Breaking News
loading...
Home / জাতীয় / ১৪ সংস্থার সমন্বয়হীনতাই জলাবদ্ধতার প্রধান কারণ

১৪ সংস্থার সমন্বয়হীনতাই জলাবদ্ধতার প্রধান কারণ

আজকের পুরানা পল্টন শান্তিনগর বেইলি রোড থেকে ছবি ক্যামেরা বন্দি করেছেন মো:আবু বকর
আজকের পুরানা পল্টন শান্তিনগর বেইলি রোড থেকে ছবি ক্যামেরা বন্দি করেছেন মো:আবু বকর

* জলাবদ্ধতা নিরসন ডিসিসির পক্ষে সম্ভব নয়

রতন বালো : ১৪টি সরকারি সংস্থার সমন্বয়হীতনার কারণে নগরীর জলাবদ্ধতা স্থায়ী রুপ পাচ্ছে। এ সমস্যা দূর করতে ঢাকা সিটি করপোরেশনের পক্ষে সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন নগরবিদরা। তারা বলেছেন, জলাবদ্ধতা নিরসন ঢাকা সিটি করপোরেশনের একার পক্ষে সম্ভব নয়। জলাবদ্ধতার মূল কারণ ভরাট নালা ও নর্দমা বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।

বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, উন্নয়ন কাজে সমন্বয় আনতে হলে সিটি করপোরেশন, ওয়াসা, রাজউক, জেলা প্রশাসন, বিদ্যুৎ, গ্যাস, টেলিফোনসহ এ ধরনের ১৪টি সরকারি সংস্থাকে নিয়ে একটি টাস্কফোর্স গঠনের মাধ্যমে মহাপরিকল্পনা তৈরি এবং সে অনুযায়ী কাজে নেমে পড়তে হবে। এছাড়া জলাবদ্ধতা সমস্যার সমাধানে জনগণের সম্পৃক্ততা এবং সচেতনতা বাড়াতে হবে।

রাজধানীজুড়ে দীর্ঘদিনের এ জলাবদ্ধতার বিষয়ে নগরবিদ অধ্যাপক নজরুল ইসলাম বলেছেন, বৃষ্টি হলেই রাজধানীতে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়। নগরবাসীর চলাচলের কোনো উপায় থাকে না। জরুরী কোন রোগীকে হাসপাতালে নেওয়া যায় না। এছাড়া অপরিকল্পিত নগরায়ন ও সিটি করপোরেশন, ওয়াসা, রাজউক, জেলা প্রশাসন, বিদ্যুৎ, গ্যাস, টেলিফোনসহ এ ধরনের ১৪টি সংস্থার সমন্বয়হীনতাই রাজধানীর জলাবদ্ধতার বড় কারণ। ইচ্ছে মতোভাবে কাজ করছে এসব সংস্থা।

জলাবদ্ধতার মূল কারণ সম্পর্কে তিনি আরও জানান, আইন না মেনে অবৈধভাবে নদী, খাল ও জলাশয় ভরাট এজন্য দায়ী। তাছাড়া স্যুয়ারেজ কিংবা ড্রেনেজ সিস্টেম নষ্ট করে অপরিকল্পিত বাড়িঘর নির্মাণ, বক্সকালভার্ট ও ড্রেন নিয়মিত পরিষ্কার না রাখা এবং নগরবাসীর অসচেতনতার কারণেও এ সমস্যা প্রকট আকার ধারণ করছে। এসব সমস্যা দূর করতে হলে সেবামূলক বিভিন্ন সংস্থাগুলো একত্রে কাজ করতে হবে।

পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলনের চেয়ারম্যান আবু নাছের খান বলেন, জলাবদ্ধতা ও যানজটের কারনে ভয়াবহ নগরী জলাবদ্ধতার পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়ে যায়। এ অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য ভরাট হয়ে যাওয়া সকল খালগুলো দখলমুক্ত করতে হবে। পানিপ্রবাহ সুগম না হলে এ নগরীতে মানুষ বসবাস করতে পারবে না।

স্থপতি ইকবাল হাবিব একটি গনমাধ্যমে জানিয়েছেন, এ সমস্যা নিয়ে বহু আলোচনা-পর্যালোচনা হয়েছে। সম্ভাব্য সমাধানও ঠিক করা আছে। তবে সমাধানের জন্য সমন্বয়ের অভাব রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী তাসকিম এ খান জানিয়েছেন, মূলত বক্স কালভার্টের কারণেই এ জলাবদ্ধতা। রাজধানীর নিচু এলাকায় অবাধে অট্টালিকা তুলতে দিয়ে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হলেই ওয়াসাকে দুষবেন এটা হতে পারে না। জলাবদ্ধতার জন্য প্রধানত রাজাধানীবাসীও দায়ী। কারণ তারা সচেতন নন। এজন্য ওয়াসা কোনো সংস্থাকে দোষারোপ করছে না। বিভিন্ন খালে অবৈধভাবে দালান তৈরি ও ময়লা ফেলার কারণে খাল ও ড্রেনগুলোতে জট তৈরি হয়েছে।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র আনিসুল হক বিভিন্ন গণমাধ্যমে বলেছেন, জলাবদ্ধতা নিরসন কাজের সঙ্গে ১৪টি সরকারি সংস্থা সম্পৃক্ত। খাল উদ্ধারের দায়িত্ব জেলা প্রশাসক ও ঢাকা ওয়াসার। এ খালে সিটি করপোরেশন থেকে ১০০ টাকা খরচ করলেও দু-পাঁচ বছর পর তার বিরুদ্ধে দুদকে মামলা হবে। তাই ইচ্ছে করলেই সিটি করপোরেশন খাল উদ্ধারে ১০০ টাকা খরচ করতে পারেন না।

তবে আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে চাপ প্রয়োগ করতে পারি এবং সেটা করে যাচ্ছি। তাছাড়া ডিএনসিসির আয়াত্বের মধ্যে যে টুকু সম্ভব তা করা হচ্ছে। একটি সমন্বিত কর্তৃপক্ষ গঠন করে কাজ করলে জলাবদ্ধতা নিরসনসহ রাজধানীর অনেক সমস্যার দ্রুত সমাধান করা সম্ভব বলে তিনি মনে করেন।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকনও বিভিন্ন গণমাধ্যমে বলেছেন, কয়েকদিনের টানা বর্ষণে ঢাকা শহরে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। এটি নিরসনের দায়িত্ব ঢাকা ওয়াসার। তাছাড়া সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয়ের অভাব রয়েছে। ঢাকা শহরে আমাদের বিভিন্ন ধরণের সমস্যা সমাধানের জন্য প্রায় ৫৬টি সংস্থা আছে। এদের মধ্যে সমন্বয় সাধন করতে আমাদেরকে বেশ পরিমাণ বেগ পেতে হয়। এমন অনেক কিছু রয়েছে যা আমাদের সিটি করপোরেশনের ম্যান্ডেটের মধ্যে থাকে না। এর মধ্যেও নগরীর প্রতিটি ওয়ার্ডের ড্রেনগুলো পরিষ্কার করা হচ্ছে। কিন্তু খাল ও ড্রেন পরিষ্কারের দায়িত্ব যেহেতু ওয়াসার, সেহেতু তাদের সঙ্গে সমন্বয়হীনতার কারণে সমস্যা হচ্ছে। ওয়াসার জবাবদিহিতা সিটি করপোরেশনে অন্তর্ভুক্ত করা অথবা ওয়াসাকে সিটি করপোরেশনের অধীনস্থ করা হলে জলাবদ্ধতা নিরসন করা সম্ভব হবে।

গতকাল বিকেলে ঘণ্টাখানের বৃষ্টিতে রাজারবাগ, খিলক্ষেত, মতিঝিল, মালিবাগ, শান্তিনগর, বেইলী রোড, যাত্রাবাড়ী, শাহজাহানপুর, মোহাম্মদপুর, আজিমপুর, ধানমন্ডিসহ বিভিন্ন এলাকায় দেখা দিয়েছে জলাবদ্ধতা। নগরবাসী চলাচলে মারাত্নক দুর্ভোগ পোহাতে হয়। যথা সময়ে কেউ অফিসে যেতে পারেননি। এছাড়া শহরজুড়ে রাস্তা, ফুটপাত সংস্কার কাজের খোঁড়াখুঁড়িতে নগর জীবনে চরম দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছে নগরবাসী। রাজধানীর এ জলাবদ্ধতার জন্য সিটি করপোরেশন ও ওয়াসাসহ সেবা সংস্থাগুলোর সমন্বয়হীনতাকে দায়ী করছেন বিশেষজ্ঞরা।

আজকের পুরানা পল্টন শান্তিনগর বেইলি রোড থেকে ছবি ক্যামেরা বন্দি করেছেন মো:আবু বকর

বৃষ্টিতে রাজধানীতে জলাবদ্ধতা স্বাভাবিক ঘটনা হলেও গত কয়েক দিন নজিরবিহীন জলাবদ্ধতা দেখা গেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ২০০৪ সালে ঢাকায় ভারী বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হলে একই রকম ভোগান্তিতে পড়েছিল নগরবাসী। সে সময় (২০০৪ সালের জলাবদ্ধতার পর) এই সমস্যা সমাধানে বেশ কিছু পরামর্শ দিয়েছিলেন নগর পরিকল্পনাবিদরা। পরামর্শগুলোর মধ্যে উলে­খযোগ্য হলো, জলাবদ্ধতার সমস্যা সমাধানে স্যুয়ারেজ ও ড্রেনেজ সিস্টেমকে একক কর্তৃত্বে নিয়ে আসতে হবে।

নগরবাসী প্রধান সমস্যাগুলোর মধ্যে অন্যতম জলাবদ্ধতা। বর্ষাকাল এলেই সামান্য বৃষ্টিতে নগরীর অনেক গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় পানি উঠে যায়। ফলে নগরীর নিচু এলাকার বাসিন্দাদের নিদারুণ কষ্ট পোহাতে হয়। সিটি করপোরেশনের মূল সমস্যাগুলোর মধ্যে রয়েছে জলাবদ্ধতা, নালা-নর্দমা ভরাট ও খাল ভরাট। সমন্বয় কমিটির রিপোর্টেও জলাবদ্ধতার মূল কারণ হিসেবে খাল, নালা-নর্দমা ভরাট ইত্যাদিকে দায়ী করা হয়েছে বলেও মনে করছে নগরবাসী।

Loading...
loading...

ভিডিওটি দেখতে নিচে ক্লিক করুন



Loading...

About sylhet24 express

Check Also

শুধু আইন দিয়ে নয়, নিজের বিবেককে জাগ্রত রেখে কাজ করতে হবে : ডেপুটি স্পিকার

শুধু আইন দিয়ে নয়, নিজের বিবেককে জাগ্রত রেখে কাজ করতে হবে : ডেপুটি স্পিকার

সংসদ প্রতিবেদক : জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার মো. ফজলে রাব্বী মিয়া বলেন, শুধু আইন দিয়ে নয়, …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *