loading...
Home / ইসলাম / কুরআন মুসলমানদের শক্তির উৎস

কুরআন মুসলমানদের শক্তির উৎস

কুরআন মুসলমানদের শক্তির উৎস
কুরআন মুসলমানদের শক্তির উৎস

মুহাম্মাদ শায়েস্তা খান : মানুষ সৃষ্টির শ্রেষ্ট জীব। দুনিয়াতে পথ চলার জন্য মানুষ বিভিন্ন সময়ে নিজেদের মতো করে দর্শন ও মতবাদ আবিষ্কার করেছে। তারা চেষ্টা করেছে মানুষকে শান্তি দেয়ার। কিন্তু তা সম্ভব হয়নি। কারণ তাদের দর্শনে সকল মানুষের সমঅধিকার নিশ্চিত করা হয়নি। মানুষের ব্যক্তি জীবন হতে শুরু করে জীবনের প্রতিটি সেক্টর কিভাবে চলবে তার নির্দেশনা দিতে পারেনি। কিন্তু পৃথিবীর একমাত্র সর্বাধিক পঠিত ও নির্ভুল গ্রন্থ আল কুরআন উল্লেখ করেছে সকল মানুষের বিধি-বিধান। এই কুরআন মুসলমানদের হাতে অথচ পৃথিবীর নেতৃত্ব দিচ্ছে অন্যজাতি। কারণ কি তা খতিয়ে দেখার দরকার।

অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি, যেখান হতে শিক্ষাগ্রহণ করে আজকের মহাকাশ গবেষণাসহ বিজ্ঞানের সকল সেক্টরের গবেষণা করে পৃথিবী পরিচালনা করা হচ্ছে। সেখানে কি গবেষণা করা হয়? গবেষণার উৎস কি? গবেষণার নীতিমালা কি? তা আজো মুসলিম জাতি জানার চেষ্টা করেনি। কুরআন এন্ড সাইন্সের ওপর উচ্চতর ডিগ্রি দেয়া হয় সেখানে। আর এই শিক্ষাগ্রহণ করে কেবলমাত্র ইহুদি ও খ্রিস্টানদের সন্তানরা। ২০১৭ সালে বিশেষ কারণে বাংলাদেশের এক তরুণ মেধাবী কুরআনের হাফেজ সেখানে কুরআন এন্ড সাইন্সের ওপর উচ্চতর পড়াশোনার সুযোগ পেয়েছেন। ১০০ জন ছাত্রের মাঝে কেবল একজনই মুসলিম। বিষয়টি কি মুসলিম জাতিসত্তার বিবেকের দজায় নাড়া দেয় না? নাসার বিজ্ঞানীদের গবেষণার মূল গ্রন্থ আল কুরআন। অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির গবেষণার মূল গ্রন্থ আল কুরআন।

মুসলিম জাতির হাতে কুরআন আছে কিন্তু সে কুরআন মৃত মানুষের জন্য। কারণ কি? ৫ থেকে ৭ শ বছর পূর্বে মুসলিম জাতি পৃথিবীতে শ্রেষ্ঠ ছিল। আজ সেই জাতি পরাধীন। কারণ কি? কারণ এটাই, মুসলিম জাতির শক্তির উৎস আল কুরআন অন্য জাতি ছিনিয়ে নিয়েছে। কিভাবে ছিনিয়ে নিলো সেটা জানা দরকার। ব্রিটেনে মাটির নিচে আজো কুরআন শিক্ষা দেয়ার জন্য গোপন মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। গভীর এক ষড়যন্ত্রের কবলে আজ মুসলিম জাতি। কুরআন গবেষণা বাদ দিয়ে মুসলিম জাতি কুরআনকে ফতোয়ার কিতাব, দোয়া তাবিজের কিতাব বানিয়ে নিয়েছে। তাই তো কবি বলেছেন-
কুরআনকে বুঝে পড়লে সবে
সকল কিছু যাবে জানা,
জীবনের সব কাজের অর্থ পেতে
কুরআন করো গবেষণা ।
যে কুরআন এনে দেবে
মুক্তির বারোতা
বুকে চেপে চুমু দিলেই তাকে
হবে কি মানা?

ব্রিটিশরা আমাদের এই ভারতীয় উপমহাদেশ শাসন করেছে ১৯০ বছর। এই শাসন ক্ষমতায় আসার আগে তারা মুসলমানদের নানাভাবে নির্যাতন করে দমানোর চেষ্টা করতো। কিন্তু পারতো না। ব্রিটিশ পার্লামেন্টে ব্রিটিশ কলোনিয়া গোল্ডস্টোনকে এই বিষয়ে জরিপ করার দায়িত্ব দেয়া হয়। দীর্ঘ জরিপের পর গোল্ডস্টোন রিপোর্ট দিলো-

“So long as the Muslim have the Quran, we have shall be unable to dominate them. We must either take it from them or make them lose their love of it”

অর্থাৎ আমরা মুসলমানদের ওপর বিজয়ী হতে পারবো না, যতোদিন তাদের কাছে কুরআন থাকবে। আমাদেরকে হয় তাদের কাছ থেকে এটিকে কেড়ে নিতে হবে অথবা তাদের মন হতে কুরআনের প্রতি ভালোবাসা মুছে দিতে হবে।

সুপ্রিয় পাঠক,
তারা আমাদের হাত থেকে কুরআন কেড়ে নিতে পারেনি। কিন্তু কুরআনের ভালোবাসা মুছে দিতে সক্ষম হয়েছে। অথচ এই কুরআন আমাদেরকে দুর্বল কিংবা হতভাগা করার জন্য প্রেরিত হয়নি। আল্লাহ বলেন-

مَا أَنزَلْنَا عَلَيْكَ الْقُرْآنَ لِتَشْقَىٰ

অর্থ: তোমার প্রতি এই কুরআন এ জন্য নাজিল করা হয়নি যে, এটা পাওয়া সত্ত্বেও তুমি হতভাগা হয়ে থাকবে। (সূরা ত্ব-হা/২০:২)

কুরআন নাজিলের এই মাসে কুরআন আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়-
১. আল কুরআন রহমত, প্রভাব বিস্তারকারী ও সতর্ককারী একটি গ্রন্থ। (সূরা বনী ইসরাইল/১৭:৮২)
২. আল কুরআন আল্লাহ প্রদত্ত হিদায়াতের গ্রন্থ। (সূরা যুমার/৩৯:২৩)
৩. আল কুরআন ঈমান বাড়িয়ে দেয়। (সূরা আনফাল/৮:২)
৪. আল কুরআন বিনয়ী করে দেয়। (সূরা হাশর/৫৯:২১)

সুপ্রিয় পাঠক,
আসুন সিয়াম সাধনার এই মাসে আল কুরআনের সঙ্গে সম্পর্ক বৃদ্ধি করি। মুমিনের এক নম্বর কাজ কুরআনের জ্ঞানার্জন করা। আর শয়তানের এক নম্বর কাজ কুরআনের জ্ঞানার্জন হতে মানুষকে দূরে সরিয়ে রাখা। কুরআন মুসলিম জাতির একক কোনো বিষয় নয়। তারপরও এর ধারক বাহক মুসলিম জাতি। কুরআনের ধারক বাহকদের এই আমানত রক্ষা করতেই হবে। ধন্যবাদ সবাইকে।

সূত্র,  jamunanews24.com

loading...

About sylhet24 express

Check Also

৪০ ওয়াক্ত নামাজ শেষে হজযাত্রীরা মক্কায় ফিরছেন

৪০ ওয়াক্ত নামাজ শেষে হজযাত্রীরা মক্কায় ফিরছেন

অনলাইন ডেস্ক : সরকারি ব্যবস্থাপনায় প্রথম হজ ফ্লাইটের যাত্রীরা মদিনায় রাসুল (সা:) এর রওজা মোবারক জিয়ারত …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *