Breaking News
loading...
Home / জাতীয় / বাধাগ্রস্ত হচ্ছে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানসমূহ

বাধাগ্রস্ত হচ্ছে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানসমূহ

বাধাগ্রস্ত হচ্ছে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানসমূহ

রতন বালো : নানাভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানসমূহ। অনিয়মই সেখানে প্রধান সেবা। ১১টি সিটি করপোরেশন, ৪ হাজার ৫৫৩টি ইউনিয়ন পরিষদসহ স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান সমূহে সুষ্ঠুভাবে সেবা দিচ্ছে না। কিন্তু আদায় করা হচ্ছে মাশুল। এ অনৈতিক কর্মকাণ্ড স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোতে করা হচ্ছে।
স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান সমূহে এসব অনিয়ম ও দুর্নীতি প্রাধান্য পাচ্ছে। এসব প্রতিষ্ঠানসমূহে কর্মকর্তাদের প্রত্যেকেই কোনো না কোনো ভাবে ইচ্ছায় বা অনিচ্ছায় দুর্নীতির সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছেন। যার কারণে প্রতিষ্ঠানগুলোর অনেক সাফল্য ও অর্জনও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলো জনগণের মৌলিক অধিকার, দৈনন্দিন জীবন যাপন ও আর্থ সামাজিক কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ ভ‚মিকা রাখে। তাই এসব প্রতিষ্ঠান থেকে দুর্নীতির দুষ্টচক্র দূর করতে না পারলে সরকারের উলে­খযোগ্য অর্জনগুলোও মলিন হয়ে যাবে। সম্প্রতি ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) এর এক জড়িপ প্রতিবেদনে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৪ হাজার ৫৫৩টি ইউনিয়ন পরিষদ, ৪৯০টি উপজেলা পরিষদ, ৬৪টি জেলা পরিষদ, ৩২৪টি পৌরসভা, ১১সিটি করপোরেশন ও পাহাড়ি অঞ্চলের জন্য একটি পার্বত্য জেলা আঞ্চলিক পরিষদ (পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ) রয়েছে। স্থানীয় সরকার এসব প্রতিষ্ঠান সমূহ নাগরিকদের বিভিন্ন ধরনের সনদ প্রদান, সামাজিক নিরাপত্তা মূলক কর্মসূচির অধীনে বিভিন্ন সেবা, বিচার ও সালিশ সেবা দেওয়া, কর সংগ্রহ, বিভিন্ন ধরনের লাইসেন্স প্রদানসহ ইত্যাদি সেবা দিয়ে থাকে। এ সকল সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষ বিভিন্ন ধরনের দুর্নীতি ও অনিয়মের শিকার হয়।

জানা গেছে, পার্বত্য জেলা আঞ্চলিক পরিষদ ছাড়া অন্যান্য স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান সমূহের মধ্যে ইউনিয়ন পরিষদ ৮৫ দশমিক ৫ শতাংশ, পৌরসভা ৮ দশমিক ৪ শতাংশ, সিটি করপোরেশন ৬ দশমিক ৪ শতাংশ এবং উপজেলা পরিষদ শূন্য দশমিক ৬ শতাংশ গ্রাহক নির্ধারিত সময়ে সেবা গ্রহণ করেছেন। কিন্তু সেবা গ্রহণকারীদের ৩৬ দশমিক এক শতাংশ দুর্নীতি ও অনিয়মের শিকার হয়েছে। সেবাগ্রহীতাদের মধ্যে ঘুষ বা নিয়ম-বহিভর্‚ত অর্থ দিয়েছেন ২২ দশমিক ৩ শতাংশ। এছাড়া অর্থ আত্নসাতের শিকার হয়েছেন ১১ দশমিক ৬ শতাংশ, দায়িত্বে অবহেলার শিকার হয়েছেন ৫ দশমিক ৩ শতাংশ, প্রভাবশালীর হস্তক্ষেপের শিকার হয়েছেন ২ দশমিক ৭ শতাংশ এবং প্রতারণার শিকার হয়েছেন শূন্য দশমিক ০৪ শতাংশ সেবাগ্রহীতা।

জরিপ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউনিয়ন পরিষদ থেকে সেবাগ্রহীতাদের ৩৫ দশমিক ৮ শতাংশ দুর্নীতি এবং ২১ শতাংশ ঘুষ বা নিয়ম-বহিভর্‚ত অর্থ লেনদেনের শিকার হয়েছেন। যেসব সেবাগ্রহীতা ঘুষ বা নিয়ম-বহির্ভ‚ত অর্থ দিয়েছে তারা গড়ে ৪১৭ টাকা দিয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সেবাগ্রহীতারা সর্বোচ্চ সিটি কর্পোরেশনে দুর্নীতির শিকার হয়েছেন (৪১ শতাংশ) ও ঘুষ বা নিয়ম-বর্হিভ‚ত অর্থের শিকার হয়েছে ৩৬ দশমিক ৭ শতাংশ। এই প্রতিষ্ঠানে গড়ে ৫৭৪ টাকা ঘুষ বা নিয়ম-বহির্ভ‚ত দিতে হয়েছে।

টিআইবির এ জরিপ প্রতিবেদনে ঘুষ বা অতিরিক্ত অর্থের পরিমাণে উলে­খ করা হয়েছে, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান থেকে সেবা নিতে গিয়ে যেসব সেবাগ্রহীতা ঘুষ বা নিয়ম-বহির্ভ‚ত অর্থ দিয়েছে তাদের গড়ে ৪৪৭ টাকা দিতে হয়েছে। বিচার ও সালিশে সবচেয়ে বেশি অর্থাৎ ৬ হাজার ২৯ টাকা এবং সনদ সংগ্রহে সবচেয়ে কম অর্থাৎ ১৩৩ টাকা ঘুষ দিতে হয়েছে।

টিআইবির ট্রাস্টি বোর্ড চেয়ারপার্সন অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল বলেন, ঘুষ যেন প্রাত্যহিক জীবনের অংশ হয়ে উঠেছে। প্রত্যেকেই কোনো না কোনোভাবে ইচ্ছায় বা অনিচ্ছায় দুর্নীতির সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে। এখানেই আমাদের সবচেয়ে বড় উদ্বেগ। যিনি সেবার দায়িত্বে নিয়োজিত থাকেন তার কাছ থেকে ঘুষ ছাড়া সেবা প্রাপ্তি সম্ভবপর হয় না। যারা এই ধরনের দায়িত্বে নিয়োজিত থাকেন তারা নৈতিকতা এবং দায়বদ্ধতার সাথে তাদের দায়িত্ব পালন করছেন না। যার ফলে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সাধারণ জনগণ, বিশেষ করে যাদের পক্ষে কথা বলার কেউ নেই। তাই দুর্নীতির দুষ্টচক্র থেকে আমাদের বের হয়ে আসতে হবে। নইলে সরকারের উলে­খযোগ্য অর্জনগুলো ম্লান হয়ে যাবে।

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেছেন, দুর্নীতির ব্যাপকতা ও গভীরতা উদ্বেগজনক। জনগণের মৌলিক অধিকার, দৈনন্দিন জীবন যাপন ও আর্থ সামাজিক কর্মকাণ্ডের জন্য অপরিহার্য খাতগুলোতে দুর্নীতি এখন প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পেয়েছে। জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হওয়া, রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাব ও দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেওয়ার প্রবণতা থাকায় দুর্নীতি প্রতিরোধ সম্ভব হচ্ছে না। তাই ব্যাষ্টিক পর্যায়ে সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে দুর্নীতি হ্রাসের প্রবণতাকে এগিয়ে নিতে আইনের কঠোর প্রয়োগ করে সকল পর্যায়ে গণতান্ত্রিক জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে।

জানা যায়, স্যুয়ারেজ বা পয়োবর্জ্য নিষ্কাশন ও পরিশোধন বাবদ ঢাকার হোল্ডিংগুলো থেকে নিয়মিত সার্ভিস চার্জ আদায় করছে ঢাকা ওয়াসা। প্রতি বছর ৩০০ কোটি টাকা এ খাত থেকে বিল বাবদ তোলা হয়। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে স্যুয়ারেজ বিল ২২ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। সর্বশেষ চলতি মাসে আবারও ৫ শতাংশ স্যুয়ারেজ বিল বৃদ্ধি করেছে ওয়াসা।

২০০৯-১০ থেকে ২০১৬-১৭ অর্থবছর পর্যন্ত ওয়াসা স্যুয়ারেজ বিল বাবদ ১ হাজার ৫৩০ কোটি টাকা আদায় করলেও স্যুয়ারেজ পাইপলাইন মেরামতে খরচ করা হয়েছে মাত্র ১৬ কোটি টাকা। এমনকি এ খাতের মোটা অঙ্কের টাকা কোথায়, কীভাবে খরচ করা হয়েছে তার কোনো হদিসও নেই বলে জানা গেছে।

loading...

About sylhet24 express

Check Also

প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রীকে হত্যার চক্রান্তের খবর নাকচ আমুর

অনলাইন ডেস্ক : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যায় জঙ্গিদের একটি চক্রান্ত বানচাল করা হয়েছে বলে যে খবর …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *