকা। অর্থাৎ ৩ দফায় পেঁয়াজের দাম বেড়েছে ৩০ টাকা।

এছাড়া আমদানি করা ভারতীয় পেঁয়াজ গত সপ্তাহে ১২ টাকা বৃদ্ধির পর গতকাল বাজারে আবারও ১৫ টাকা বেড়েছে। অর্থাৎ গত সপ্তাহে ৪০ টাকা দরে বিক্রি হওয়া পেঁয়াজ আজকের বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৫৫ টাকা দরে।
এদিকে গত সপ্তাহের বাড়তি দামেই বিক্রি হচ্ছে কাঁচামরিচ। গতকাল বাজারে কাঁচামরিচ কেজিপ্রতি বিক্রি হচ্ছে ১৬০ টাকা দরে। এছাড়া কেজিপ্রতি দেশি রসুন ১০ টাকা বেড়ে ১১০ টাকা, ভারতীয় রসুন ১৩০ টাকা, আলু কেজিপ্রতি ২ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ২৪ টাকা দরে।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, টানা বৃষ্টির কারণে আড়তে পেঁয়াজ, রসুন ও আলু সংরক্ষণে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উৎপাদন পর্যায়ের কৃষক মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে এর প্রভাব পড়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে পেঁয়াজ ও কাঁচামরিচে।
চালের বাজার ঘুরে দেখা যায় চালের দাম অপরিবর্তিতই দেখা গেছে।

শান্তিনগর বাজারের ব্যবসায়ী বিপুল হোসেন বলেন, গত দুই সপ্তাহ ধরে টানা বৃষ্টির কারণে পেঁয়াজের দাম বেড়েছে। কারণ পেঁয়াজ নষ্ট হওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে পাইকারি ব্যবসায়ীরা। দুর্যোগপূর্ণ এই অবস্থা চলতে থাকলে পেঁয়াজসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় সব পণ্যের দাম আরও বেড়ে যাবে।

তবে গত সপ্তাহের দামেই স্থিতিশীল রয়েছে অধিকাংশ মুদি পণ্যের দাম। গতকাল বাজারে কেজিপ্রতি ছোলা ৮০ টাকা, দেশি মুগ ডাল ১৩০ টাকা, ভারতীয় মুগ ডাল ১২০ টাকা, মাষকলাই ১৩৫ টাকা, দেশি মসুর ডাল ১২৫ টাকা, ভারতীয় মসুর ডাল ৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। দারুচিনি ৩৬০ টাকা, জিরা ৪৫০ টাকা, শুকনা মরিচ ২০০ টাকা, লবঙ্গ ১৫০০ টাকা, এলাচ ১৬০০ টাকা, চীনের আদা ১৪০ টাকা এবং কেরালা আদা ১১০ টাকা, হলুদ ১৯০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

ভোজ্যতেলের দাম আগের বাড়তি দামেই বিক্রি হচ্ছে। গতকাল বাজারে ব্র্যান্ডভেদে ৫ লিটারের বোতল ৫৩০-৫৪০ টাকা, প্রতি লিটারে ১-২ টাকা বেড়ে ১০৭ টাকা থেকে ১০৯ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

সকালে এক কেজি কাঁচামরিচ ৬০ টাকায় বিক্রি করলেও বৃষ্টি আসার সঙ্গে সঙ্গেই সে মরিচ বিক্রি করছি ৮০ থেকে ১০০ টাকায়। মিরপুর ১ নম্বর কাঁচাবাজারে সবজির দাম নিয়ে এভাবেই কথা বলেন ব্যবসায়ী মো. বাদল। শুধু কাঁচামরিচ নয় বেগুন, পটল, ধুন্দুল, বরবটি, করলা, কাকরল সবই কেজিতে বেড়েছে ১০ থেকে ২০ টাকা।

মিরপুর কাঁচাবাজারে এক পাল­া (৫ কেজি) কাঁচামরিচ ৩৫০ থেকে ৫০০ বিক্রি টাকায়, আর বেগুন মান ভেদে ২৫০ থেকে ২৬০ টাকা পাল­া, করলা ২৬০, শিম সাদা ৭৫ টাকা কেজি আর লাল সিম ৬৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এই বাজারে মূলা ৫ কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৮০ টাকায়। আলু ৮৫ থেকে ৯০ টাকা পাল­া। পেঁয়াজ দেশি ৫ কেজি ২৬০ টাকা আর ইন্ডিয়ান ২৫০ টাকা।

সবজি বিক্রেতা মো. আরিফ মিয়া বলেন, এবার বেশি বৃষ্টিপাত হওয়ায় প্রতিটি সবজির দাম চড়া। অন্য বছর এই সময়ে ১৫ টাকা কেজি ধরে বেগুন বিক্রি করলেও এবার বিক্রি করছি ৫০ থেকে ৫২ টাকায়। বৃষ্টি বেশি হওয়াতে খেতেই পচে যাচ্ছে পটল, ঝিঙা, ধুন্দুল। আর বেগুনে পোকা দেখা দিচ্ছে ফলে দাম বাড়তি।

আকারভেদে প্রতি কেজি রুই মাছ ২৫০-৩৫০ টাকা, সরপুঁটি ৩৫০-৪৫০ টাকা, কাতলা ৩৫০-৪০০ টাকা, তেলাপিয়া ১৪০-১৮০ টাকা, সিলভার কার্প ২০০-২৫০ টাকা, চাষের কৈ ২৫০-৩৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। পাঙ্গাস প্রতি কেজি ১৫০-২৫০ টাকা, টেংরা ৬০০ টাকা, মাগুর ৬০০-৮০০ টাকা, প্রকার ভেদে চিংড়ি ৪০০-৮০০ টাকা, প্রতিটি ইলিশ ৬০০-৭০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে, প্রতি কেজি ইলিশের দাম রাখা হচ্ছে ১২০০ টাকা।

এদিকে সপ্তাহের ব্যবধানে ছোট দেশি মুরগির দাম আগের বাড়তি দামে প্রতি পিস বিক্রি হচ্ছে ৪৫০ টাকা দরে। এছাড়া ব্রয়লার মুরগি ১৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। লেয়ার মুরগি ২২০ টাকা এবং পাকিস্তানি লাল মুরগি ২৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। গতকাল বাজারে প্রতি কেজি গরুর মাংস ৫০০ টাকা এবং খাসির মাংস ৭৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

ভারতীয় মরিচ আসায় কমেছে কাঁচামরিচের দাম : বর্ষায় কেজি চারশ’ ছাড়িয়ে দাম কমেছে কাঁচামরিচের। টানা বৃষ্টি না থাকা ও ভারতীয় মরিচের আমদানি হওয়ায় রসনার অন্যতম এ অনুষঙ্গের দাম পড়েছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। ব্যবসায়ীরা বলছেন, চলতি সপ্তাহে বাজারে কাচামরিচের সরবরাহ বেশি। তাছাড়া গেল সপ্তাহে টানা বৃষ্টিও ছিল না। অন্যদিকে বাজারে এসেছে ভারতীয় কাঁচামরিচ। তা কেজিতে ৬০ থেকে একশ টাকা পর্যন্ত দাম কমে পাইকারিতে ৮৫ থেকে ১১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর খুচরা বাজারে এ পণ্য বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১৪০ টাকায়।

সাপ্তাহিক ছুটির দিন গতকাল রাজধানীর অন্যতম পাইকারি কাঁচাবাজার যাত্রাবাড়ী ঘুরে ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে এমনটা জানা গেছে। সরজমিনে দেখা যায়, গতকাল যাত্রাবাড়ীতে কাঁচামরিচের সরবরাহ যথেষ্ট আছে। দেশি মরিচের পাশাপাশি ভারতীয় মরিচ আছে। পাইকারিতে প্রতি কেজি দেশি মরিচ বিক্রি হচ্ছে ৮৫ থেকে ১০০ টাকায়। আর ভারতীয় মরিচ বিক্রি হচ্ছ ৬০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত।

কাঁচামরিচ বেপারি মাজহারুল ইসলাম বলেন, বৃষ্টির কারণ ক্ষেতে মরিচ নষ্ট হচ্ছে তাই কৃষকরা তা বিক্রি করে দিচ্ছেন। একসঙ্গে সরবরাহ বেড়ে যাওয়ায় দাম পড়ে গেছে। তাছাড়া দাম কমার অন্যতম কারণ বাজারে ভারতীয় মরিচ আসা।

গত সপ্তাহে কাঁচামরিচ ৫৫০ থেকে ৭৫০ টাকা টাকা পর্যন্ত পাল­া (৫ কেজি) বিক্রি হয়েছে বলে জানান তিনি।
তার সঙ্গে যোগ করে ব্যবসায়ী মো. ইসমাঈল বলেন, একদিনেই কমে গেছে মরিচের দাম। গতকালও ১১০ টাকায় কেজিপ্রতি বিক্রি হয়েছে কাঁচামরিচ। হঠাৎ করে দাম কমে যাওয়ায় ব্যবসায়ীদের ক্ষতি হবে। কারণ মোকাম থেকে তো তারা বেশি দামে কিনেন এ পণ্য। এদিকে যাত্রাবাড়ী কাঁচা বাজারে কাঁচামরিচ খুচরায় কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৩০ টাকা। দামের হেরফের প্রসঙ্গে খুচরা বিক্রেতা আ. আলিম বলেন, মরিচ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। পরিবহন ও লেবার খরচ আছে। তাই এর কম বিক্রি করলে পুষে না। বাজারে কাকরোল বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৪৫ টাকা, বেগুন ২৫ থেকে ৩০ টাকা, পেঁপে ২০ থেকে ২৫, আলু ১২ থেকে ১৩ টাকা, চিচিঙ্গা ৩০ থেকে ৪০, কচুরমুখি ২৫, ঝিঙ্গা ৪৫ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

খুচরা বাজার ঘুরে দেখা যায়, পাইকারি বাজারের তুলনায় এখানে মরিচসহ প্রায় সব সবজির দাম কেজিতে ৫ থেকে ৩০ টাকা বেশি। এখানে কাকরোল ৫০ টাকা, কচুরমুখি ৩০, পটল ৩০, ঢেঁড়স ২৫-৩০, করলা ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

বিক্রেতা মো. আরিফুল হক বলেন, বৃষ্টি ও বন্যায় ফসল নষ্ট হয়েছে, তাই দাম বাড়তি।
প্রতি সপ্তাহে সবজি কেনেন এমন একজন ক্রেতা বেসরকারি ব্যাংকার সেলিমুল ইসলাম। তিনি বলেন, বাসার জন্য প্রতিদিন বাজারে আসতে পারি না। তাই ছুটির দিনে সারা সপ্তাহের বাজার করি। প্রতিটি সবজির দাম বেশি এখানে। ৪০ টাকার নিচে কোনো সবজি পাওয়া যাচ্ছে না। তবে কোনো সবজিতে গেল সপ্তাহ থেকে দাম কম।
আরেক ক্রেতা গোলাপবাগ এলাকার ব্যবসায়ী মাজেদুল হক বলেন, বর্ষার সবজি বাজারে আছে, তবে দাম কিছুটা বেশি। বিক্রেতারা তো বলছেন বন্যার কারণে দাম বেশি। তবে বন্যা কমে গেলে তারা অন্য অযুহাতে আবার দাম বেশি রাখেন। দাম কমে না, বাড়তেই থাকে। যাত্রাবাড়ী সবজি বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সদস্য হারুন অর রশিদ বলেন, বাজার কিছুটা স্থিতিশীল। তবে মাঝেমাঝে দাম বেড়ে যায়। তখন খুচরা ব্যবসায়ীরা বাজারকে অস্থিতিশীল করে দেয়।

Loading...
loading...

ভিডিওটি দেখতে নিচে ক্লিক করুন



Loading...

About sylhet24 express

Check Also

ব্যাংকে গচ্ছিত টাকার ওপর কর বাড়ানোয় ক্ষুব্ধ গ্রাহকরা

বিদেশেও নেওয়া যাবে বাংলাদেশি টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক : এখন থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত বাংলাদেশি কারেন্সি বিদেশে নেওয়া যাবে। একইভাবে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *