Breaking News
loading...
Home / জাতীয় / গৃহকর্মীর মৃত্যুতে উত্তাল বনশ্রী : গৃহকর্তা ও দারোয়ান আটক বিক্ষোভ ও ভাংচুর

গৃহকর্মীর মৃত্যুতে উত্তাল বনশ্রী : গৃহকর্তা ও দারোয়ান আটক বিক্ষোভ ও ভাংচুর

গৃহকর্মীর মৃত্যুতে উত্তাল বনশ্রী : গৃহকর্তা ও দারোয়ান আটক বিক্ষোভ ও ভাংচুর

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজধানীর বনশ্রীতে লাইলী বেগম (৩০) নামে এক গৃহকর্মীর রহস্যজনক মৃত্যুকে ঘিরে ব্যাপক বিক্ষোভ দেখিয়েছে এলাকাবাসী। বিক্ষুব্ধ জনতা গতকাল দুপুরে লাইলীর গৃহকর্তার বাড়ি ঘেরাও করে রাখে। হত্যার খবর ছড়িয়ে পড়লে পাশের ভুইয়া পাড়ার বস্তিবাসী বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। পরে পুলিশ এসে কাঁদানে গ্যাস ও টিয়ারসেল ছুড়ে তাদের ছত্রভঙ্গ করে। এক পর্যায়ে ক্ষুব্দ জনতা বাড়িওয়ালার একটি প্রাইভেটকারে আগুন ধরিয়ে দেয়। পরে ফায়ার সার্ভিসের লোকজন এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় বাড়িওয়ালা মুন্সি মঈনুদ্দিন ও বাড়ির দারোয়ানকে আটক করেছে খিলগাঁও থানা পুলিশ। এদিকে দোষীদের গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে ক্ষুব্ধ জনতা রাস্তা অবরোধ ও যানবাহনেও ভাংচুর চালিয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, বাড়ির মালিক মুন্সী মইন উদ্দিন ও দারোয়ানকে আটক করা হয়েছে।

লাইলী বেগমের জা নুরুন্নাহার বলেন, বনশ্রীর জি ব্লকের ৪ নং রোডে ১৪নং বাড়ির দ্বিতীয় তলায় মুন্সি মঈনুদ্দিনের বাসায় কাজ করতেন লাইলী বেগম। আর তৃতীয় তলায় তার মেয়ের বাসায় কাজ করেন নুরুন্নাহার। লাইলী বেগম প্রতিমাসে ৬ হাজার টাকা বেতনে কাজ করতেন। সকালে বাসায় ঢুকতেন আর রাতে ফিরতেন। কিন্তু বাড়িওয়ালা ঠিকমতো তার বেতন দিতেন না। নুরুন্নাহার জানান, লাইলী বেগমের ৫ মাসের বেতন পাওনা ছিল। গতকাল সকাল ৬টায় নুরুন্নাহার কাজে যান। এরপর সকাল ৮টার দিকে মুন্সি মাইনুদ্দিনের বাসায় যান লাইলী বেগম। নুরুন্নাহারের ধারণা, পাওনা টাকা চাওয়ায় মুন্সি মাঈনুদ্দিন লাইলী বেগমকে মারধর করেন এবং শ্বাসরোধ করে হত্যার পর আÍহত্যার নাটক করেন। নুরুন্নাহার বলেন, সকাল সাড়ে ৮টায় হঠাৎ শুনি লাইলী বেগমের লাশ নামাচ্ছে গেটে। দৌড়ে এসে দেখি তাকে গাড়িতে তুলছে। তিনি বলেন, আমি চলে আসায় তারা প্রথমে তাকে স্থানীয় হাসপাতাল এবং পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক সকাল ১০টা ২০ মিনিটে বলেন আরও অনেক আগেই মারা গেছেন লাইলী বেগম।

গৃহকর্মীর মৃত্যুর ঘটনায় গৃহকর্তা ও কেয়ারটেকার আটক (ছবি: ফোকাস বাংলা)

এদিকে গৃহকর্তা মুন্সি মাইনুদ্দিন জানান, গতকাল সকাল সাড়ে ৮টায় লাইলী বেগম তার বাসায় কাজে আসেন। একটি রুমে ঢোকার পর তিনি আর বের হচ্ছিলেন না। ডাকাডাকি করলে তার কোনো সাড়াশব্দ পাওয়া যাচ্ছিল না। এ অবস্থায় বাড়ির ম্যানেজার টিপুকে খবর দেন বলে দাবি করেন গৃহকর্তা। টিপু এসে রুমের দরজা ভাঙেন। এরপর দেখা যায় লাইলী গলায় ফাঁস দিয়ে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলে আছেন। পরে তাকে নামিয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। সেখানকার চিকিৎসক জানান, হাসপাতালে নেওয়ার আগেই তার মৃত্যু হয়েছে।

তবে গৃহকর্তার এমন কথা মানতে রাজি নন লাইলী বেগমের ভাসুর শহীদুল। তিনি বলেন, পাওনা টাকা নিয়ে ঝগড়া করে বাড়িওয়ালা লাইলীকে হত্যা করেছে। তিনি জানান, তাদের বাড়ি কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীয়া উপজেলার আজুয়াটালীতে। লাইলীর স্বামী নজরুল ইসলাম গত ৪ বছর আগে ভারতে কাজ করে ফেরার পথে ভারতীয় পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়। তখন থেকে তার আর কোনো খোঁজখবর নেই। এরপর লাইলী এক ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে তাদের সঙ্গে ঢাকায় চলে আসে। বনশ্রীর হিন্দুপাড়া বস্তিতে নুরুন্নাহারের বাসায় থাকতো লাইলী। আর কাজ করতো মুন্সী মঈনুদ্দিনের বাসায়।

লাইলী বেগমের খালা আয়শা আক্তার জানান, লাইলী বেগমের মেয়ের নাম মরিয়ম (৫) ও ছেলের নাম আতিকুল (৩)। তাদের ঘুমে রেখে গতকাল বাসা থেকে বের হয়েছিলেন লাইলী বেগম। প্রত্যক্ষদর্শী রিকশাচালক সোহরাব হোসেন বলেন, দুপুরে লাইলীর মৃত্যুর খবরে আশপাশের লোকজন ওই বাড়ির সামনে এসে জড়ো হন। এ সময় বাড়ির দারোয়ান সবাইকে এখান থেকে সরে যেতে বলেন। একপর্যায়ে গেট তালা দিয়ে তারা উপরে চলে যান। এসময় বিক্ষুব্ধ জনতা মুন্সি মাঈনুদ্দিনের প্রাইভেটকারটিতে আগুন ধরিয়ে দেয়। এরপর পুলিশের সঙ্গে তাদের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।

প্রতিবেশী জুয়েল অভিযোগ করে বলেন, মুন্সি মঈনুদ্দিনের বিরুদ্ধে কাজের বুয়া নির্যাতন এবং বেতন না দেয়ার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। এর আগেও আরও দুই গৃহকর্মীর মৃত্যু হয়েছে তার বাসায়। ফায়ার সার্ভিস নিয়ন্ত্রণ কক্ষের কর্মকর্তা মিজানুর রহমান জানান, গাড়িতে আগুন দেওয়ার খবর পেয়ে তাদের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে যায়। কিন্তু উত্তেজিত জনতা ফায়ার সার্ভিসের গাড়িকেও বাধা দেয়। পরে আগুন নেভানো হয়। পুলিশ ওই বাড়ির সামনে থেকে জনতাকে সরানোর চেষ্টা করলেও দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ চলতে থাকে। এক পর্যায়ে পুলিশ টিয়ার শেলও ছোড়ে। খিলগাঁও থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোস্তাফিজুর রহমান রাত সাড়ে ৮টায় জানান, এখনও ঝামেলা চলছে। আগের চেয়ে কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এসেছে। আমরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছি।

রামপুরা থানার এসআই শাহীন জানান, ময়না তদন্তের পর জানা যাবে লাইলীর মৃত্যু কিভাবে হয়েছে। লাইলীর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে পাশের ভুঁইয়া পাড়ার বস্তির বাসিন্দারা এসে ওই বাড়িতে হামলার চেষ্টা করে। তারা কয়েকটি যানবাহনও ভাঙচুর করে। খবর পেয়ে রামপুরা থানার পুলিশ ছাড়াও পাশের খিলগাঁও থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়। এখনও সেখানে পুলিশ রয়েছে। বস্তিবাসীদের অভিযোগ, লাইলীকে হত্যার পর ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়িতে দায়িত্বরত এসআই মো. বাচ্চু মিয়া জানান, গৃহকর্মী লাইলীর গলায় কালো দাগ আছে। শরীরের অন্য কোথাও আঘাতের চিহ্ন নেই। লাইলীর স্বামী নজরুল ইসলাম ভারতের কারাগারে বন্দি। তিনি বনশ্রীর পাশে সোহাগ কোম্পানি সংলগ্ন ভুইয়াপাড়া বস্তিতে এক ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে থাকতেন। তার গ্রামের বাড়ি কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীয়া উপজেলার আজুয়াটালী গ্রামে।

loading...

About sylhet24 express

Check Also

প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রীকে হত্যার চক্রান্তের খবর নাকচ আমুর

অনলাইন ডেস্ক : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যায় জঙ্গিদের একটি চক্রান্ত বানচাল করা হয়েছে বলে যে খবর …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *