loading...
Home / সমগ্র বাংলাদেশ / আসন্ন ঈদ ব্যস্ত জয়পুরহাটের কামারপল্লী

আসন্ন ঈদ ব্যস্ত জয়পুরহাটের কামারপল্লী

জয়পুরহাট প্রতিনিধি : আসন্ন পবিত্র ঈদ-উল-আযহা, একটু বেশি ব্যস্ত হয়ে পড়েছে জয়পুরহাটের কামারপল্লী। বছরের ১২ মাসই লাগাছাড়া ব্যস্ত থাকেন এ পল্লীর বাসিন্দারা। গড়ে বছরে ১২ মাসের ১০ মাসই প্রচুর ব্যস্ত সময় পার করতে হয় তাদেরকে। এমনটাই উল্লেখ করে জয়পুরহাট জেলার সদর উপজেলার দোগাছী ইউনিয়নের অন্তর্গত দূর্গাদহ বাজার সংলগ্ন ছোট যমুনা নদীর তীর ঘেষে গড়ে ওঠা পুরনো এই কামারপল্লীর সম্প্রতী সময়ে সুদক্ষ ও নিপুন কারীগর হিসেবে পরিচিত।

নর উত্তম কর্মকার (ঘক) কারীগর বলেন, দিন বদলে গেছে সবখানে আধুনিকতার ছোঁয়া। তাই পিছিয়ে নেই কামারপল্লীও। প্রতি বছরের মতো এবছরও ঈদ-উল-আযহাকে ঘিরে তারা একটু বেশি ব্যস্ত সময় পার করছেন। ২৪ ঘন্টাই যেন লোহা কাটা লোহা পেটার টুংটাং শব্দের মুখরিত এই লোহাপল্লী। এ পল্লীতে ৩৭ ঘর বসতির মধ্যে ২৫ জনই এখন এ পেশার দক্ষ কারীগর। পেশার একাল-সেকাল নিয়ে আলাপকালে আরেক দক্ষ কারীগর মদন কর্মকার বলেন, জীবন জীবিকার তাগিদেও পুরনো ঐতিহ্য ধরে রাখতে বাপ দাদার আদি পেশায় নিয়োজীত আছি। দৃষ্টিনন্দন-সুরুচী সম্পন্ন নীপুন হাতে লোহার যাবতীয় সামগ্রী তৈরী করে এ জেলার স্থানীয় বাজার চাহিদা পূরনের পাশাপাশি রপ্তানী হচ্ছে দেশের বিভিন্ন জেলা ও অঞ্চলে।

এ পল্লীতে দা,বটি,হাসুয়া, কুড়াল, কোঁদাল, কাঁচী, চাকু, চাপাতি দা, যাঁতী, হাঁসকল মাছ শিকারের পাঁচা, স্বর্ণালংকার তৈরীর যন্ত্রপাতি গ্রিল যন্ত্রপাতিসহ প্রায় ১০০ আইটেম লোহার সামগ্রী তৈরী করা হয়। যা স্থানীয় বাজার পেরিয়ে এখন উত্তরাঞ্চলের হিলি, দিনাজপুর, ফুলবাড়িসহ দেশের কুমিল্লা,ফেনি, চট্ট্রোগ্রাম, ঢাকা ও সিলেট জেলায় এখানকার মালামাল রপ্তানী হচ্ছে। প্রতিবছর দেশের বিভিন্ন জেলায় যে মালামাল রপ্তানী হয়ে থাকে তা রপ্তানী বাজার মূল্য প্রায় সাড়ে তিন কোটি টাকা।

বর্তমানে কামারপল্লী সবচেয়ে প্রবীন ব্যাক্তি নীপেন্দ্রনাথ কর্মকার বয়স ৮০/৮৫ লোহার কারীগর হিসেবে এ পেশায় তিনি ৫০ বছর। বললেন, নানান অভিজ্ঞতার কথা। আধুনিকতার পাল্লায় সবাই এগিয়ে, তবে কামারপল্লীর তৈরী লোহার সামগ্রীর বিকল্প তেমন কিছু এখনও বাজারে না আসায় তারা এখনো টিকে আছে। খুব ভালো কিছু করতে পারেননি বটে দু-বেলা দু-মুঠো খেয়ে সুখেই আছেন তারা উল্লেখ করে তিনি আক্ষেপের সাথে বলেন, কী আর ভালো থাকবো, যা আয় করি তার সিংহ ভাগই যায় এনজিও’র পেটে। লোহার দাম বেশি বর্তমানে ১শ কেজি লোহার দাম প্রায় ৮ হাজার টাকা। ব্যবসা করার মতো নিজস্ব কোন পুঁজি নাই।

তাই দীর্ঘদিন ধরে গ্রামীন ব্যাংক,আশা,ব্রাক,ঠেঙ্গামারা, পল্লী দারিদ্র বিমোচন সহ এধরনের নানা এনজিও’র কাছ থেকে চড়া সূদে ঋণ নিয়ে ব্যবসা করতে হয়। সরকার যদি আমাদেরকে সুদ মুক্ত অথবা স্বল্প সুদে ক্ষুদ্র ঋণ দিয়ে সহযোগিতা করতো তাহলে আমরা ব্যবসায়ীভাবে হয়তো ভালো কিছু করতে পারতাম এবং হয়তো ভালোও থাকতাম। কিন্তু আমাদেক নিয়ে কেউ ভাবেনা? কামার পল্লীতে জন্ম হলো, লোহা পিটে জীবন গেলো।

loading...

About sylhet24 express

Check Also

দক্ষিণ সুরমা থানায় নিরাপত্তা চেয়ে মুক্তিযোদ্ধা সন্তানের জিডি

দক্ষিণ সুরমা থানায় নিরাপত্তা চেয়ে মুক্তিযোদ্ধা সন্তানের জিডি

সিলেট অফিস : ভবিষ্যত আইনী নিরাপত্তা চেয়ে চাঁদাবাজ টিপুর বিরুদ্ধে জিডি করেছেন একজন মুক্তিযোদ্ধা সন্তান। দক্ষিণ …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *