Breaking News
loading...
Home / জাতীয় / সোনালি আঁশের দেশে রূপান্তরের উদ্যোগ ৩০ লাখ পাটের পলিব্যাগ তৈরির টার্গেট

সোনালি আঁশের দেশে রূপান্তরের উদ্যোগ ৩০ লাখ পাটের পলিব্যাগ তৈরির টার্গেট

সোনালি আঁশের দেশে রূপান্তরের উদ্যোগ  ৩০ লাখ পাটের পলিব্যাগ তৈরির টার্গেট
সোনালি আঁশের দেশে রূপান্তরের উদ্যোগ ৩০ লাখ পাটের পলিব্যাগ তৈরির টার্গেট

রতন বালো : বাংলাদেশকে আবারও পাটের হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছে সরকার। পাটকে সোনালি আঁশের দেশ হিসেবে রূপান্তর করার জন্য পাটের ব্যাগ তৈরি করা হচ্ছে। এ ছাড়া বিশেষ করে পাট থেকে পলিথিনের বিকল্প পচনশীল পলিব্যাগ তৈরি করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
২০১৮ সালের প্রথমেই প্রতিদিন ৩০ লাখ পাটের পলিব্যাগ বাণিজ্যিকভাবে বাজারে আসবে। পর্যায়ক্রমে এর সংখ্যা আরও বৃদ্ধি করার টার্গেট নেওয়া হয়েছে বলেও পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।

জানা গেছে, পাটের পলিব্যাগ দেখতে অবিকল বাজারে প্রচলিত পলিথিনের মতোই। এটি টেকসই, হালকা আর পাতলা। ব্যবহারের পর ফেলে দিলে মিশে যাবে মাটির সঙ্গে। পুড়িয়ে ফেললে ছাই-ভস্মে পরিণত হবে। এ পাটের পলিব্যাগের উদ্ভাবক বাংলাদেশ পাটকল করপোরেশনের (বিজেএমসি) প্রধান বৈজ্ঞানিক উপদেষ্টা ও বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি গবেষণা কেন্দ্রের সাবেক মহাপরিচালক ড. মোবারক আহমদ খান। তার তত্ত¡াবধানে উদ্ভাবিত পলিব্যাগ পাইলট প্রকল্প পর্যায়ে উৎপাদনের উদ্যোগ নিয়েছে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের অধীনস্ত প্রতিষ্ঠান বিজেএমসি।

ড. মোবারক আহমদ খান বলেছেন, পাট পলিব্যাগ শুধু বাংলাদেশেই নয়, পুরো বিশ্বেই নতুন। এর মেশিনপত্র নির্দিষ্ট কোন দেশে বানানো নেই। একেক দেশ থেকে একেকটি যন্ত্রপাতি সংগ্রহ করায় কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে। এরপরেও আশা করছি ২০১৮ সাল নাগাত প্রতিদিন ৩০ লাখ পাট পলিব্যাগ বাণিজ্যিকভাবে বাজারে আসবে। পর্যায়ক্রমে টার্গেটও বাড়বে বলে তিনি জানান।

তিনি আরও জানান, পচনশীল ও পরিবেশবান্ধব পলিব্যাগ তৈরির উদ্দেশে পাট থেকে সেলুলোজ আহরণ করা হয়। ওই সেলুলোজকে প্রক্রিয়াজাত করে অন্যান্য পরিবেশবান্ধব দ্রব্যাদির মাধ্যমে কম্পোজিট করে এ ব্যাগ তৈরি করা হয়। উৎপাদিত ব্যাগে ৫০ শতাংশের বেশির ভাগ সেলুলোজ বিদ্যমান। এতে কোনো প্রকার অপচনশীল দ্রব্য ব্যবহার হয় না বিধায় এটি দুই থেকে তিন মাসের মধ্যেই সম্পূর্ণরূপে মাটির সঙ্গে মিশে যায়।

জানা গেছে, আশির দশক থেকে বাংলাদেশে পলিথিন ব্যাগের ব্যবহার শুরু। পলিথিনের অতি ব্যবহারের কারণে ১৯৯৮ সালের বন্যায় রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন শহরে পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। ফলে পলিথিন নিষিদ্ধের দাবি জোরালো হয়। পরে ২০০২ সালে পলিথিন ব্যাগ উৎপাদন, বাজারজাত ও বিক্রি নিষিদ্ধ করা হয়। ২০০৭ সাল থেকে পলিথিন নিয়ে নজরদারি শিথিল হয়ে পড়লে আবার ব্যাপক হারে বাড়তে থাকে এর ব্যবহার। বর্তমানে বাজার সয়লাব হয়ে আছে পলিথিনে বলে জানা গেছে।

তবে প্রথমে পাট পলি ব্যাগের দাম একটু বেশি হলেও কমার্শিয়াল পর্যায়ে পাট পলিথিব ব্যাগ তৈরির কারখানা হলে দাম কমে যাবে বলে জানিয়েছেন পাট ও বস্ত্র প্রতিমন্ত্রী মির্জা আজম। তিনি বলেছেন, আগামী ৬ মাসের মধ্যে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে পাটের পলিথিন উৎপাদন শুরু করা হবে।

তিনি জানান, সরকারের পাশাপাশি বেসরকারিভাবেও এই ব্যাগ উৎপাদনে উৎসাহ দেওয়া হবে। দেশের চাহিদা পূরণ করে বিদেশেও রপ্তানি হবে এই ব্যাগ। বাজারে যে পলিথিন ব্যাগ আছে তার চেয়ে দেড়গুণ বেশি টেকসই এবং ব্যবহার স্বাছন্দ্য পাওয়া যাবে এই পাটের পলিথিনে।

পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিস্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পাট দিয়ে তৈরি পলিথিন ব্যাগ অবিকল বাজারে প্রচলিত পলিথিনের মতোই। তবে টেকসই বেশি। হালকা আর পাতলা। ব্যবহারের পর ফেলে দিলে মিশে যাবে মাটির সঙ্গে। পুড়িয়ে ফেললে ছাই-ভস্মে পরিণত হবে। অসম্ভবকে সম্ভব করে পরিবেশবান্ধব পাটের পলিথিন ব্যাগ তৈরি করেছেন বাংলাদেশের বিজ্ঞানীরা।

বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, বর্তমানে বাজারে যেসব পলিব্যাগ ব্যবহৃত হচ্ছে তার সবগুলোই মানব স্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকি স্বরূপ। এ অবস্থা অব্যাহত থাকলে নিশ্চিত পরিবেশের বিপর্যয় ঘটবে। পলিথিন ব্যাগের এই বিপর্যয় থেকে পরিবেশকে রক্ষা করতে বাজারে আসছে পাটের পলিথিন ব্যাগ। অর্থাৎ পলিথিন ব্যাগে বিকল্প হিসেবে পাটের পলিথিন বাজারে পাওয়া যাবে।

বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব রেজাউল কাদের জানিয়েছেন, বাজারে পলিথিন ব্যাগের চাহিদা রয়েছে। সেই চাহিদা পূরণে পাট পলিথিন যদি প্রোডাকশনে আসে তাহলে বাজারে ব্যাপক সাড়া পড়বে। তিনি বলেন, ক্রেতা বাজারে গিয়ে মাছ কিংবা সবজি কিনবে তখন পাটের ব্যাগ ব্যবহার করতে চাই তো না। পলিথিন ব্যাগ ব্যবহার করে। এখন ক্রেতারা বাজারে গিয়ে পাটের পলিথিন ব্যবহার করবে।

জানা যায়, বর্তমানে প্রচলিত অপচনশীল পলিথিন ব্যাগ নালা-নর্দমায় আটকে মারাত্মক পরিবেশ দূষণ ঘটিয়ে চলেছে। বাংলাদেশে পরিবেশ দূষণের অন্যতম কারণ পলিথিন। কড়া শাস্তির আইন করে এটি নিষিদ্ধ করা হলেও রোধ করা যাচ্ছে না এর উৎপাদন ও ব্যবহার। কারণ বাজারে পলিথিনের কোনো বিকল্প ছিল না। বাজারে প্রচলিত পলিথিন আসলে পলিইথাইলিন। বর্তমানে দুই ধরনের পলিথিন উৎপাদিত হয়কম ঘনত্বের নরম পলিথিন এবং উচ্চ ঘনত্বের পলিথিন। পলিথিন তৈরির কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত হয় অপরিশোধিত খনিজ তেল। এই পলিথিন মাটি কিংবা পানিতে শত শত বছর পড়ে থাকলেও ধ্বংস হয় না। এ সময়ে এটি ছড়ায় পরিবেশ ও মানুষের জন্য ক্ষতিকর নানা উপাদান।

পাট ও বস্ত্র মন্ত্রী মুহা: ইমাজ উদ্দিন প্রামাণিক বলেছেন, বাংলাদেশকে আবারও সোনালি আঁশের দেশ হিসেবে রূপান্তর করে পাটের হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছে সরকার । জুট ডাইভারসিফিকেশন প্রমোশন সেন্টার’ (জেডিপিসি)তে বহুমুখী পাটপণ্যের প্রদর্শনী ও বিক্রয় কেন্দ্রের উদ্বোধন করার মাধ্যমে এটা আবারও প্রমাণিত হলো ।

তিনি বলেন, পণ্যে পাটজাত মোড়কের বাধ্যতামূলক ব্যবহার আইন-২০১০ সুষ্ঠুভাবে শতভাগ বাস্তবায়ন করা হয়েছে । অতি দ্রুত আরো ১১টি পণ্য মোড়কীকরণের ক্ষেত্রে পাটজাত পণ্যের ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। এ ছাড়াও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পাটকে কৃষিপণ্য হিসেবে ঘোষণা করেছেন বলে ইমাজ উদ্দিন জানান।

Loading...
loading...

ভিডিওটি দেখতে নিচে ক্লিক করুন



Loading...

About sylhet24 express

Check Also

সংসদে

সরকারি চাকরিতে প্রবেশে বয়সসীমা বাড়ছে না

অনলাইন ডেস্ক : সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়স বাড়িয়ে ৩৫ বছর করার কোনো পরিকল্পনা আপাতত সরকারের নেই …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *