loading...
Home / জাতীয় / ২ কোটি টাকা ব্যয়ে রাজবাঁধে কেসিসির মানববর্জ্য

২ কোটি টাকা ব্যয়ে রাজবাঁধে কেসিসির মানববর্জ্য

২ কোটি টাকা ব্যয়ে রাজবাঁধে কেসিসির মানববর্জ্য

খুলনা সংবাদদাতা : শোধনাগার চালু : মল সংগ্রহে ৬টি ভ্যাকুটাগ ব্যবসাভিত্তিক কম্পোস্ট সার ও মাছের খাদ্য উৎপাদন হবে
স্যানিটেশন আধুনিকায়নে খুলনা সিটি করপোরেশন (কেসিসি)’র রাজবাঁধে প্রায় ২ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত মানববর্জ্য শোধনাগারটি চালু করা হয়েছে। ফলে নগরীর ১৫ লাখ মানুষের উন্নতর পরিবেশে বসবাসের সুযোগ সৃষ্টি হলো। তবে করপোরেশনের কর্মকর্তারা বলছেন, প্রকল্পটি পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়ন হলে শুধু যে নিরাপদভাবে মানববর্জ্য সংগ্রহ করা হবে তা নয়; পুঞ্জিভ‚ত বর্জ্য পরিশোধনের মাধ্যমে ব্যবসাভিত্তিক কম্পোস্ট সার ও মাছের খাদ্য উৎপাদন করা যাবে। যার মাধ্যমে করপোরেশনের মোটা অঙ্কের রাজস্ব আয় হবে।

বাস্তবায়নকারী সংস্থা এসএনভি সূত্রে জানা গেছে, খুলনা বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাংশে অবস্থিত দেশের তৃতীয় শহর। যা ভৈরব এবং রূপসা নদীর তীরে অবস্থিত। শহরটি গড় সমুদ্রতল থেকে ৪ মিটার উপরে এবং আয়তনে ৪৫.৬৫ বর্গকিলোমিটার। এ শহরে জনসংখ্যা প্রায় ১৫ লাখ এবং এর ঘনত্ব প্রতি বর্গ কিলোমিটারে ৩২ হাজার ৮৫৯ জন। এখানে প্রতি ওয়ার্ডে মোট ৬৬ হাজার ২৫৭টি পরিবার বসবাস করে। খুলনা সিটি করপোরেশন পরিচালিত এ শহরে প্রতি শহরে প্রতি বছর পিট ল্যাট্রিন ও সেপটিক ট্যাংকে ৭২১ হাজার লিটার মানববর্জ্য উৎপাদিত হয়। যা হাতে করে (ম্যানুয়ালি) অপসারণ কর হয়। অনেক সময় পুঞ্জিভ‚ত মানববর্জ্য অপরিশোধিত উপায়ে জলপথ, নিচু জমিতে ফেলা হয়। ফলে এ বর্জ্য পরিবেশকে দূষিত করে এবং একই সাথে দরিদ্র জনগোষ্ঠির বেশীরভাগ মানুষকে স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে ফেলে।

জানা গেছে, নগরীর মানুষের উন্নতর পরিবেশে বসবাসের সুযোগ সৃষ্টি এবং নগরকেন্দ্রিক স্যানিটেশন আধুনিকায়নে ২০১৫ সালে খুলনা সিটি করপোরেশন (কেসিসি)’র রাজবাঁধে দরিদ্রবান্ধব ও ব্যবসাভিত্তিক একটি মানববর্জ্য শোধনাগার নির্মাণের উদ্যোগ নেয় এসএনভি নেদারল্যান্ডস ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন। প্রায় দুই কোটি টাকা ব্যয়ে ওই প্রকল্পে থাকে মানববর্জ্য পরিশোধনের জন্য ৬টি ইউনিট, পানি শোধনাগার, ড্রাইং বেড-৬ ইউনিট, অফিস বিল্ডিং, শোধনকৃত মানববর্জ্য ও উপকরণ বা তুলে ফেলা গাছ বা আগাছা রাখার স্থান ও ভ্যাকুটাগ পরিষ্কারের স্থান ইত্যাদি। দুটি প্রযুক্তি কন্সট্রাকটেড ওয়েটল্যান্ড ও ড্রায়িং বেড এর সমন্বয়ে শোধনাগারটি নির্মাণ ও পরিচালনায় কারিগরি সহায়তা প্রদান করে থাইল্যান্ডের এশিয়ান ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি এবং খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। ২০১৬ সালে শোধনাগারটির নির্মাণ কাজ শেষ হয়। এরপর চলতি বছরের মার্চ মাসে শোধনাগারটি চালু করা হয়েছে।

খুলনা সিটি করপোরেশনের কঞ্জারভেন্সি বিভাগের প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপক ও নির্বাহী প্রকৌশলী (যান্ত্রিক) মো. আব্দুল আজিজ বলেন, শহরে উন্নত স্যানিটেশনের মধ্যে রয়েছে ল্যাট্রিন ও সেপটিক ট্যাংক। এসব ল্যাট্রিন ও সেপটিক ট্যাংক থেকে মানবর্জ্যরে একটি বড় অংশ কোনো রকম ব্যবস্থাপনা ছাড়াই অপরিশোধিত উপায়ে জলপথ, নিচু জমিতে ফেলা হয়। যা পরিবেশকে দূষিত করে এবং একই সাথে দরিদ্র জনগোষ্ঠির বেশীরভাগ মানুষকে স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে ফেলে।

তাই নিরাপদ মানববর্জ্য ব্যবস্থাপনা এখন থেকে বাড়ি ও অফিসের ল্যাট্রিনের সকল মল করপোরেশনের অত্যাধুনিক ৬টি ভ্যাকুটাগ এর মাধ্যমে নির্দিষ্ট ওই শোধনাগারে ফেলা হবে। যার ফলে নগরবাসীর উন্নতর পরিবেশে বসবাসের সুযোগ তৈরি করবে।

তিনি আরও বলেন, প্রকল্পটি পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে শুধু নিরাপদ মানববর্জ্য ব্যবস্থাপনা নয়, পুঞ্জিভ‚ত বর্জ্য পরিশোধনের মাধ্যমে ব্যবসা ভিত্তিক কম্পোস্ট সার ও মাছের খাদ্য উৎপাদন করা যাবে। যার মাধ্যমে করপোরেশনের মোটা অঙ্কের টাকা রাজস্ব আয় হবে।

Loading...
loading...

ভিডিওটি দেখতে নিচে ক্লিক করুন



Loading...

About sylhet24 express

Check Also

৩৬তম বিসিএসের ফল প্রকাশ, ক্যাডার ২৩২৩

৩৬তম বিসিএসের ফল প্রকাশ, ক্যাডার ২৩২৩

অনলাইন ডেস্ক : ৩৬তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করেছে সরকারি কর্মকমিশন (পিএসসি)। আজ মঙ্গলবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *