loading...
Home / অর্থনীতি / টানা বৃষ্টির কারণে সবজির বাজার এখন চড়া।

টানা বৃষ্টির কারণে সবজির বাজার এখন চড়া।

টানা বৃষ্টির কারণে সবজির বাজার এখন চড়া।

মো:আবু বকর : গত সাপ্তাহে ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রয় হত এখন ১৬০ টাকা বিক্রয় হচ্ছে সুধু কাচামরিচই নয় সকল সবজির দাম এখন বৃদ্ধি পাচ্ছে। মূল্য বৃদ্ধি দিয়েই কাচামরিচ,টমেটো পিয়জ,আলু সহ সকল সবজি বাজার চড়া মূল্য দিয়ে ক্রয় করতে হচ্ছে।

গত কয়েকদিন ধরে টানা বৃষ্টি এবং অনেক এলাকায় বন্যায় ভেসে গেছে অসংখ্য ফসলের ক্ষেত। সেই ক্ষতির প্রভাব পড়েছে রাজধানীর সবজির বাজারে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে সবজিসহ বিভিন্ন পণ্যের দাম বেড়েছে কয়েকগুণ।

গত শুক্রবার ৮০ টাকা দরে বিক্রি হওয়া কাঁচা মরিচ গতকাল বাজারে বিক্রি হয়েছিল ১৬০ টাকায়। এছাড়া বেশকিছু সবজির দাম প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। গতকাল বাজারেও বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে প্রায় সব পণ্য। রাজধানীর হাতিরপুল, শান্তি নগর, মৌচাক, কারওয়ান বাজার, ঘুরে এই চিত্র দেখা গেছে। বাজারে সবজি, মাছসহ সব ধরনের পণ্যের দাম বাড়ার জন্য অব্যাহত বৃষ্টিপাতকে দায়ী করছেন ব্যবসায়ীরা। তারা বলেন, সারাদেশে বৃষ্টির কারণে সবজির উৎপাদন পর্যায়ের কৃষকরা মারত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। ফলে পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে এর প্রভাব পড়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে পেঁয়াজ ও কাঁচা মরিচের উৎপাদনে।

তবে ভোক্তারা বলছেন, ষড়ঋতুর এই দেশে রোদ-বৃষ্টি-শীত এসব থাকবেই। এগুলোকে অযুহাত হিসেবে দেখিয়ে দাম বাড়ান ব্যবসায়ীরা। কিন্তু পরবর্তীতে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে কোনো পণ্যের দাম কমানো হয় না। মূূলত সিন্ডিকেট ব্যবসার জন্যই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় সাধারণ ভোক্তা।

গতকাল বাজার ঘুরে দেখা গেছে, সপ্তাহের ব্যবধানে কাঁচা মরিচের দাম কেজিতে ৮০ টাকা থেকে বেড়ে ১৫০ – ১৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। দেশি পেঁয়াজ কেজি ৪০ টাকা এবং আমদানি করা ভারতীয় পেঁয়াজ ২৮ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

আজকের বাজারে বেগুন কেজি প্রতি ৬০-৮০ টাকা; শিম ১১০-১২০ টাকা; হাইব্রিড টমেটো ১৫০-১৬০ টাকা; দেশি টমেটো ১০০ টাকা; শশা ৪০-৫০ টাকা; চাল কুমড়া ৫০-৫৫ টাকা; কচুর লতি ৬০-৬৫ টাকা; পটল ৫০-৬০ টাকা; ঢেঁড়স ৫০-৬০ টাকা; ঝিঙ্গা ৬০ টাকা; চিচিঙ্গা ৫০-৬০ টাকা; করলা ৫০-৫৫ টাকা; কাকরোল ৫০ টাকা; পেঁপে ৪০-৫০ টাকা; কচুরমুখী ৫০-৫৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

প্রতিটি ফুলকপি ৪০ টাকা, বাঁধাকপি ৪০ টাকা এবং লেবু হালি প্রতি ২০ থেকে ৪০ টাকা; পালং শাক আঁটি প্রতি ২০ টাকা; লালশাক ২০ টাকা; পুঁইশাক ৩০ টাকা এবং লাউশাক ৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া আজকের বাজারে কেজি প্রতি দেশি রসুন ৯০ টাকা; ভারতীয় রসুন ১২০ টাকা; আলু ২০-২৪ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
হাতিরপুল বাজারের সবজি ব্যবসায়ী রহিম মিয়া বলেন, ৪-৫ দিন টানা বৃষ্টির কারণে পাইকারি পর্যায়ে দাম বাড়িয়েছেন ব্যবসায়ীরা। ফলে সে প্রভাব খুচরা পর্যায়েও পড়ছে।

মুদি বাজার পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, গত সপ্তাহের দামেই স্থিতিশীল রয়েছে অধিকাংশ মুদি পণ্যের দাম। আজকের বাজারে কেজি প্রতি ছোলা ৮৫ টাকা; দেশি মুগ ডাল ১৩০ টাকা; ভারতীয় মুগ ডাল ১২০ টাকা; মাসকলাই ১৩৫ টাকা, দেশি মসুর ডাল ১২৫ টাকা; ভারতীয় মসুর ডাল ৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। দারুচিনি ৩৬০ টাকা; জিরা ৪৫০ টাকা; শুকনা মরিচ ২০০ টাকা; লবঙ্গ ১৫০০ টাকা; এলাচ ১৬০০ টাকা; চীনের আদা ১২০ টাকা এবং ক্যারালা আদা ১৪০ টাকা; হলুদ ১৯০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

তবে ভোজ্য তেলের দাম গত দুই সপ্তাহ আগের বাড়তি দামেই বিক্রি হচ্ছে। আজকের বাজারে ব্র্যান্ড ভেদে ৫ লিটারের বোতল ৫৩০-৫৪০ টাকা; প্রতি লিটারে ১-২ টাকা বেড়ে ১০৭ টাকা থেকে ১০৯ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এদিকে সরকারের বিপণন সংস্থা ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) বাজার দর পর্যালোচনা করে দামের কিছুটা পার্থক্য দেখা গেছে, টিসিবির মূল্য তালিকায় ব্র্যান্ড ভেদে ৫ লিটারের বোতল ৫১০ টাকা থেকে ৫৩০ টাকা। প্রতি লিটার ভোজ্য তেল ১০২-১০৭ টাকা।

চালের বাজার ঘুরে দেখা গেছে, মোটা স্বর্ণা চাল ২ টাকা কমে প্রতি কেজি ৪৪ টাকা, পারিজা চাল ৪৩ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া মিনিকেট (ভালো মানের) ৫৪ টাকা, মিনিকেট (সাধারণ) ৫২ টাকা, বিআর২৮ ৪৮ টাকা, সাধারণ মানের নাজিরশাইল ৫০ টাকা, উন্নত মানের নাজিরশাইল ৫২ টাকা, পাইজাম চাল ৪৮ টাকা, বাসমতি ৫৩ টাকা, কাটারিভোগ ৭২-৭৩ টাকা এবং পোলাও চাল (পুরাতন) ১০০ টাকা, (নতুন) ৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

মাছের বাজার ঘুরে দেখা গেছে, আকার ভেদে প্রতি কেজি রুই মাছ ২৫০-৩৫০ টাকা, সরপুঁটি ৩৫০-৪৫০ টাকা, কাতলা ৩৫০-৪০০ টাকা, তেলাপিয়া ১৪০-১৮০ টাকা, সিলভার কার্প ২০০-২৫০ টাকা, চাষের কৈ ২৫০-৩৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। পাঙ্গাস প্রতি কেজি ১৫০-২৫০ টাকা, টেংরা ৬০০ টাকা, মাগুর ৬০০-৮০০ টাকা, প্রকার ভেদে চিংড়ি ৪০০-৮০০ টাকা, প্রতিটি ইলিশ ৮০০-১২০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে; প্রতি কেজি ইলিশের দাম রাখা হচ্ছে ২০০০ টাকা।

এদিকে সপ্তাহের ব্যবধানে ছোট দেশি মুরগির দাম গত সপ্তাহের বাড়তি দামে প্রতি পিস বিক্রি হচ্ছে ৪৫০ টাকা দরে। এছাড়া ব্রয়লার মুরগি ৫ টাকা বেড়ে ১৫৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। লেয়ার মুরগি ২২০ টাকা এবং পাকিস্তানি লাল মুরগি ২০ টাকা বেড়ে ২৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। আজকের বাজারে প্রতি কেজি গরুর মাংস ৫০০ টাকা এবং খাসির মাংস ৭৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

loading...

About sylhet24 express

Check Also

অশুল্ক বাঁধা সরিয়ে দেয়া গেলে ভারত-বাংলাদেশ বাণিজ্য বহুগুণে বাড়ানো সম্ভব

অশুল্ক বাঁধা সরিয়ে দেয়া গেলে ভারত-বাংলাদেশ বাণিজ্য বহুগুণে বাড়ানো সম্ভব

নিজস্ব প্রতিবেদক : বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমান বলেছেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ভৌগলিক …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *