loading...
Home / বিনোদন / তারকা সন্তানদের সফলতা

তারকা সন্তানদের সফলতা

তারকা সন্তানদের সফলতা
তারকা সন্তানদের সফলতা

অনলাইন ডেস্ক : কথায় আছে, বটবৃক্ষের ছায়াতলে আরেকটা বটবৃক্ষ বেড়ে উঠতে পারে না। আবার কেউ কেউ বিপরীত স্রোতের যাত্রী হয়ে নিজের প্রতিভার দ্যুতি ছড়িয়েছেন চারপাশে। বলছি তারকা ও তাদের সন্তানদের কথা।

তারকা বাবা কিংবা মায়ের সন্তান তকমা নিয়ে শোবিজে কাজ করার উপকারিতা কী? এটা যারা তারকা জগতে আছেন তারাই জানেন। আবার অনেকে ভেবে থাকেন খুব সহজেই হয়তো পার পেয়ে যান তারা। বাস্তবতা কিন্তু তা নয়।

আবুল হায়াত ও তার মেয়ে বিপাশা হায়াত :
উদাহরণ হিসেবে আবুল হায়াতের পরিবারের কথাই বলা যাক। বিপাশা হায়াত—একাধিক পরিচয়ে পরিচিত। অভিনয়শিল্পী, লেখক, চিত্রশিল্পী। বাংলাদেশের সেরা অভিনয়শিল্পীদের নাম বললে তার কথা বলতেই হবে। যেমনটা বলতে হবে তার বাবা আবুল হায়াতের নামও। তবে তার কনিষ্ঠ কন্যা নাতাশা হায়াত আগে যা এক-আধটু অভিনয় করতেন, এখন একেবারেই দূরে আছেন ক্যামেরা থেকে। তিনি এখন পুরোপুরি ফ্যাশন ডিজাইনার।

নায়করাজ রাজ্জাক – বাপ্পা রাজ ও সম্রাট :
বাংলাদেশের সিনেমায় নায়করাজ রাজ্জাকের দুই ছেলে বাপ্পা রাজ ও সম্রাট সিনেমায় এসেছেন। বাবার মতো দ্যুতি ছাড়াতে পারেননি কেউ। সোহেল রানার ছেলে মাশরুর পারভেজ অভিনয় করছেন সিনেমায়। কিন্তু বাবার খ্যাতির ধারেকাছেও যেতে পারেননি তিনি। তবে তার পথচলাটা খুব বেশিদিন হয়নি শুরু হয়েছে।

গোলাম মুস্তাফা – সুবর্ণা মুস্তাফা :
বাবা গোলাম মুস্তাফার পদাঙ্ক অনুসরণ করে অভিনয়ে এসেছেন সুবর্ণা মুস্তাফা। বাবার মতোই খ্যাতি পেয়েছেন তিনি। সুবর্ণার বোন ক্যামেলিয়া মুস্তাফাও এককালের টিভি অভিনেত্রী ছিলেন। তবে শোবিজকে বিদায় বলেছেন অনেক আগে।

আমজাদ হোসেন – সোহেল আরমান, দোদুল :
আমজাদ হোসেন চলচ্চিত্রের সব্যসাচী ব্যক্তিত্ব। জহির রায়হানের বিখ্যাত সিনেমা ‘জীবন থেকে নেয়া`র কাহিনীকার আমজাদ হোসেন। সেই ছবিতে আমজাদ অভিনয়ও করেছেন। নিজে পরিচালনা করেছেন অনেক বিখ্যাত ছবি। তিনি নিজের সিনেমার জন্য দারুন জনপ্রিয় অনেকগুলো গানও লিখেছেন। অভিনয় করেন টিভিতে। টিভি নাট্যকারও। তার ছেলেরাও (সোহেল আরমান, দোদুল) অভিনেতা, নাট্য নির্দেশক। তবে বাবার দক্ষতার থেকে অনেকটাই মলীন তারা।

আলী যাকের – সারাহ যাকের – ইরেশ ও শ্রিয়া সর্বজয়া :
বাবা আলী যাকের ও মা সারাহ যাকেরের পথে অভিনয়ে এসেছেন ইরেশ ও শ্রিয়া সর্বজয়া। তবে অভিনয়ের চেয়ে দুজনই প্রাধান্য দিয়েছেন ব্যবসায়। শহীদ বুদ্ধিজীবী ও চলচ্চিত্র পরিচালক জহির রায়হানের সন্তান অনল রায়হান, বিপুল রায়হান এবং তপু রায়হান চলচ্চিত্র জগতের সঙ্গে যুক্ত। বিপুল ও অনল নাট্য নির্মাতা এবং তপু অভিনেতা।

ওমর সানী-মৌসুমী :
ওমর সানী-মৌসুমীর ছেলে ফারদীন আত্মপ্রকাশ করেছেন চিত্রপরিচালক হিসেবে। তবে খুব বেশি দিন মিডিয়ায় পদার্পন না হওয়াতে সময়ই তার সফলতার মাত্রা বলে দিবে।

ইনামুল হক ও লাকি ইনাম- হৃদি হক : 
ইনামুল হক ও লাকি ইনামের সন্তান হৃদি হক অভিনয় জগতে এসেছেন। হৃদি টেলিভিশনে এখন অনেকটাই অনিয়মিত। তিনি মঞ্চ ও পরিচালনা নিয়ে ব্যস্ত। রামেন্দু মজুমদার ও ফেরদৌসী মজুমদারের কন্যা ত্রপা মজুমদার অভিনেত্রী হিসেবে খ্যাত। কিন্তু বাবা মায়ের মতো অভিনয়ের জাজ না থাকাতে এখন অনেকটাই অনিয়মিত। অভিনেত্রী আনোয়ারার মেয়ে মুক্তি অভিনয়ে আসলেও নেই কোন নামডাক।

সৈয়দ আহসান আলী সিডনী- জিতু আহসান :
সৈয়দ আহসান আলী সিডনী ছিলেন সত্তর ও আশির দশকের মঞ্চ ও টিভি নাটকের অভিনেতা। তার পুত্র জিতু আহসান একটা সময় অভিনয়ে নাম করেছিলেন। কিন্তু তিনিও এখন পর্দার আড়ালে।

আবদুল আজিজ – প্রমা আজিজ :
অভিনেতা আবদুল আজিজ বহুদিন ধরে অভিনয় করে চলেছেন। তার কন্যা প্রমা আজিজও অভিনয়ে এসেছেন। এখন টিভিতে সংবাদও পাঠ করেন।

ফেরদৌস ওয়াহিদ- হাবিব ওয়াহিদ :
পপ গানের আরেক তারকা ফেরদৌস ওয়াহিদ। তার পুত্র হাবিব ওয়াহিদ এখনকার জনপ্রিয় সংগীত শিল্পী ও সুরকার।

ফিরোজা বেগম ও কমল দাশগুপ্ত – হামিন, শাফিন :
নজরুল সংগীতের কিংবদন্তী শিল্পী ফিরোজা বেগম। নজরুলের স্নেহধন্য তিনি। তার পরিবারের সবাই সংগীত প্রেমী। তার স্বামী নজরুল সংগীতের গুরু কমল দাশগুপ্ত। নজরুল যে দু`জনকে তার নিজের গানের পুনরায় সুরারোপ করার অধিকার দিয়েছিলেন তারা হলেন কমল দাশগুপ্ত আর দিলীপ কুমার রায় ( ডি.এল. রায়ের পুত্র)। ফিরোজা-কমল দম্পতির পুত্র হামিন শাফিন আর তাদের ব্যাণ্ড দল মাইলস জনাপ্রিয়তার তুঙ্গে রয়েছে এখনো।

মাহমুদুন্নবী – সামিনা চৌধুরী আর ফাহমিদা চৌধুরী :
ষাট আর সত্তরের দশকের জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী ছিলেন মাহমুদুন্নবী। তার দুই কন্যা সামিনা চৌধুরী আর ফাহমিদা চৌধুরী বিগত আশির দশক থেকে জনপ্রিয় শিল্পী। সামিনাদের ভাই পঞ্চমও গান করছেন। তবে বাবা আর বোনদের মতো ভাই গানের জগতে ততটা নাম করতে পারেননি।

বারীণ মজুমদার – পার্থ মজুমদার- বাপ্পা মজুমদার :
উচ্চাঙ্গ সংগীত শিল্পী বারীণ মজুমদার সংগীতের এক উজ্জল নক্ষত্র। তার স্ত্রী ইলা মজুমদারও ছিলেন আমাদের উচ্চাঙ্গ সংগীতের উজ্জ্বল নক্ষত্র। তাদের দুই পুত্র। জ্যেষ্ট পুত্র পার্থ মজুমদার সংগীত পরিচালক। তাদের কনিষ্ঠ পুত্র বাপ্পা মজুমদার এখনকার জনপ্রিয় কন্ঠশিল্পী ও মিউজিশিয়ান।

খান আতাউর রহমান- আগুন :
বাংলাদেশি চলচ্চিত্রে একটি পরিচিত নাম খান আতাউর রহমান। তিনি একাধারে অভিনেতা, চিত্রনাট্য লেখক, কাহিনিকার, গীতিকার, সুরকার, গায়ক, সঙ্গীত পরিচালক, চলচ্চিত্র নির্মাতা এবং প্রযোজক। খান আতা নামেই তিনি বহুল পরিচিত। তারই সন্তান আগুন তিনি বাবার মত বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী না হলেও গান ও অভিনয় করছেন।

আলমগীর – আখি আলমগীর
চিত্রনায়ক আলমগীরের কন্যা আখি অভিনয়ের ক্ষেত্রে তেমন সুনাম অর্জন করতে পারেনি। কিন্তু গানের ক্ষেত্রে আলোচনা তৈরি করেছিলেন একটা সময়। কিন্তু সেটা এখন অনেকটাই নিস্প্রভ বলা চলে।

দীলিপ বিশ্বাস- দেবাশীষ বিশ্বাস
দীলিপ বিশ্বাস বাংলাদেশী খ্যাতিমান চলচ্চিত্র পরিচালক। পাশাপাশি চলচ্চিত্র প্রযোজক, অভিনয় ও সঙ্গীতশিল্পী। তারই সন্তান দেবাশীষ বিশ্বাস। তিনি চলচ্চিত্র নির্মাণে নাম না কুড়ালেও উপস্থাপনায় প্রশংসা পেয়েছেন।

কাজী হায়াৎ – কাজী মারুফ
চলচ্চিত্র পরিচালক, প্রযোজক ও অভিনয় শিল্পী কাজী হায়াৎ। তিনি বিভিন্ন বিভাগে মোট আটবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন। তারই সন্তান কাজী মারুফ সিনেমা পরিচালনা না করলেও প্রযোজনা ও অভিনয় করছেন পুরোদমে। কিন্তু বাবার থেকে অনেকটাই ধার করা খ্যাতি নিয়ে খুব বেশি সফলতা পাননি।

loading...

About sylhet24 express

Check Also

নায়করাজ রাজ্জাক আর নেই

নায়করাজ রাজ্জাকের বিদায়

নিজস্ব প্রতিবেদক : সর্বস্তরের মানুষ ভালোবাসা ও শ্রদ্ধায় শেষ বিদায় নিলেন বাংলা চলচ্চিত্রের মহানায়ক, শক্তিমান …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *