loading...
Home / জাতীয় / ডিএনসিসির অধিকাংশ এলাকার মানুষ এখনোও জলাবদ্ধতা

ডিএনসিসির অধিকাংশ এলাকার মানুষ এখনোও জলাবদ্ধতা

ডিএনসিসির অধিকাংশ এলাকার মানুষ এখনোও জলাবদ্ধতা
ডিএনসিসির অধিকাংশ এলাকার মানুষ এখনোও জলাবদ্ধতা

রাসেল খান : অবিরাম বৃষ্টি ঝরেছে বেশ কয়েকদিন ধরে। এখনো সেই বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে আছে রাজধানীর দক্ষিণখান ও তুরাগের বেশিরভাগ রাস্তাঘাট। পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। এখন বৃষ্টি না থাকলেও রাস্তায় জমে থাকা পানি । তুরাগের ৩৩ গ্রামের প্রায় ২০ হাজারের ও বেশি মানুষ এখনো খানাখন্দ এবং পানিবন্দির মধ্যো দিয়ে জিবন যাপন করছেন। এক যুগেরও বেশি সময় এলাকাবাসীর চলাচলের প্রধান ও শাখা রাস্তাগুলো সংস্কার না করায় ছোট-বড় অনেক খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে।

এসব খানাখন্দে পানি জমলে সেগুলো সহজে নামতে চায় না। জসিমউদ্দিন রোড পাকারমাথা থেকে বাউনিয়ার প্রধান সড়ক, উত্তরার ১৪ নাম্বার সেক্টর পশ্চিম মাথা থেকে পাকুরিয়া, যাত্রাবাড়ী, তারারটেক এবং ১২নং সেক্টর খালপাড় থেকে দিয়াবাড়ী বটতলা ও ১২নং সেক্টর খালপাড় থেকে নলভোগ নয়ানগর কামারপাড়ার প্রধান সড়ক বেশ কয়েক বছর যাবৎ কোন সংস্কার না করায় বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। কর্তৃপক্ষকে বারবার জানানোর পরও এ সমস্যার সমাধান মিলছে না এলাকাবাসির। ইউনিয়ন পরিষদ নেতারা বলছেন, এইসব এলাকা ঢাকা উত্তর সিটি করপোশনের (ডিএনসিসি) আওতায় চলে গেছে। নতুন যারা দায়িত্ব পাবেন তারা সংস্কার করবেন।

ইতি মধ্যে ঢাকা উত্তরের সকল ইউনিয়নকে ভেঙ্গে সিটি করপোরেশনে আওতায় আনা হয়েছে সে সব হলো ওয়ার্ড-৪৫ উত্তরখান (দক্ষিণ অংশ) ও উত্তরখান (উত্তর অংশ)। ওয়ার্ড-৪৬ বাবুর পাড়া, বড়বাগ, ওজাপাড়া, রাজাবাড়ী, মুন্ডা, পুলার টেক, ভাটুলিয়া, মাউছাইদ, বাদুরীপাড়া, চানপাড়া, ফৌজারবাড়ী, গোবিন্দপুর, খঞ্জুরদিয়া, কমুদখোলা, মৈনার টেক, নিনিরটেক, নোয়াখোলা, সাওরার টেক, উজানপুর। ওয়ার্ড-৪৭ ফায়দাবাদ, কোটবাড়ী, মৌশাইর, চালাবন।

ডিএনসিসির অধিকাংশ এলাকার মানুষ এখনোও জলাবদ্ধতা
ডিএনসিসির অধিকাংশ এলাকার মানুষ এখনোও জলাবদ্ধতা

ওয়ার্ড-৪৮ দক্ষিণখান, সোনার খোলা, হলান, আনল, বরুয়া, জামুন, জামুন।ওয়ার্ড-৪৯ কাওলার, আশকোনা ও গাওয়াইর। ওয়ার্ড-৫০ মোল্লারটেক, ইরশাল, আজমপুর। ওয়ার্ড-৫১ উত্তরার সেক্টর-১১, সেক্টর-১২, সেক্টর-১৩, সেক্টর-১৪। ওয়ার্ড-৫২ বাইলজুড়ী, দলিপাড়া, আহালিয়া, পাকুরিয়া, বাউনিয়া, বাদালদী, উলুদাহা, চান্দুরা, তাফলিয়া, মান্দুরা, ষোলাহাটী। ওয়ার্ড-৫৩ নলভোগ, নয়ানগর, শুক্রাভাঙ্গা, ধরাঙ্গারটেক, পুরানকালিয়া, শেখদিরটেক, ডিয়াবাড়ী, তারারটেক, নিমতলীরটেক, চন্ডালভোগ, রানাভোলা, ফুলবারিয়া, বামনারটেক। ওয়ার্ড-৫৪ রোশাদিয়া, খায়েরটেক, কামারপাড়া, ভাটুলিয়া, নয়ানীচালা, রাজাবাড়ী, ধউর, আশুতিয়া, গ্রাম ভাটুলিয়া। এ সব এলাকার মানুষ পানি বন্দি হয়ে পরেছে

বিমানবন্দরের উল্টোদিকে দক্ষিণখানের সীমানা শুরু। স্টেশনঘেঁষা রাস্তাটি কসাইবাড়ি রেলক্রসিংয় পেরিয়ে গেছে দক্ষিণখান। দৈনন্দিন নানা প্রয়োজনে এই রাস্তা ব্যবহার করেন দক্ষিণখান, কসাইবাড়ি, গাওয়াইর, নগরিয়া বাড়ি ও মোল্লার টেকের বাসিন্দারা। ফলে তাদের যাতায়াতের নিত্যসঙ্গী হয়ে আছে কাদাপানির দুর্ভোগ। দক্ষিণখানের এক বাসিন্দা ব্যাংক কর্মকর্তা রেজাউল হাসান এই পথে প্রতিদিন মতিঝিলে অফিসে যাতায়াত করেন। তিনি বলেন, এমনিতেই প্রতিদিন বাসা থেকে অফিসে যাওয়ার পথে যানজটের ভোগান্তি পোহাতে হয়।

ডিএনসিসির অধিকাংশ এলাকার মানুষ এখনোও জলাবদ্ধতা

তার ওপর বৃষ্টি-বাদলের দিনে বাসা থেকে রাস্তায় বেরোলেই হাঁটুপানি। দীর্ঘ সময় এই সড়ক প্রাণহীন হয়ে পড়ে থাকলেও সংস্কারের উদ্যোগ নেই কর্তৃপক্ষের। উত্তরা ইউনিভার্সিটির এক ছাত্র লিটন জানান, এক ঘণ্টার বৃষ্টিতে এই রাস্তায় হাঁটুপানি জমে যায়। তখন রিকশা-অটোরিকশা উল্টে পড়ে। এমনকি শুকনো মৌসুমেও খানাখন্দকের কারণে দুর্ঘটনা ঘটে। মোল্লারটেক এলাকার বাসিন্দা শুক্কুর আলী বলেন, আমরা ১৯৯৫ সাল থেকে এই এলাকায় আছি। এই ২২ বছর ধইরা রাস্তাটি এমুনই দেখতাছি। বৃষ্টির দিনে রাস্তায় যেন দুর্ঘটনা না ঘটে সে জন্য আমরা মাঝে-মধ্যে বালু-সুরকি-মাটি দিয়ে গর্ত ভরাট করি।

উত্তর সিটি করপোরেশন থেকেও দক্ষিণখানের বেশ কয়েকটি রাস্তাঘাট চলাচলের প্রায় অনুপোযোগী বলে জানানো হয়েছে সে গুলো হলো সেকান্দার মার্কেট থেকে দক্ষিণখান, মাঝে গাওয়াইর- নগরিয়াবাড়ি, আজমপুর থেকে শাহ কবির মাজার রোড, আবদুল্লাহপুর থেকে আটিপাড়া, আশকোনা হজক্যাম্প থেকে দক্ষিণখান, কাওলার-শিয়ালখাল হয়ে দক্ষিণখান, দক্ষিণখান বাজার-শাহ কবির মাজার হয়ে আটিপাড়া এবং দক্ষিণখান-বরুয়া সড়ক। ওই এলাকার প্রধান গণপরিবহন ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক এসব সড়কে ঠিকমতো চলাচল করতে পারে না।

এ বিষয়ে দক্ষিণখান আদর্শ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তোফাজ্জল হোসেন বলেন, জনদুর্ভোগ লাঘবে সব সময় চেষ্টা করে যাচ্ছি। এলাকার পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা খারাপ থাকায় এ অবস্থার তৈরি হয়েছে। এটা আমার সাধ্যের বাইরে। তারপরও আমি চেষ্টা করে যাচ্ছি।’

সরেজমিন তুরাগে গিয়ে দেখা যায়, টানা বৃষ্টিতে সেখানকার বেশিরভাগ এলাকা জলাবদ্ধ। পানিতে থৈ থৈ করছে তুরাগের অনেক এলাকা। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন তুরাগের হরিরামপুর ইউনিয়নের ৩৩ গ্রামের মানুষ। খানাখন্দে ভরা বেশিরভাগ রাস্তা ডুবে থাকায় পথে পথে বিকল হচ্ছে গাড়ি। বেশ কয়েকটি স্থানে রিকশা উল্টে আহত হয়েছেন অনেক যাত্রী। যানবাহন চলে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে। কসাইবাজার থেকে শুরু করে এক কিলোমিটারের বেশি সড়কের পুরোটাই এবড়োখেবড়ো, খানাখন্দে ভরা।

ডিএনসিসির অধিকাংশ এলাকার মানুষ এখনোও জলাবদ্ধতা

এদিকে, আরেক গনবসতি এলাকা তুরাগের হরিরামপুর ইউনিয়ন। এই ইউনিয়নের রাস্তাঘাটও পানির নিচে। খানাখন্দে ভরা বেশিরভাগ রাস্তা ডুবে থাকায় বিকল হচ্ছে গাড়ি। গতকাল সকালে তুরাগের নলভোগ, তারারটেক, ফুলবাড়িয়া, দলিপাড়া, বাদালদী, বাউনিয়া গ্রাম পরিদর্শন করে এ চিত্র দেখা গেছে।

এলাকাবাসীর মতে, রাস্তাগুলো দীর্ঘদিন সংস্কার না করায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। উত্তরা ট্রাক মালিক সমিতির সভাপতি হাজী মো. আবুল হাসেম বলেন, তুরাগের ৪ নম্বর ওর্য়াডে নলভোগ ও তারারটেক গ্রামের প্রধান সড়ক দীর্ঘদিন সংস্কার করা হয়নি। ফলে রাস্তায় পানি জমে আছে। পুরো রাস্তাঘাটই যেন তুরাগ নদ হয়ে গেছে। এটি দ্রæতগতিতে সংস্কার করা দরকার। বাদালদী গ্রামের একাদিক স্থায়ী বাসিন্দা আব্দুল হাকিম, সানোয়ার, আবুল কাশেম জানান, গত কয়েকদিন ধরে ভাড়ি বর্ষণে ফলে দলিপাড়া-বাদালদী,বাউনিয়া এলাকার সড়কে যানবাহন চলাচলে অনেকটা সমস্যা হচ্ছে। প্রায় আধা কিলোমিটার রাস্তা খানাখন্দ ভরে গেছে। বাদালদী এলাকার এক ব্যবসায়ীরা বলেন, প্রবল বৃষ্টিপাত ও ভারী বর্ষণের কারণে এলাকার কাঁচা-পাকা সড়কে হাঁটুপানি জমে যায়। দেখে মনে হয় কোন এক নদী ফলে প্রায় ২০ থেকে ২৫ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

এ ব্যাপারে হরিরামপুর ইউপি চেয়ারম্যান আবুল হাশিম জানান, আমার ইউনিয়ান পুরোটাই ঢাকা উত্তর সিটি করপোশনের (ডিএনসিসি) মধ্যে নিয়ে গেছে। নতুন যারা দায়িত্ব পাবে তারা সংস্কার করবে। তার কিছুই করার নেই।

Loading...
loading...

ভিডিওটি দেখতে নিচে ক্লিক করুন



Loading...

About sylhet24 express

Check Also

৩৬তম বিসিএসের ফল প্রকাশ, ক্যাডার ২৩২৩

৩৬তম বিসিএসের ফল প্রকাশ, ক্যাডার ২৩২৩

অনলাইন ডেস্ক : ৩৬তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করেছে সরকারি কর্মকমিশন (পিএসসি)। আজ মঙ্গলবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *