loading...
Home / স্বাস্থ্য / চিকুনগুনিয়া দীর্ঘ এক ভোগান্তির নাম আতঙ্ক

চিকুনগুনিয়া দীর্ঘ এক ভোগান্তির নাম আতঙ্ক

চিকুনগুনিয়ার কোনো ভ্যাক্সিন এখন পর্যন্ত নেই। ছবি : সামাটিভি

নিজস্ব প্রতিবেদক : ‘চিকুনগুনিয়া’ দীর্ঘ এক ভোগান্তির নাম। নির্দিষ্ট কোনো প্রতিষেধক না থাকায় আক্রান্ত রোগীরা সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালের বিছানায় কাতরাচ্ছেন। ভাইরাসজনিত এ জ্বরের ক্রমেই ভয়াবহতা বাড়ছে। আক্রান্ত মশার মাধ্যমে মানুষ থেকে মানুষে এ রোগ ছড়াচ্ছে। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় চিকুনগুনিয়ায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা উদ্বেগজনক হারে বাড়লেও এ রোগের প্রধান বাহক এডিস মশা নিধনসহ নাগরিক সেবা নিয়ে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের মেয়র নিষ্ক্রিয়।

ডেঙ্গু ও জিকা ভাইরাসের মতোই এডিস প্রজাতির মশার মাধ্যমেই চিকুনগুনিয়া জ্বর মানুষের শরীরে ছড়াচ্ছে। চলতি মাসের শুরুতে রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে এ রোগে আক্রান্তের সংখ্যা হাজার হাজার। ঢাকা মেডিকেলেই ভর্তি আছেন পাঁচ শতাধিক। হাসপাতালগুলোতে ক্রমেই বাড়ছে রোগীর সংখ্যা।
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা অবশ্য বলছেন, এই রোগে মৃত্যুর তেমন কোনো ঝুঁকি নেই। তবে চিকুনগুনিয়া দীর্ঘ এক ভোগান্তির নাম তা তারা অকপটে স্বীকার করেছেন। চিকিৎসকরা বলছেন, এর কোন সুনির্দিষ্ট চিকিৎসা নেই। চিকিৎসা মূলত উপসর্গভিত্তিক। আক্রান্ত ব্যক্তিকে বিশ্রাম নিতে হবে।
রোগতত্ত¡, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) সাবেক পরিচালক মাহমুদুর রহমান গতকাল আলোকিত সময়কে বলেছেন, চিকুনগুনিয়ায় আক্রান্ত রোগীকে সম্পূর্ণ সুস্থ হতে এক মাস থেকে বছরও পেরুতে পারে। তিনিও রাজধানীবাসীর এ রোগ নিয়ে আতংকিত না হওয়ার আহŸান জানিয়েছেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক রোগ নিয়ন্ত্রণ প্রফেসর ডা. সানিয়া তহমিনা এবং রোগতত্ত¡, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) গবেষক ডা. মোস্তাফিজ আলোকিত সময়ের সঙ্গে কথা বলেছেন। তারা বলেছেন, আপাতত এ রোগের কোনো চিকিৎসা নেই। মশার কামড় থেকে সুরক্ষাই চিকুনগুনিয়া থেকে বাঁচার সবচেয়ে ভালো উপায়।

চিকিৎসকরা বলছেন, চিকুনগুনিয়া আক্রান্তদের একই সঙ্গে প্রচুর পানি ও তরল জাতীয় খাবার খেতে হবে। প্রয়োজনে জ্বর ও ব্যথার জন্য প্যারাসিটামল ট্যাবলেট এবং চিকিৎসকদের পরামর্শ মোতাবেক ওষুধ খেতে হবে। তবে গিটের ব্যথার জন্য গিটের ওপর ঠাণ্ডা পানির শেক ও হালকা ব্যায়াম উপকারী হতে পারে। এছাড়া প্রাথমিক উপসর্গ ভালো হওয়ার পর যদি গিটের ব্যথা ভালো না হয়, তাহলে চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ খেতে হবে। কোন কারণে রোগীর অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত নিকটস্থ সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যোগাযোগ করতে বলেছেন বিশেষজ্ঞরা।

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় চিকুনগুনিয়ায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা উদ্বেগজনক হারে বাড়লেও এ রোগের প্রধান বাহক এডিস মশা নিধনসহ নাগরিক সেবা নিয়ে চরম উদাসীন ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের মেয়র। সাম্প্রতিক সময়ে চিকুনগুনিয়ায় আক্রান্তের ঘটনা মারাÍকভাবে বেড়েছে। নির্দিষ্ট কোনো প্রতিষেধক না থাকায় আক্রান্ত রোগীরা সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালের বিছানায় প্রতিনিয়ত কাতরাচ্ছেন। তাছাড়া আক্রান্ত পরিবারগুলোর মধ্যেও ছড়িয়ে পড়েছে এক ধরনের আতঙ্ক। এ নিয়ে নগরবাসী উদ্বিগ্ন হলেও দুই নগরপিতা রয়েছেন অনেকটা ঘুমিয়েই।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সাধারণত জুন-জুলাইয়ে বর্ষা মৌসুমে চিকুনগুনিয়ার প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। তবে চলতি বছরের শুরুতেই এবার প্রথমে এ রোগ দেখা দেয়। তখন ভয়াবহতা খুব একটা না ছড়ালেও চলতি মাসের শুরু থেকেই রাজধানীবাসী ফের চিকুনগুনিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছেন। আর এবার প্রায় একই পরিবারের একাধিক সদস্য এ জ্বরে আক্রান্ত হচ্ছেন বলে জানা গেছে।

জানা যায়, ২০০৫ সালে ভারতে চিকুনগুনিয়া ভয়াবহ রূপ নিলে আইইডিসিআর বাংলাদেশে জরিপ চালায়। তখন এ রোগে আক্রান্ত কোনও বাংলাদেশি পাওয়া যায়নি। পরে ২০০৮ সালে রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জে প্রথম চিকুনগুনিয়ায় আক্রান্ত রোগী পাওয়া গিয়েছিল। পরে ২০১১ সালে দোহার উপজেলায় এই রোগ দেখা যায়। তবে বিচ্ছিন্ন দু’একজন রোগী ছাড়া এ রোগে বড় ধরনের কোন বিস্তার লক্ষ্য করা যায়নি বাংলাদেশে। এ রোগটি প্রথম ১৯৫২ সালে আফ্রিকাতে দেখা যায়। পরবর্তীতে এশিয়ার বিভিন্ন দেশ যেমন- ভারত, শ্রীলংকা, থাইল্যান্ড, মিয়ানমার এবং ইন্দ্রোনেমিয়াতে এর বিস্তার দেখা যায়।

Loading...
loading...

ভিডিওটি দেখতে নিচে ক্লিক করুন



Loading...

About admin

Check Also

নারীদের হার্ট অ্যাটাকের ৭টি লক্ষণ

নারীদের হার্ট অ্যাটাকের ৭টি লক্ষণ

অনলাইন ডেস্ক : সাধারণত নারীদের হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণগুলো পুরুষদের সঙ্গে সব সময় মেলে না। বিশেষজ্ঞদের এমনই …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *