Breaking News
loading...
Home / জাতীয় / সারাদেশে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি কয়েক লাখ মানুষ দুর্ভোগে

সারাদেশে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি কয়েক লাখ মানুষ দুর্ভোগে

সিলেট টুয়েন্টিফোর এক্সপ্রেস ডেস্ক :  বিভিন্ন জেলায় বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়ায় আশঙ্কায় রয়েছে বন্যা কবলিত মানুষ। নতুন করে প্লাবিত হচ্ছে বসতবাড়ি, ফসলি জমি ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। রাস্তাঘাট পানিতে তলিয়ে যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়ায় ত্রাণ সহায়তা পেতেও ভোগান্তিতে ভুক্তভোগীরা। আমাদের প্রতিনিধির পাঠানো সংবাদ তুলে ধরা হলো।

সিলেট : সিলেটে ভারী বৃষ্টিপাত ও উজান থেকে আসা পানিতে সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পাড় উপচে প্রতিদিনই নতুন প্লাবিত হচ্ছে। জেলার ১৩ টি উপজেলার মধ্যে ৮ টি উপজেলার ৫৫ টি ইউনিয়নে প্রায় ৫০০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এসব গ্রামের পানিবন্দি মানুষ মানবেতর জীবন যাপনের পাশাপাশি অনাহারে অর্ধাহারে দিন কাটাচ্ছে। বিশেষ করে বিশুদ্ধ পানি ও খাবার সংকটের কারণে বিপাকে পড়েছেন পানিবন্দি কয়েক লাখ মানুষ।
মৌলভীবাজার: মৌলভীবাজারে সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। জেলার পাঁচটি উপজেলার চার লক্ষাধিক মানুষ এখনও পানিবন্দী। কুশিয়ারা নদী, হাকালুকি, কাউয়াদীঘি ও হাইলহাওরে পানি বৃদ্ধির কারণে মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখা, জুড়ী, কুলাউড়া, রাজনগর ও সদর উপজেলার ৩৩টি ইউনিয়নে বন্যার সৃষ্টি হয়েছে।

কক্সবাজার : টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে নেমে আসা পানিতে কক্সবাজারের চকরিয়া, পেকুয়া, রামু ও সদরের শতাধিক গ্রামের ৩ লাখ মানুষ এখনো পানিবন্দী। বীজতলা বন্যায় তলিয়ে যাওয়ায় নিজেদের খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কায় আছেন কৃষক। তবে বন্যা মোকাবেলায় সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছে জেলা প্রশাসন।
বান্দরবান: টানা দুইদিনের ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে বান্দরবানের লামা- আলীকদম সড়কের কয়েকটি পয়েন্টে বন্যার পানিতে সড়ক যোগাযোগ বন্ধ। পানির নিচে তলিয়ে গেছে কয়েকশ’ বাড়িঘর, দোকানপাট ও সরকারি বিভিন্ন দপ্তর।
পাহাড় ধসের আশঙ্কায় সর্তকতা জারি করেছে প্রশাসন। পাহাড়ের নিচে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় বসবাসকারীদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে বলা হয়েছে।
আলীকদম উপজেলার নয়াপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফোগ্যা মার্মা জানান, বন্যায় তার ইউনিয়নসহ উপজেলার মংচা পাড়া, রোয়াম্ভু, বশির কারবারী পাড়া, যোগেন্দ্র পাড়া, মোস্তাক পাড়া, রেপার পাড়া বাজার পাড়া, ছাবের মিয়া পাড়া, আমতলীর চরসহ বেশ কিছু এলাকার কয়েক’শ ঘরবাড়ি বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়েছে। প্রায় দুই হাজারেরও বেশি মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে।

জয়পুরহাট : কয়েকদিনের টানা বর্ষন ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলে জয়পুরহাটের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। জেলার পাঁচবিবি, ক্ষেতলাল, আক্কেলপুর ও সদর উপজেলার কমপক্ষে ১০টি ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি গ্রামের মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। পানিতে তলিয়ে গেছে এক হাজার ২শ’ হেক্টর জমির রোপা আমন ও শাক-সবজি। ভেসে গেছে কমপক্ষে ৫শ’টি পুকুরের প্রায় ৫কোটি টাকার মাছ।

নাগেশ্বরী (কুড়িগ্রাম) : টানা বর্ষন ও ভারতের গজলডাঙ্গার সবকটি গেট খুলে দেওয়ায় উত্তরাঞ্চলে বন্যার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় কুড়িগ্রামের সকল নদ-নদীর পানি বিপদ সীমার ১১৮সে.মি. উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। নাগেশ্বরী চর বেরুবাড়ী রাস্তা ভেঙে কয়েকটি বাড়ি বিলিন হয়েছে। নাগেশ্বরী কুড়িগ্রাম মেইন রোডের কুমরপুর,পাটেশ্বরী, গোদ্ধারের পাড় সহ বিভিন্ন জায়গায় রাস্তা ভেঙ্গে যাওয়ায় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পরেছে। এদিকে প্রবল পানির স্রোতে পাগলীর ব্রীজ, মন্নেয়ার ব্রীজ, নুনখাওয়া ব্রীজ ভেঙে যাওয়ায় নাগেশ্বরীর সাথে ১০ইউনিয়নের যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে গেছে। অপরদিকে কয়েকদিনের প্রবল বর্ষনে জনজীবন বিপন্ন হয়ে পড়েছে।
কৃষি অফিস সুত্রে জানাযায় ৩০ হাজার ৬শ ২৫হেক্টর জমির সদ্য লাগানো আমন রোপা পানির নিচে তলিয়ে গেছে। দুধকুমর, গংগাধর, ফুলকুমর, সংকোস, ধরলা, ব্রম্মপুত্র এসব নদ-নদীর পানি হুহু করে বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রতিদিন নতুন এলাকা সহ শহরাঞ্চল প্লাবিত হচ্ছে। বন্যার পানিতে বাড়িঘর, রাস্তাঘাট ডুবে যাওয়ায় মানুষ পানিতে হেটে, ভেলায় চরে, নৌকায় করে ও গবাধি পশু এবং পরিবার পরিজনদের নিয়ে বাচার জন্য সম্বল টুকু নিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ে ছুটছে ।

সুন্দরগঞ্জ : কয়েক দিনের ভারি বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সুন্দরগঞ্জ উপজেলার ৯ ইউনিয়ন প্লাবিত হয়েছে। পানি বন্দি হয়েছে প্রায় ২১ হাজার পরিবার। নদী ভাঙ্গনে মুখে ২টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।
গত ৪ দিন ধরে একটানা ভারি বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢলে উপজেলার ৯ ইউনিয়নের প্লাবিত হওয়ায় ২১ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পরেছে। সেই সাথে দেখা দিয়েছে ব্যাপক নদী ভাঙন। তলিয়ে গেছে ২ হাজার হেক্টর আমন ক্ষেত। পানিবন্দি মানুষ গবাদি পশু হাঁস-মুরগী নিয়ে অতি কষ্টে দিনাতিপাত করছে। অনেকেই বাঁধে ও আশ্রয় কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়ে অবর্ণনিয় অভাব অনটনের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। বন্যা এলাকায় দেখা দিয়েছে খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানিয় জলের অভাব। কাপাসিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জালাল উদ্দিন সরকার জানান, প্রবল বর্ষণ ও বন্যার পানির তোড়ে ভাটি কাপাসিয়া, লালচামার এলাকায় নদী ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। হুমকির মুখে পড়েছে ২টি চর কাপািসয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও লাল চামার সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়। বানভাসি মানুষগুলো পরিবার পরিজন নিয়ে খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবন-যাপন করছে। হরিপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নাফিউল ইসলাম সরকার জিমি জানান, তার ইউনিয়নে ২ হাজার ৫’শ পরিবার পানি বন্দি হয়ে পরেছে। ছাপড়াহাটী ইউনিয়নের ২’শ পরিবার পানি বন্দি হয়ে পড়েছে। এ পর্যন্ত পানিবন্দিদের সরকারিভাবে কোন সহায়তা দেয়া হয়নি। উপজেলা কৃষি অফিস সুত্র জানায় বন্যায় ১৬’শ হেক্টর আমন ধান, ৪২ হেক্টর বীজতলা ৪৫ হেক্টর শাক সবজি নিমজ্জিত হয়েছে। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা নুরুন্নবী সরকার জানান, বন্যায় ৯ ইউনিয়নের ২১ হাজার পরিবার পানি বন্দি হয়ে পড়েছে। এ ৯ ইউনিয়ন হচ্ছে তারাপুর, বেলকা, দহবন্দ, হরিপুর, চন্ডিপুর, কাপাসিয়া, কঞ্চিবাড়ি, শ্রীপুর ও ছাপড়াহাটী। পানি বন্দি ২১ হাজার পরিবারের লক্ষাধিক মানুষ সীমাহীন দুর্ভোগে পড়েছে। তিনি আরও জানান, ক্ষয়ক্ষতির তালিকা নিরূপন করা হচ্ছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের সুন্দরগঞ্জ ইউনিটের এসও এটিএম মোনায়েম হোসেন জানান, সকালে সুনন্দরগঞ্জ এলাকায় ২৪ পয়েন্ট ৮৮ সেঃ মিঃ পানি বিরাজ করে। দুপুরে পানি বিপদ সীমার ২৪ সেঃ মিঃ নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

সারাদেশে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি কয়েক লাখ মানুষ দুর্ভোগে

নীলফামারী : চারদিনের ভারী বর্ষণে নীলফামারী জেলার হাজারো মানুষ পানি বন্দি হয়ে পড়েছে। ফলে ওই সকল পরিবারে দেখা দিয়েছে মানবিক বিপর্যয়। জেলার ডোমার, ডিমলা, জলঢাকা বিশেষ করে তিস্তা অববাহিকা এলাকায় পানি বন্দির কবলে পরে সরকারি চকুরীজীবি হতে কর্মজীবি দিনমজুর মানুষের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে এবং অর্ধশতাধিক গ্রামের হাজারো মানুষ পানি বন্দি হয়ে পরেছে। এদিকে সৈয়দপুর উপজেলার হাজারী দোয়ালীপাড়া, কাশিরাম ইউনিয়নে ডিক্সোমোল­াপাড়ায় পানি উঠেছে। সৈয়দপুর পার্শ্ববর্তী পার্বতীপুর উপজেলার রাবেয়া মিল সোনাপুকুর এলাকায় পানি বন্দি হয়ে পড়েছে অনেক মানুষ। ওই সকল মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে স্থানীয় স্কুলগুলোতে অবস্থান করছে। এদিকে যোগাযোগ ব্যবস্থা একেবারেই নাজুক হয়ে পড়েছে। কিছু কিছু এলাকায় পানিবাহীত রোগ দেখা দিয়েছে।

উলিপুর (কুড়িগ্রাম) : কুড়িগ্রামের উলিপুরে অতিবৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে নদী অববাহিকা এলাকায় বন্যা দেখা দিয়েছে। গত ৪ দিনের অবিরাম বর্ষন ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে তিস্তা ও ব্রহ্মপূত্র নদের পানি বৃদ্ধিতে আবারও বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ব্রহ্মপূত্র নদ অববাহিকার সাহেবের আলগা ইউনিয়নের ৫২টি চর প্লাবিত হয়ে প্রায় ৪ হাজার পরিবারের ১৭ হাজার মানুষ পানিবন্ধি হয়ে পড়েছে। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় ঐ ইউনিয়নের চর ও দ্বীপচর গুলি তলিয়ে গিয়েয়েছে বলে চেয়ারম্যান সিদ্দিক মন্ডল জানান। বেগমগঞ্জ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বেলাল হোসেন জানান, ব্রহ্মপূত্র অববাহিকার ২০ টি গ্রাম প্লাবিত হওয়ায় ৩ হাজার পরিবারের প্রায় ১৪ হাজার মানুষ পানিবন্ধি হয়ে পড়েছে। হাতিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বিএম আবুল হোসেন জানান, চরগুজিমারী, চর দাগারকুটি, বাবুরচর, গাবুরজান, নয়াডারা, শ্যামপুর, তাঁতিপাড়া, হাতিয়া ভবেশ,অনন্তপুর সহ নদী অববাহিকার বেশিরভাগ গ্রাম তলিয়ে গেছে। এসব গ্রামের ২ হাজার পরিবারের প্রায় ৭ হাজার মানুষ পানিবন্ধি হয়ে পড়েছে।

Loading...
loading...

ভিডিওটি দেখতে নিচে ক্লিক করুন



Loading...

About sylhet24 express

Check Also

ভয়াবহ সংকটে ৩ লাখ ৪০ হাজার রোহিঙ্গা শিশু : ইউনিসেফ

ভয়াবহ সংকটে ৩ লাখ ৪০ হাজার রোহিঙ্গা শিশু : ইউনিসেফ

নিজস্ব প্রতিবেদক : জাতিসংঘের শিশুবিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ জানিয়েছে, বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া ছয় লাখ রোহিঙ্গার মধ্যে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *