loading...
Home / উপ সম্পাদকীয় / বাংলাদেশ প্রশ্নে জাতিসংঘে বিভিন্ন দেশের তৎপরতা

বাংলাদেশ প্রশ্নে জাতিসংঘে বিভিন্ন দেশের তৎপরতা

সাহেদ মন্তাজ : পূর্ব পাকিস্তানের জনগোষ্ঠীর আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার ও মানবাধিকারকে বুটের তলায় ও অস্ত্রের আঘাতে অবদমিত করে বিতাড়ন, হত্যা ও ধ্বংসযজ্ঞের পরাকাষ্ঠের যে নজিরবিহীন ইতিহাস পাকিস্তানি সামরিক সরকার সৃষ্টি করেছিল তা অস্বীকার করে পাকিস্তান সরকার জাতিসংঘ ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক ফোরামে পাকিস্তানের অখণ্ডতা রক্ষার দাবি তুলেছিল। বাংলাদেশ প্রশ্নে জাতিসংঘ শেষ পর্যন্ত বাস্তব কোনো ভ‚মিকা পালন করতে পারেনি। আর সে সুযোগও যে সীমিত ছিল তা বলাই বাহুল্য। কেননা, বিশ্বের দুই প্রধান পরাশক্তি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়ন স্বীয় রাষ্ট্রীয় অবস্থান বজায় রাখে। তবে মানবিক প্রশ্নে শরণার্থী সমস্যার ক্ষেত্রে জাতিসংঘ কিছুটা হস্তক্ষেপ করে, ফলে বাংলাদেশ সংকট একটি আন্তর্জাতিক ইস্যুতে পরিণত হয়। তবে পূর্বোলিখিত কারণে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেনি।

১৯৭১-এর সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে অনুষ্ঠিত জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ২৬তম অধিবেশনে ১১৭টি দেশ অংশগ্রহণ করে যার মধ্যে ভারত ও পাকিস্তানসহ ৫৫টি দেশ বাংলাদেশ বিষয়ে বিতর্কে অংশ নেয়। নিচে ৬টি ভাগে এই বিতর্ক উলে­খ করা হলো :

১. ২৪টি দেশ বক্তব্য দেয় যে, এই সমস্যাটি মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করা প্রয়োজন। কোনো রাজনৈতিক সংশিষ্টতার কথা তারা উলে­খ করেননি। দেশগুলো হলো : আর্জেন্টিনা, অস্ট্রেলিয়া, চিলি, চীন (তাইওয়ান), মিশর, ঘানা, জ্যামাইকা, জাপান, লাওস, লাইবেরিয়া, লিবিয়া, মেক্সিকো, মাদাগাস্কার, নেদারল্যান্ডস, নিকারাগুয়া, সিরিয়া, থাইল্যান্ড, তাঞ্জানিয়া, তুর্কি, উগান্ডা, উরুগুয়ে, ইয়েমেন (এডেন), ইয়েমেন (সানা) এবং জাম্বিয়া।
২. ৮টি দেশ প্রাথমিকভাবে মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করার জন্য এবং শরণার্থীদের ফিরিয়ে নেয়ার পূর্বশর্তরূপে পূর্ব পাকিস্তানে স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনার ওপর গুরুত্বারোপ করে । দেশগুলো হলো : আফগানিস্তান, সিলন (গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার উপর গুরুত্ব আরোপ), ইকুয়েডর, ফিনল্যান্ড, ইতালি, নেপাল, যুক্তরাজ্য (বেসামরিক সরকার গঠনের বিষয়ে বক্তব্য রাখে) এবং যুগোশাভিয়া।

৩. ১৪টি দেশ (আংশিকভাবে ১৫টি দেশ) মানবিক দিক বিবেচনা করার সাথে সাথে পূর্ব পাকিস্তানের অবস্থা পরিবর্তনের জন্য রাজনৈতিক সমাধানের কথা বলে। দেশগুলোর মধ্যে অস্ট্রিয়া, বেলজিয়াম (চতুর্থ ক্যাটাগরিরও অন্তর্ভুক্ত), সাইপ্রাসের বক্তব্য হলো : রাজনৈতিক সমাধানের মধ্যেই আছে মানবিক সমস্যা দূরীকরণের চাবিকাঠী নিহিত ; এবং ফ্রান্স, গায়ানা, আয়ারল্যান্ড, মাল্টার বক্তব্য হলো : রাজনৈতিক সমাধানেই সব লুকায়িত ; এছাড়া মঙ্গোলিয়া (পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের ইচ্ছানুযায়ী রাজনৈতিক সমাধান), নিউজিল্যান্ড, নরওয়ে, পোল্যান্ড, সুইডেন, রাষ্ট্র ও ইউএসএসআর (রাশিয়া) রাজনৈতিক সমাধানের উপর জোর দেয়।
৪. ৫টি দেশ মানবিক সমস্যার কথা বলে এবং জাতিসংঘের সহায়তা ছাড়াই ভারত ও পাকিস্তানকে সমস্যার সমাধান করতে হবে বলে বক্তব্য রাখে আলজেরিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ইরান, লেবানন, সিয়েরালিওন ও বেলজিয়াম।
৫. সৌদি আরব পাকিস্তানের পক্ষে মত ব্যক্ত করে।
৬. তিনটি দেশ ভাসাভাসা বক্তব্য পেশ করে ইথিওপিয়া, আইসল্যান্ড ও ইসরাইল।

নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের সাথে আলোচনাক্রমে পূর্ব বাংলার রাজনৈতিক সমাধান সম্ভব উলে­খ করে ১০টি দেশ পূর্ব বাংলার মানবাধিকারের উপর বিশেষভাবে বক্তব্য পেশ করে। এ-দেশগুলোকে ২টি ভাগে বিন্যস্ত করা যায় :
(ক) ৮টি দেশ মানবাধিকারসহ বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিতভাবে আলোচনা করে। দেশগুলো হলো : বেলজিয়াম, ইকুয়েডর (পূর্ব পাকিস্তানে গণহত্যার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানায়), আয়ারল্যান্ড, মাল্টা (শরণার্থীরা ত্রাণশিবিরে থাকার অর্থই হল তাদের উপর রাজনৈতিক ও সামরিক নিপীড়ন চালানো হয়েছে), মাদাগাস্কার, নিউজিল্যান্ড, সুইডেন ও উরুগুয়ে।

(খ) ৪টি দেশ বক্তব্য রাখে যে, জনগণ কর্তৃক নির্বাচিত ব্যক্তিদের সাথে সমঝোতার মাধ্যমেই রাজনৈতিক সমাধান সম্ভব। দেশগুলো হলো : ফ্রান্স, মঙ্গোলিয়া, নিউজিল্যান্ড ও সুইডেন।
এ অধিবেশনে সভাপতি নির্বাচিত হন ইন্দোনেশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী আদম মালিক। তিনি সমস্যাটিকে মূলত ভারত-পাকিস্তানের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করেন এবং রাজনৈতিক সমঝোতার পরিপ্রেক্ষিতে উভয় দেশের উপর প্রভাব বিস্তারের কথা বলেন। তিনি বাংলাদেশ-প্রশ্নে সাধারণ পরিষদে বিতর্কের পক্ষে ছিলেন না। কারণ তার ভাষ্যমতে জাতিসংঘের জরুরি কর্তব্য হল পাক-ভারত সমস্যার সমাধান, সাড়ে সাত কোটি বাঙালির ভাষ্য বা তাদের আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকারের প্রশ্নটি এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ নয়।

১৭ই সেপ্টেম্বর ১৯৭১ পূর্ববাংলার পরিস্থিতি সম্পর্কে জাতিসংঘের কার্যধারার উপর প্রণীত বার্ষিক প্রতিবেদনে মহাসচিবের মুখবন্ধে উলে­খ করা হয় যে, “জাতিসংঘের মহাসচিব হিসেবে ১৯৭১ এর মার্চে পূর্ব পাকিস্তানের ঘটে যাওয়া দুর্ঘটনায় আমার উদ্বেগের সীমা নেই। যদিও এ-যুদ্ধ পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ বিষয় তবুও কিছু কিছু সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে যা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের গোচরীভূত হয়েছে। গত নভেম্বরে পাকিস্তানে যে টর্নেডো হয়েছে তাতে মৃত্যু ও ধ্বংসের পরিমাণ অচিন্তণীয়। বিপুল পরিমাণ লোক ভারতে পালিয়ে গিয়েছে। পূর্ব পাকিস্তানের অসহায় জনগণ ও ভারতে অবস্থানরত শরণার্থীদের জন্য বিপুল পরিমাণ ত্রাণ প্রয়োজন।
“১৯৭১ সালের ১৬ই জুলাই সভায় অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদ হাই কমিশনার ও মহাসচিবের বক্তব্যের উপর পূর্ণ আলোচনা হয়েছে। সভার উপসংহারে পরিষদের প্রেসিডেন্ট মহাসচিব কর্তৃক গৃহীত পদক্ষেপকে পূর্ণ সমর্থন দিয়েছেন। স্বেচ্ছাপ্রণোদিত প্রত্যাবর্তনের বিষয় এখনো উপেক্ষিত রয়ে গেছে। ২৫শে মে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান শরণার্থী ফিরিয়ে নেয়ার ব্যাপারে ঘোষণা দেয়ার পর খুব অল্পসংখ্যক শরণার্থী ফিরে গেছে। তবে বিভিন্ন উৎস থেকে প্রাপ্ত সংবাদে জানা যাচ্ছে ভারতে শরণার্থী সংখ্যা বেড়েই চলেছে।

“রাজনৈতিক সমঝোতা না হওয়ায় এবং ঐ অঞ্চলের আইন পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় পূর্ব পাকিস্তানে সবরকম সাহায্য কাজে বিঘ্ন ঘটছে। যদি বিপুল পরিমাণ খাদ্য সাহায্য না দেয়া যায় তবে যেকোনো সময় খাদ্য সমস্যা প্রকট হতে পারে, দুর্ভিক্ষও দেখা দিতে পারে।”

“এই মানবিক সমস্যা বহুদূরব্যাপী বিস্তৃত হয়েছে। ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যকার সম্পর্কও এই সমস্যার অন্যতম কারণ। ৬ বছর আগে ঘটে যাওয়া যুদ্ধের পুনরাবৃত্তি ঘটতে পারে যা সত্যিই ভয়াবহ। এই পরিস্থিতিতে মনে মনে প্রস্তুতি কিংবা সিদ্ধান্ত নেয়া সহজ, কিন্তু রাজনৈতিক ও মানবিক সমস্যার মোকাবিলা করা অনেক কষ্টসাধ্য। আমার দৃষ্টিতে জাতিসংঘের পরবর্তী পদক্ষেপ এটা হওয়া উচিত।

“প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে মধ্য জুলাইতে আমি সিদ্ধান্তে পৌঁছি যে, শুধু কিছু ত্রাণ পাঠিয়ে ও সমবেদনা জ্ঞাপন করে মানবিক সমস্যা দূর করার চেষ্টার দিন আন্তর্জাতিক স¤প্রদায়ের ফুরিয়ে গেছে। বর্তমানে মানবিক, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক সমস্যা মিলে এমন এক সমস্যা সৃষ্টি করেছে যেখানে জাতিসংঘের সকল সংস্থাকে একক সত্তা হিসেবে কাজ করে সমস্যার মোকাবেলা করতে হবে। এইসব কারণে মহাসচিব হিসেবে আমি নিরাপত্তা পরিষদের দৃষ্টি আকর্ষণ করার তাগিদ অনুভব করেছি। একই সময়ে আমি শরণার্থী প্রত্যাবর্তনের ব্যাপারেও একটি প্রস্তাব করেছি। সেটা হল জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনারের কিছু প্রতিনিধিকে সীমান্তের উভয় পাশে দায়িত্ব দিয়ে শরণার্থী প্রত্যাবর্তনকে আরো সহজ করা। প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে উভয় সরকারের সম্মতিতে ২/৩টি নির্বাচিত এলাকায় এই প্রতিনিধিগণ দায়িত্ব পালন করবেন।সাম্প্রতিক পূর্ব পাকিস্তানে জাতিসংঘের ত্রাণকাজ জোরদার করা হয়েছে। আমার মতে, এর ফলে পূর্ব পাকিস্তানের অবস্থা দ্রুত ভালো হবে। এই দুঃসময়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় যে-কোনো সাহায্য করতে ইচ্ছুক। কিন্তু প্রধান যে সমস্যা তার জন্য প্রয়োজন রাজনৈতিক সমাধান।

উনিশশ একাত্তরের ৩রা ডিসেম্বর বাংলাদেশ প্রশ্নে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধে লিপ্ত হয়। যুক্তরাষ্ট্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নিরাপত্তা পরিষদের অধিবেশন দাবি করে। ৩রা ডিসেম্বর শুরু হওয়া যুদ্ধ চলে ১৫ই ডিসেম্বর পর্যন্ত ১৪দিন। এ সময় নিরাপত্তা পরিষদে ক্রমাগত বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। দুই পরাশক্তি ও তাদের সমর্থকদের বিভিন্ন প্রস্তাব ও পাল্টা প্রস্তাবের ফলে নিরাপত্তা পরিষদে ঐক্যবদ্ধ সিদ্ধান্ত গ্রহণ সম্ভব হয়নি। ৩ দিনে ২০ ঘণ্টা আলোচনা, বিতর্ক ও ভোট গ্রহণের পর নিরাপত্তা পরিষদ থেকে এজেন্ডাটি সাধারণ পরিষদে স্থানান্তরিত হয়। এভাবে ১২-২১শে ডিসেম্বর পর্যন্ত বিভিন্ন বিরতি দিয়ে নিরাপত্তা পরিষদের অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়।

৪ঠা ডিসেম্বর শুরু হয় নিরাপত্তা পরিষদের ১৬০৬তম অধিবেশন। অধিবেশনে ভারত ও পাকিস্তানের প্রতিনিধিদের বক্তব্য প্রদানের আহবান জানানো হয়। প্রথমে পাকিস্তানের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত আগাশাহী তার দীর্ঘ বক্তৃতায় ভারতের বিরুদ্ধে জাতিসংঘ সনদের ২ (৪) ও ২ (৭) ধারা লঙ্ঘনের অভিযোগ আনেন। অন্যদিকে ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত সমর সেন পাকিস্তানি প্রতিনিধির উদ্দেশ্যে বলেন যে, তিনি সামরিক সরকারের প্রতিনিধিত্ব করছেন না এবং তার প্রতিপক্ষ মূল সমস্যা এড়িয়ে ভারতকে অযথা অভিযুক্ত করছেন।

ভারত ও পাকিস্তানের প্রতিনিধিদের বক্তব্য প্রদানের পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি জর্জ বুশ ৭টি পয়েন্ট সংবলিত একটি প্রস্তাব উত্থাপন করেন :
১. যুদ্ধবিগ্রহ অবসানে ভারত ও পাকিস্তান সরকারকে আহবান জানানো যাচ্ছে ;
২. ভারত-পাকিস্তান সীমান্তে নিজস্ব সেনা প্রত্যাহারের আহবান করা যাচ্ছে ;
৩. মহাসচিবের তত্ত্বাবধানে যুদ্ধবিরতি ও সৈন্য প্রত্যাহার করা হচ্ছে কিনা তা জানার জন্য এর সদস্যদের পাঠানো হোক ;
৪. পূর্ব পাকিস্তানে শরণার্থী ফিরে যাওয়ার মতো পরিবেশ সৃষ্টির জন্য উভয় সরকারের কাছে অনুরোধ করা হচ্ছে ;
৫. শান্তি বিঘ্নিত করে এমন অবস্থা সৃষ্টি না করার জন্য উভয় সরকারকে আহবান জানানো যাচ্ছে ;
৬. মহাসচিব কর্তৃক ভারত ও পাকিস্তানে অফিস স্থাপনের ব্যাপারে উভয় সরকারের সম্মতি চাওয়া হচ্ছে ;
৭. এই ধারণা বাস্তবায়ন করার জন্য মহাসচিবকে নিরাপত্তা পরিষদে রিপোর্ট পেশ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।
অন্যদিকে সোভিয়েত প্রতিনিধি এর বিরোধিতা করে বলেন যে, প্রস্তাবটি গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি মার্কিন প্রস্তাবের পাল্টা আরেকটি প্রস্তাব উত্থাপন করেন। এতে বলা হয় :
১. পূর্ব পাকিস্তানে রাজনৈতিক সমাধান প্রয়োজন যা সেখানে বৈরিতার অবসান ঘটাবে ;
২. পূর্ব পাকিস্তানে সেনাবাহিনীর সকল প্রকার সন্ত্রাস বন্ধ করা প্রয়োজন।

৪ঠা ডিসেম্বর বেলজিয়াম, ইতালি ও জাপান কর্তৃক উত্থাপিত খসড়া প্রস্তাবে বলা হয় যে, আমরা ভারত ও পাকিস্তানের প্রতিনিধিগণের বক্তব্য শুনেছি। এটা অনুধাবন করছি যে, ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে শত্রুতা ছড়িয়ে পড়েছে যা

বিশ্ব শান্তি ও নিরাপত্তার প্রতি হুমকিস্বরূপ। আমরা মনে করি :
১. প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে উভয় সরকারের প্রতি যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দেয়া হচ্ছে ;
২. উভয় সরকারকে শরণার্থী প্রত্যাবর্তনে দায়িত্বশীল হওয়ার অনুরোধ করা হচ্ছে ;
৩. ঐ-সব শরণার্থীদের সাহায্যার্থে মহাসচিবকে সকল রাষ্ট্রের পূর্ণসমর্থন জ্ঞাপনের আহবান জানানো হচ্ছে ;
৪. অবস্থা সম্পর্কে সবসময় পরিষদকে অবহিত করার জন্য মহাসচিবকে অনুরোধ করা হচ্ছে ;
৫. পরিস্থিতি ঘনিষ্ঠভাবে অবলোকন করা এবং প্রয়োজনে যত শীঘ্র সম্ভব সভায় মিলিত হতে হবে।
অসমাপ্ত
লেখক : গকেষক ও কবি

loading...

About admin

Check Also

রেজাউল করিম

বাঙালির নৃতাত্ত্বিক পটভূমি ও বঙ্গবন্ধু

রেজাউল করিম : বাঙালি জাতি কোন একক নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠী নয়। বাঙালি একটি সংকর জাতি। প্রাচীনকাল …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *