loading...
Home / অর্থনীতি / নিত্যপণ্যের বাজারে আগুন

নিত্যপণ্যের বাজারে আগুন

নিত্যপণ্যের বাজারে আগুন
নিত্যপণ্যের বাজারে আগুন

মো. আবু বকর : দু’সপ্তাহের ব্যবধানে পেঁয়াজের দাম বেড়েছে ২০ টাকা। আর সব ধরণের সবজির বাজারে আগুন লাগায় ক্রয় ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে সাধারণ মানুষের। টানা বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার কারণে দ্রব্যমূল্যের এ উর্ধগতি বলে দাবী ব্যবসায়ীদের।

দু’সপ্তাহ আগে দেশি পেঁয়াজের দাম ছিল ৩০ টাকা। গত সপ্তাহে তা বেড়ে ৪০ টাকা হয়। আর গতকাল ৫০ টাকা দরে বিক্রি হতে দেখা যায়। তবে ভারতীয় পেয়াজের দাম বেড়েছে ১২ টাকা। ৪০ টাকায় বিক্রি হয় এ পেয়াজ।

গতকাল সবজির দাম বেড়েছে কেজি প্রতি ২০ টাকা। সব ধরনের সবজি ৬০ টাক থেকে বেড়ে ৮০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা যায়। সবজির দাম বাড়ায় ক্রয় ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে সাধারণ মানুষের। বেগুন গত সপ্তাহে কেজিপ্রতি ছিল ৬০টাকা বর্তমানে কেজিপ্রতি ৮০টাকা বিক্রয় হচ্ছে। এ ছাড়া কাঁচা মরিচ, আলু, করলা, টমোটো, শিম, ঝিংগাসহ সব সবজির মূল্য দ্বিগুণ হয়েছে বলে জানিয়েছে নগরবাসী। তারা বলেছেন টানা বৃষ্টির কারণে গ্রামাঞ্চল থেকে রাজধানী ঢাকায় আনতে নানাবিদ সমস্যার কারণেই দ্বিগুণ মূল্য দিয়েই কিনতে হচ্ছে নগরবাসীদের।

গতকাল রাজধানীর শান্তিনগর, হাতিরপুল, কারওয়ান বাজারসহ এমন চিত্র দেখা গেছে। বাজারে সবজি, মাছসহ সব ধরনের পণ্যের দাম বাড়ার জন্য অব্যাহত বৃষ্টিকে দায়ী করছেন ব্যবসায়ীরা। ব্যবসায়ীরা বলছেন, টানা বৃষ্টির কারণে আড়তে পেঁয়াজ সংরক্ষণে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উৎপাদন পর্যায়ের কৃষকরা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে এর প্রভাব পড়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে পেঁয়াজ ও কাঁচা মরিচে।

বাজার ঘুরে দেখা গেছে, দুই সপ্তাহের ব্যবধানে দেশি পেঁয়াজের দাম কেজিতে ২০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকা দরে। এ ছাড়া সপ্তাহের ব্যবধানে আমদানি করা ভারতীয় পেঁয়াজ ১২ টাকা বেড়ে ৪০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এদিকে গত সপ্তাহের বাড়তি দামেই বিক্রি হচ্ছে কাঁচা মরিচ। বাজারে কাঁচা মরিচ কেজিপ্রতি বিক্রি হচ্ছে ১৬০ টাকা দরে। এ ছাড়া কেজিপ্রতি দেশি রসুন ১০ টাকা বেড়ে ১০০ টাকায়; ভারতীয় রসুন ১২০ টাকায়; আলু ২২ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে গত সপ্তাহের দামেই স্থিতিশীল রয়েছে অধিকাংশ মুদিপণ্যের দাম। বাজারে কেজিপ্রতি ছোলা ৮০ টাকা; দেশি মুগ ডাল ১৩০ টাকা; ভারতীয় মুগ ডাল ১২০ টাকা; মাসকলাই ১৩৫ টাকা, দেশি মসুর ডাল ১২৫ টাকা; ভারতীয় মসুর ডাল ৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। দারুচিনি ৩৬০ টাকা; জিরা ৪৫০ টাকা; শুকনা মরিচ ২০০ টাকা; লবঙ্গ ১৫০০ টাকা; এলাচ ১৬০০ টাকা; চীনা আদা ১৪০ টাকা এবং ক্যারালা আদা ১১০ টাকা; হলুদ ১৯০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

ভোজ্য তেলের দাম আগের বাড়তি দামেই বিক্রি হচ্ছে। গতকাল বাজারে ব্র্যান্ড ভেদে ৫ লিটারের বোতল ৫৩০-৫৪০ টাকা; প্রতি লিটারে ১-২ টাকা বেড়ে ১০৭ টাকা থেকে ১০৯ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
শান্তিনগর বাজারের মুদি ব্যবসায়ী বিপুল বলেন, গত দুই সপ্তাহ ধরে টানা বৃষ্টির কারণে পেঁয়াজের দাম বেড়েছে। কারণ পেঁয়াজ নষ্ট হওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে পাইকারি ব্যবসায়ীরা। ফলে পাইকারি পর্যায়ে দাম বাড়িয়েছেন তারা। এর প্রভাব পড়েছে খুচরা পর্যায়েও।

কাঁচা বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বেগুন কেজি প্রতি ৬০-৮০ টাকা; শিম ১২০ টাকা; হাইব্রিড টমেটো ১৬০ টাকা; দেশি টমেটো ১০০ টাকা; শশা ৬০ টাকা; চাল কুমড়া ৫০-৫৫ টাকা; কচুর লতি ৬০-৬৫ টাকা; পটল ৫০-৫৫ টাকা; ঢেঁড়স ৫০-৫৫ টাকা; ঝিঙ্গা ৬০ টাকা; চিচিঙ্গা ৫০-৫৫ টাকা; করলা ৫০-৫৫ টাকা; কাকরোল ৫০ টাকা; পেঁপে ৪০-৫০ টাকা; কচুরমুখী ৫০-৫৫ টাকা; আমড়া ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

প্রতিটি ফুলকপি ৪০ টাকা, বাঁধাকপি ৪০ টাকা এবং লেবু হালি প্রতি ২০ থেকে ৪০ টাকা; পালংশাক আঁটি প্রতি ২০ টাকা; লালশাক ২০ টাকা; পুঁইশাক ৩০ টাকা এবং লাউশাক ৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

চালের বাজার ঘুরে দেখা গেছে, মোটা স্বর্ণা চাল প্রতি কেজি ৪২-৪৩ টাকা, পারিজা চাল ৪২ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া মিনিকেট (ভালো মানের) ৫৪ টাকা, মিনিকেট (সাধারণ) ৫২ টাকা, বিআর২৮ ৪৮ টাকা, সাধারণ মানের নাজিরশাইল ৫০ টাকা, উন্নতমানের নাজিরশাইল ৫২ টাকা, পাইজাম চাল ৪৮ টাকা, বাসমতি ৫৩ টাকা, কাটারিভোগ ৭২-৭৩ টাকা এবং পোলাও চাল (পুরাতন) ১০০ টাকা, (নতুন) ৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

মাছের বাজার ঘুরে দেখা গেছে, আকার ভেদে প্রতি কেজি রুই মাছ ২৫০-৩৫০ টাকা, সরপুঁটি ৩৫০-৪৫০ টাকা, কাতলা ৩৫০-৪০০ টাকা, তেলাপিয়া ১৪০-১৮০ টাকা, সিলভার কার্প ২০০-২৫০ টাকা, চাষের কৈ ২৫০-৩৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। পাঙ্গাস প্রতি কেজি ১৫০-২৫০ টাকা, টেংরা ৬০০ টাকা, মাগুর ৬০০-৮০০ টাকা, প্রকার ভেদে চিংড়ি ৪০০-৮০০ টাকা, প্রতিটি ইলিশ ৮০০-১২০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে; প্রতি কেজি ইলিশের দাম রাখা হচ্ছে ১৮০০ টাকা।

এদিকে সপ্তাহের ব্যবধানে ছোট দেশি মুরগির দাম আগের বাড়তি দামে প্রতি পিস বিক্রি হচ্ছে ৪৫০ টাকা দরে। এছাড়া ব্রয়লার মুরগি ৫ টাকা বেড়ে ১৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। লেয়ার মুরগি ২২০ টাকা এবং পাকিস্তানি লাল মুরগি ২৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। আজকের বাজারে প্রতি কেজি গরুর মাংস ৫০০ টাকা এবং খাসির মাংস ৭৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

loading...

About sylhet24 express

Check Also

অশুল্ক বাঁধা সরিয়ে দেয়া গেলে ভারত-বাংলাদেশ বাণিজ্য বহুগুণে বাড়ানো সম্ভব

অশুল্ক বাঁধা সরিয়ে দেয়া গেলে ভারত-বাংলাদেশ বাণিজ্য বহুগুণে বাড়ানো সম্ভব

নিজস্ব প্রতিবেদক : বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমান বলেছেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ভৌগলিক …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *