Breaking News
loading...
Home / সমগ্র বাংলাদেশ / দুটি চোখ উপড়ে ফেলা হয়েছে তবুও হাতে হাতকড়া!

দুটি চোখ উপড়ে ফেলা হয়েছে তবুও হাতে হাতকড়া!

খুলনা

খুলনা সংবাদদাতা : পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ, এক লাখ টাকা চাঁদা না পেয়ে স্ক্রড্রাইভার দিয়ে দুটি চোখ তুলে ফেলা হয়েছে। এখন বেঁচে থাকার লড়াইয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেকে) চিকিৎসাধীন আছেন শাহজালাল নামের এক সবজি বিক্রেতা। পৃথিবী তার অন্ধকার। তবুও হাতে হাতকড়া। বেডের সঙ্গে হাতকড়া দিয়ে বেঁধে রাখা হয়েছে তাকে। এভাবেই চিকিৎসা নিতে হচ্ছে স্ত্রীকে নিতে পিরোজপুর থেকে খুলনায় শশুরবাড়ি আসা শাহজালালকে। তবে পুলিশ বলছে, ছিনতাইকারী হিসেবে ধরে জনতা গণপিটুনি দিয়ে শাহজালালের চোখ উপড়েছে। একেকটি ঘটনার পর পুলিশ নানা ব্যাখ্যা দিলেও তাদের বিরুদ্ধে হয়রানি, দুর্ব্যবহার বা নির্যাতনের অভিযোগ থেমে নেই। আটক বা গ্রেপ্তারের পর বন্দিকে নির্যাতনেরও কথা শোনা যায়। অনেক সময়ই অভিযুক্তকে আটকের কথাও স্বীকার করে না বাহিনীটি।

আসামির প্রতি পুলিশের আচরণ কেমন হওয়া উচিত- এমন প্রশ্নের জবাবে পুলিশ ও আইনজীবীরা বলছেন, আসামির প্রতি অবশ্যই সহনশীল আচরণ করতে হবে। মারধর তো করাই যাবে না, এমন কোনো আচরণও করা যাবে না, যেটা আসামির মনে ভীতি তৈরি করে।

পুলিশ হেফাজতে থাকা অবস্থায় আসামির প্রতি কী আচরণ হবে সেটা আইনেই নির্ধারিত আছে। এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ থেকে বিস্তারিত নির্দেশনাও দেওয়া আছে। পুলিশের অন্যায় আচরণের প্রতিকারও আইনে বলা আছে। এ ছাড়া, গণমাধ্যম ও সাধারণ মানুষকে এর বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে হবে বলেও মন্তব্য করেছেন আইনজীবীরা।

গত ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত সময়ের আইন ও সালিশ কেন্দ্রের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হেফাজতে কিংবা ক্রসফায়ারে ৯০ জন মারা গেছেন। এরমধ্যে র‌্যাবের সঙ্গে ক্রসফায়ারে ১৩ জন, পুলিশের সঙ্গে ক্রসফায়ারে ৪৬ জন, ডিবি পুলিশের সঙ্গে ক্রসফায়ারে আট জন, র‌্যাব ও পুলিশের সঙ্গে ক্রসফায়ারে একজন, পুলিশের নির্যাতনে চার জন, পুলিশের গুলিতে ১২ জন, র‌্যাবের গুলিতে একজন, র‌্যাব ও পুলিশের গুলিতে একজন, বান্দরবানের লামায় সেনাবাহিনীর গুলিতে একজন, পুলিশ হেফাজতে অসুস্থ হয়ে একজন, গ্রেপ্তারের পর পুলিশ হেফাজতে একজনের মৃত্যু নিয়ে রহস্যের সৃষ্টি হয়।’
শাহজালাল যেভাবে চোখ হারালেন :

চাহিদামতো টাকা না পাওয়ায় খুলনার খালিশপুর থানা পুলিশের বিরুদ্ধে শাহজালাল নামে এক ব্যক্তির দুই চোখ তুলে নেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে। গত ১৮ জুলাই রাতে এ ঘটনা ঘটে। ঢাকা মেডিকেলের ৩০১ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন শাহজালাল  বলেন, ‘আমি ঘটনার দিন সন্ধ্যার পর আমার ১০ মাসের মেয়ের জন্য দুধ কিনতে শ্বশুরবাড়ি থেকে দৌলতপুর যাচ্ছিলাম। বাসা থেকে একটু সামনে যেতেই তিনটি মোটরসাইকেলে করে আসা পুলিশ হ্যান্ডকাফ লাগিয়ে আমাকে নিয়ে যায়। তারা বলে, তোর বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ আছে। এরপর থানায় নিয়ে আমাকে অনেক মারধর করা হয়। তখন পুলিশ বলে, ‘এক লাখ টাকা দে, তোকে ছেড়ে দেব।’ টাকা দিতে অপারগতা জানালে পুলিশ আমাকে খুলনার আড়াইশ’ শয্যা হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়ার কথা বলে থানা থেকে গাড়িতে তুলে বাইরে নিয়ে যায়। তখন আমার স্ত্রী থানার বাইরে ছিলেন। জানতে চাইলে আমার স্ত্রীকে পুলিশ বলে, ‘চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছি।’ কিন্তু হাসপাতালে না নিয়ে পুলিশ আমাকে খুলনার বিশ্বরোড এলাকায় নিয়ে যায়। সেখানে হাত-পা ও মুখ বেঁধে তারা আমার দুই চোখ উপড়ে ফেলে।’ বিষয়টি নিয়ে গণমাধ্যমে তোলপাড় হলেও আজও গঠিত হয়নি কোনো তদন্ত কমিটি।

loading...

About sylhet24 express

Check Also

রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে জাসদ জাতীয় কমিটির সভার দ্বিতীয় ও শেষদিনে সভাপতির ভাষণে : তথ্যমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রীর নিখুঁত প্রচেষ্টায় খুঁত ধরার অপচেষ্টা বিএনপির : তথ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক : তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেছেন, রোহিঙ্গা বিষয়ে বিএনপি হালে পানি পাচ্ছে না …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *