loading...
Home / আইন আদালত / খাবারের লোভ দিয়ে ঘরে নিয়ে শিশুটিকে ধর্ষণ করে শিপন * বাড্ডার ধর্ষক ৬ দিনের রিমান্ড

খাবারের লোভ দিয়ে ঘরে নিয়ে শিশুটিকে ধর্ষণ করে শিপন * বাড্ডার ধর্ষক ৬ দিনের রিমান্ড

খাবারের লোভ দিয়ে ঘরে নিয়ে শিশুটিকে ধর্ষণ করে শিপন * বাড্ডার ধর্ষক ৬ দিনের রিমান্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজধানীর বাড্ডায় চার বছরের শিশু তানহাকে ধর্ষণের পর হত্যার কথা স্বীকার করেছে গ্রেপ্তারকৃত শিপন। ঘটনার দিন খাবারের লোভ দেখিয়ে টেনে নিয়ে তানহাকে শিপন ডেকে নিয়ে যায় বলে পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। ধর্ষণ করার পর গলাটিপে হত্যা করা হয়।

গতকাল ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার আবদুল বাতেন বলেন, গত রবিবার বিকেল ৫টায় শিশু তানহা একই বাড়ির শিপনের ঘরের সামনে দিয়ে নিজের ঘরে ফিরছিল। খাবার লোভ দিয়ে তানহাকে ঘরে নিয়ে যায় শিপন। এরপরই তাকে ধর্ষণ করে। তিনি আরো বলেন, ‘তানহা চিৎকার করলে শিপন তার গলা চেপে ধরে হত্যার পর লাশ বাসার বাথরুমে ফেলে দেয়। পরে শিপন রক্তভেজা চাদর, তার গায়ের গেঞ্জি ও পরনের লুঙ্গি ধুয়ে বের হয়ে যায়।

এদিকে, রাজধানীর বাড্ডায় সাড়ে তিন বছরের শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া শিপনের ছয় দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। গতকাল শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর হাকিম আব্দুল­াহ আল মাসুদ রিমান্ডের আদেশ দেন। শিপনকে আদালতে হাজির করে মামলার সুষ্ঠু তদন্ত এবং প্রকৃত রহস্য উদঘাটনের জন্য ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের উপ-পরিদর্শক শওকত হোসেন। আদালতের সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা হরলাল মলি­ক এ তথ্য জানিয়েছেন। গত রবিবার রাতে রাজধানীর বাড্ডার আদর্শনগর এলাকা থেকে শিপনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
শ্বাসরোধে হত্যা করা হয় : ফরেনসিক

বাড্ডায় শিশু তানহাকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে বলে ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসকও নিশ্চিত করেছেন। গতকাল বিকেলে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল (ঢামেক) মর্গে তানহার ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়।

ঢামেক হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান ডা. সোহেল মাহমুদ সাংবাদিকদের বলেন, শিশুটিকে ধর্ষণের আলামত পাওয়া গেছে। এ ছাড়া তার বুক এবং গলায় কালো দাগ রয়েছে। এ থেকে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে শিশুটিকে। কিছু আলামতও নেওয়া হয়েছে। যেগুলো ল্যাবে পরীক্ষা করা হবে। এরপরই আরও বিস্তারিত জানা যাবে।

ধর্ষক শিপনকে গ্রেপ্তারের পর গতকাল দুপুরে রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) যুগ্ম কমিশনার আবদুল বাতেন সংবাদ ব্রিফিংয়ে জানান, শিশুটির বাবা-মা আদর্শনগরে টিনশেড বাড়ির একটি ঘর ভাড়া নিয়ে থাকেন। বাড়িটির অনেকগুলো ঘরের প্রায় প্রতিটিতেই একটি করে পরিবার থাকে। আবদুল বাতেন আরো জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে শিপন শিশু তানহাকে ধর্ষণের পর হত্যার দায় স্বীকার করেছেন। তানহাদের পাশের আরেকটি বাড়ির এক কক্ষে ভাড়া থাকতের শিপন ও তার স্ত্রী। দিনমজুর পরিচয়ে ওই বাসায় থাকলেও চকবাজার থানার একটি ডাকাতির মামলায় পাঁচ বছর কারাগারে ছিলেন শিপন। গত রবিবার বিকেল ৫টার দিকে শিপনের কক্ষের সামনে দিয়ে নিজেদের ঘরে ফিরছিল তানহা। এ সময় খাবারের লোভ দেখিয়ে শিশুটিকে টান দিয়ে নিজের কক্ষে নিয়ে ধর্ষণ করেন শিপন। তানহা চিৎকার করলে সঙ্গে সঙ্গে শ্বাসরোধ করে তাকে হত্যা করেন। এরপর বাসার শৌচাগারের কমোডে শিশুটির লাশ ফেলে যান শিপন। এরপর শিপন হত্যার আলামত নষ্টের জন্য বিছানার রক্তমাখা চাদর, পরনের গেঞ্জি ও লুঙ্গি বালতিতে ভিজিয়ে রাখেন। সন্ধ্যা ৬টার দিকে সেখান থেকে তানহার লাশ উদ্ধার করা হয়।

এর আগে রবিবার বিকালে রাজধানীর বাড্ডা এলাকায় তানহা নামের চার বছরের ওই শিশুটি ধর্ষণের শিকার হয়। ধর্ষণের পর শিশুটিকে হত্যা করে ধর্ষক শিপন। এ ঘটনার ৬ ঘণ্টার মধ্যে শিপনকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ। আবদুল বাতেন সাংবাদিকদের বলেন, শিপনের বাসা থেকে রক্তমাখা তোয়ালেসহ আলামত হিসাবে জব্দ করা হয়। তিনি বলেন, তানহা তার বাবা-মার সঙ্গে ভাড়া থাকতেন বাড্ডার আদর্শনগরের মিনহাজ নামে এক ব্যক্তির বাসায়। রবিবার ওই বাসার পাশে আমিন নামে অপর এক ব্যক্তির বাড়িতে জাহেদা আক্তার কলি নামে নতুন ভাড়াটিয়া আসে। তানহা জাহেদা আক্তর কলির কাছে যায়। তাকে আন্টি বলে ডাকে। শিপন তার স্ত্রীকে নিয়ে ওই বাড়ির ভিন্ন একটি রুমে ভাড়া থাকে। রবিবার বিকাল ৫ টায় শিশু তানহা জাহেদার বাসা থেকে শিপনের ঘরের সামনে দিয়ে নিজের ঘরে ফিরছিল। শিপন তখন খাবারের লোভ দেখিয়ে বাচ্চাটিকে টান দিয়ে তার ঘরে নিয়ে যায়। এর পর শিপন শিশু তানহাকে ধর্ষণ করে। এ সময় তানহা ও শিপনের পরিহিত কাপড়সহ বিছানা রক্তাক্ত হয়ে যায়। তানহা চিৎকার করলে শিপন তার গলা চেপে ধরে হত্যার পর তানহার লাশ বাসার টয়লেটে ফেলে দেয়। পরে শিপন রক্তভেজা চাদর, তার গায়ের গেঞ্জি ও পড়নের লুঙ্গি বালতিতে ভিজিয়ে রাখে।

গত রবিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর বাড্ডার আদর্শনগরী এলাকার ৩৬০ নম্বর বাসার থেকে বাথরুম থেকে তানহাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত তানহা জামালপুর জেলার প্রাইভেট কারচালক মেহেদী’র মেয়ে। ওই বাসাতেই ভাড়া থাকতো শিশু তানহার পরিবার। পুলিশ জানিয়েছে, শিপন একটি ডাকাতি মামলায় পাঁচবছর সাজা খেটে বের হয়েছে। সে দিনমজুরের কাজ করে। তার স্ত্রী পোশাক কারখানায় কাজ করেন।

Loading...
loading...

ভিডিওটি দেখতে নিচে ক্লিক করুন



Loading...

About sylhet24 express

Check Also

আপন জুয়েলার্সের ৩ মালিককে দুদকে তলব

আপন জুয়েলার্সের ৩ মালিককে দুদকে তলব

নিজস্ব প্রতিবেদক : অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে আপন জুয়েলার্সের মালিক দিলদার আহমেদ সেলিম, গুলজার আহমেদ …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *