Breaking News
loading...
Home / সমগ্র বাংলাদেশ / আখ সংকটে বন্ধ হচ্ছে মোবারকগঞ্জ সুগারমিল

আখ সংকটে বন্ধ হচ্ছে মোবারকগঞ্জ সুগারমিল

আখ সংকটে বন্ধ হচ্ছে মোবারকগঞ্জ সুগারমিল

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি : ঝিনাইদহের মোবারকগঞ্জ চিনিকল এলাকাতে কৃষকরা দিন দিন আখ চাষের আগ্রহ হারাচ্ছে। আখ চাষ কমে যাওয়ায় চিনিকলটি আখের অভাবে বন্ধ হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছে শ্রমিক কর্মচারীরা। তবে চাষিরা দাবি করেছে অন্য ফসলের তুলনায় দীর্ঘমেয়াদী এই ফসলের দাম কম থাকায় চাষীরা আখ লাগাচ্ছে না। যদি প্রতিমন আখ ১৫০ টাকা করা হয় তাহলে আখ চাষ বাড়বে। মিল কর্তৃপক্ষ বলছে, তারা আখচাষে কৃষকদের আগ্রহ বাড়াতে সব ধরনের উদ্যোগই নিচ্ছে । তার পরেও আখের দাম অন্য ফসলের তুলনায় কম থাকায় সেটা সম্ভব হচ্ছে না।

মোবারকগঞ্জ চিনিকল সুত্রে জানা যায়, গত ২০১০-১১ অর্থ বছরে প্রায় ১২ হাজার একর জমিতে আখ রোপনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারন করা হয়েছে। কিন্তু অর্জন হয়েছে মাত্র ৭ হাজার ৪৫৪ একর। ২০১১-১২ মৌসুমে লক্ষমাত্রা ছিল ১২ হাজার একর। অর্জিত হয় ৭ হাজার ৮০০ একর। ২০১২-১৩ মৌসুমে ১১ হাজার একর লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে অর্জিত হয় ৮ হাজার ৫০০ একর। ২০১৩-১৪ মৌসুমে ১১ হাজার একরের মধ্যে মাত্র ৩ হাজার ৩২৬ একর, ২০১৪-২০১৫ মৌসুমে ১০ হাজার একরের মধ্যে মাত্র ৪ হাজার ৮৮৩ একর ২০১৫-২০১৬ মৌসুমে ১০ হাজার ৫০০ একরের মধ্যে ৪ হাজার ৯৪১ একর এবং সর্বশেষ ২০১৬-১৭ মৌসুমে আখ রোপনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৯ হাজার একর। এ মৌসুমে অর্জিত হয়েছে ৬ হাজার ৮০ একর। গত ৭টি মাড়াই মৌসুমের তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় কোন মৌসুমেই আখ চাষের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়নি।

বেশ কয়েকজন আখ চাষীর সাথে কথা বলে জানা যায়, এক একর (৩বিঘা) জমিতে আখ চাষ করতে খরচ হয় প্রায় ৪০-৪৫ হাজার টাকা। এর মধ্যে রয়েছে জমি প্রস্তুত, সার, সেচ, লেবার, আখ মিলে আনা পর্যন্ত। এক একর জমিতে সর্বোচ্চ ফলন হলে ৬০০ থেকে ৭০০ মন আখ সংগ্রহ করা যায়। প্রতি মন আখ বিক্রি করা হয় ১১০ টাকা দরে। আখ চাষ করে তেমন লাভ করা যায না। কৃষকরা আরো জানান, বর্তমান সময়ে কৃষি জমি থেকে বছরে (ধান, ডাল জাতীয় ফসলসহ ) ৩ ধরনের ফসল উৎপাদন করা যায়। কিন্তু আখ একটি দীর্ঘমেয়াদী ফসল। এটিতে সময় লাগে প্রায় এক বছর। যে জমি থেকে বছরে ৩টি ফসল উৎপাদন করে বেশি টাকা আয় করা যায়। সেখানে আখ থেকে তেমন টাকা পাওয়া যায় না। কৃষকরা আরো জানান, আখ চাষ করতে লেবার প্রয়োজন হয়। এই এলাকাতে এখন আখ চাষের জন্য তেমন লেবার পাওয়াও যায় না। তারা দাবি করেন আখের মুুল্য যদি ১৫০ টাকা হতো তাহলে কৃষকরা আখ চাষে আগ্রহ দেখাতো।

মোবারকগঞ্জ চিনিকল আখ চাষী সমিতির সভাপতি জহুরুল ইসলাম জানান, তারা মিল কর্তৃপক্ষের সাথে বার বার দাবি জানাচ্ছেন আখের মুল্য বৃদ্ধি করতে।

মোবারকগঞ্জ চিনিকলের মহাব্যস্থাপক (কৃষি) সনজিত কুমার দত্ত জানান, মোবারকগঞ্জ চিনিকটি ৬ টি সাবজোনে বিভক্ত করা হয়েছে। সেখানে প্রতি সাবজোনে দুজন করে কর্মকর্তা ও ইউনিট পর্যায়ে একজন সিডিএ রয়েছে। মোবারকগঞ্জ চিনিকল এলাকার চাষীদের আখ চাষে উদ্বুর্দ্ধ করতে তারা কৃষকদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ,সভা,বেঠক,মাইকিং করে যাচ্ছে। তিনি আরো জানান, বাংলাদেশে একমাত্র আখচাষীরা বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা পেয়ে থাকে আখ লাগানোর জন্য। তাদের প্রযুক্তিগত,আখের বীজ,সার,সেচসহ নগদ সহযোগিতা করা হয়। তার পরেও এলাকার কৃষকরা আখ চাষে আগ্রহ দেখাচ্ছে না। সনজিত কুমার এর কারন হিসেবে বলেন, আখ একটি দীর্ঘমেয়াদী ফসল। মুলত এ এলাকায় যারা বড় চাষী আছেন তারা নিজেরা এখন আর তেমন জমি চাষ করেন না। অধিকাংশ জমির মালিক জমি বর্গা বা লিজ প্রদান করে দিয়েছেন। মুলত বর্গা চাষীরা দীর্ঘমেয়াদী ফসল করতে চান না। তারা অল্প সময়ে জমি থেকে অধিক লাভ পেতে চাই। তিনি আরো বলেন, কৃষকদের ইপুর্জি, আখ বিক্রির টাকা সাথে সাথে মোবাইলে প্রেরনসহ তাদের সার্বিক সহযোগিতা করছি। বর্তমানে একমণ আখের মুল্য ১১০ টাকা। তবে আগামী ২০১৬-১৭ অর্থ বছরে ১৫ টাকা বাড়িয়ে ১২৫ টাকা নির্ধারণ করেছে সরকার। এতে হয়তো আগামীতে কৃষকরা কিছুটা হলেও আখ চাষে আগ্রহ দেখাবে।

উল্লেখ্য : ঝিনাইদহ জেলার কালীগঞ্জ উপজেলা শহরের বলিদাপাড়ায় ১৯৬৫ সালে ৩ কোটি ৪৮ লাখ টাকা ব্যায়ে ১৮৯.৮১ একর নিজস্ব সম্পত্তির উপর নেদারল্যান্ড পদ্ধতিতে সরকার মোবারকগঞ্জ চিনিকলটি স্থাপন করেন। এই চিনিকলের মধ্যে ২০.৬২ একর জমিতে কারখানা, ৩৬.২২ একর জমিতে স্টাফদের জন্য আবাসিক কলোনী, ২৩.৯৮ একর জমিতে পুকুর ও প্রায় ১০০ একর জমিতে পরীক্ষামুলক ইক্ষু খামার স্থাপিত হয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকে এই সুগারমিলটি প্রায় ১৫০ কোটি টাকা লোকসান করেছে।

Loading...
loading...

ভিডিওটি দেখতে নিচে ক্লিক করুন



Loading...

About sylhet24 express

Check Also

ওসমানীনগরে পাঁচ মাসে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ১১

সিলেট অফিস : সিলেটের ওসমানীনগরে সড়ক দুর্ঘটনা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। গত পাঁচ মাসে সিলেট-ঢাকা …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *