loading...
Home / স্বাস্থ্য / গর্ভাবস্থায় খাবারের নিয়মনীতি

গর্ভাবস্থায় খাবারের নিয়মনীতি

গর্ভাবস্থায় খাবারের নিয়মনীতি
সিলেট টুয়েন্টিফোর এক্সপ্রেস স্বাস্থ্য ডেস্ক : গর্ভাবস্থায় স্বাভাবিকভাবেই একটু বেশি করে খাওয়ার পরামর্শ দেন ডাক্তাররা। তবে সেই খাবার নির্ধারণেও কিছু সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে। গর্ভের শিশুটির সুস্বাস্থ্যের কথা চিন্তা করে এমন অনেক খাবার ত্যাগ করতে হবে যা আগে গ্রহণ করলে সমস্যা হয়নি।
আমাদের মধ্যে এখনো গর্ভবতীর প্রয়োজনীয় খাবার, পরিমাণ এবং বিধি-নিষেধ নিয়ে অনেক ভুল ধারণা আছে। যেমন অনেকের ধারণা মা যদি বেশি খাবার খায় তাহলে গর্ভের সন্তান আকারে বড় হবে। তখন স্বাভাবিক ডেলিভারি সম্ভব হবে না। তাই গর্ভবতী মাকে কম খেতে দেওয়া হয়। যা মা ও শিশুর জন্য ভীষণ বিপদ ডেকে আনতে পারে।

আবার অনেকের মতে, একজন গর্ভবতী মাকে দুজনের খাবার খাওয়া উচিত। এটাও ভুল। কারণ অতিরিক্ত খাবার গ্রহণের সঙ্গে মুটিয়ে যাওয়ার সম্পর্ক আছে। অতিরিক্ত ওজনের মায়েদের ক্ষেত্রে প্রসবকালীন জটিলতা হবার সম্ভাবনা বেশি। গর্ভবতীর খাবার হতে হবে পুষ্টিকর এবং পরিমাণ হতে হবে পর্যাপ্ত।

গর্ভাবস্থায় কি খাবার বেশি খাওয়া উচিত?
গর্ভাবস্থায় মায়ের শরীর আগের তুলনায় অনেক বেশি কাজ করে। তবে সাধারণত প্রথম ছয় মাসে বাড়তি ক্যালরির প্রয়োজন হয় না। সবচেয়ে ভাল উপায় হচ্ছে যখনই ক্ষুধাবোধ হবে তখনই খাবেন। প্রথম কয়েক সপ্তাহে বমি ভাব ও দূর্বলতার কারণে খাবারে অরুচি দেখা দিতে পারে এক্ষেত্রে অল্প অল্প করে বারবার খাওয়া উচিত।

গর্ভাবস্থায় যা খাওয়া উচিত নয়
ডিম বা ডিমের কুসুম পুরোপুরি সিদ্ধ করে খেতে হবে। আধা সিদ্ধ বা কাচা ডিম খাওয়া উচিত নয়। যেকোন মাংস ভালভাবে রান্না করে খেতে হবে। কাচা মাংস বা আধা সিদ্ধ মাংস দিয়ে তৈরি খাবার খাওয়া উচিত নয়। খুব বেশি মুরগি বা গরুর কলিজা খাওয়া ঠিক না। দিনে এক বা দুই কাপের বেশি কফি বা চা পান করা ঠিক না। ধূমপান ও অ্যালকোহল পরিহার করুন।

গর্ভাবস্থায় ডায়েট
গর্ভাবস্থায় ডায়েট করা উচিত না এতে করে আপনার শরীর পুষ্টিহীনতায় ভুগতে পারে। গর্ভাবস্থায় ওজন বাড়া ভাল লক্ষণ কিন্তু আপনার ওজন যদি খুব বেশি বেড়ে যায় তাহলে খাবারের তালিকা থেকে চিনি ও চর্বি যুক্ত খাবার বাদ দিন ও হালকা ব্যায়াম করুন। তবে তার আগে ডাক্তারের পরামর্শ নিন।

গর্ভাবস্থায় ওজন কতটুকু বাড়বে
ধীরে ধীরে ওজন বাড়া সবচেয়ে ভাল। সাধারণত গর্ভাবস্থায় ওজন ১০-১২ কেজি বাড়তে পারে।

দিনে কত বার খাবেন
নিয়মিত খাবার খাবেন। তিন বেলা খাবারের পাশাপাশি ৩-৪ বার হালকা নাস্তা করতে পারেন। যদি খাবারে অরুচি বা বদহজম হয় তাহলে অল্প অল্প করে বারবার খাবেন।

আপনার প্রতিদিনের খাবারের তালিকায় অবশ্যই নিচের চার ধরনের পুষ্টিকর খাবার থাকতে হবে।

ডিম:
ডিম শিশুর মস্তিষ্কের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে এবং জন্মগত ত্রুটি দূর করে। গর্ভাবস্থায় সিদ্ধ ডিম খাওয়া ভাল। আর কেউ যদি ওমলেট বা ডিম পোচ খেতে চান তাহলে অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে ডিম যেন কাঁচা না থাকে।

মিষ্টি আলু:
মিষ্টি আলুতে রয়েছে প্রচুর পরিমানে ফাইবার, ভিটামিন বি৬, পটাশিয়াম, ভিটামিন সি এবং আয়রন। এগুলো শিশুর বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয়। এছাড়া এতে রয়েছে কপার যা শরীরে আয়রন দ্রুত শোষন করতে সাহায্য করে। মিষ্টি আলু সিদ্ধ করে বা বেক করে খেতে পারেন। এছাড়া ফ্রেন্স ফ্রাইয়ের মত করেও খেতে পারেন।

বাদাম:
বাদামে রযেছে ওমেগা-৩, প্রোটিন, ফাইবার এবং বিভিন্ন ধরনের ভিটামিন ও মিনারেল। এছাড়াও রয়েছে ম্যাগনেশিয়াম যা প্রিম্যচিউর ডেলিভারির ঝুঁকি কমায় ও শিশুর স্নায়ুতন্ত্রের গঠনে সাহায্য করে।

শস্য ও ডাল:
শস্য ও ডাল থেকে প্রচুর পরিমানে প্রোটিন ও আয়রন পাওয়া যায় । এছাড়া জিংক ও ক্যালসিয়ামও পাওয়া য়ায় ।

চর্বি ছাড়া মাংশ:
মাংস থেকে পাওয়া যায় প্রোটিন ও আয়রন। যা শিশুর মস্তিকের বিকাশে গুরুত্বপুর্ণ ভূমিকা রাখে।

কমলার রস :
এক গ্লাস কমলার রস থেকে আপনি প্রচুর পরিমানে পটাশিয়াম, ভিটামিন সি পাবেন । যা শিশুর দাতঁ ও হাড়ের গঠনকে মজবুত করবে।

দই :
দই এ দুধের চেয়ে বেশি ক্যালসিয়াম থাকে। এছাড়া এতে ভিটামিন বি এবং জিংক রয়েছে । একজন গর্ভবতী মাকে অবশ্যই পর্যাপ্ত পরিমানে ক্যালসিয়াম গ্রহন করতে হবে। ক্যালসিয়ামের ঘাটতির ফলে জন্মের সময় শিশু কম ওজন নিয়ে জন্মাতে পারে এবং মা পরবর্তী সময়ে হাড়ের বিভিন্ন সমস্যায় ভুগতে পারে।

ওটামিল:
ওটস এ প্রচুর পরিমানে ফাইবার, প্রোটিন এবং ভিটামিন বি৬ থাকে । সকাল বেলাটা একবাটি ওটামিল খাওয়া শুরু করতে পারে এতে করে সকালের বমি ভাবটা একটু কমতে পারে । গর্ভাবস্থায় অনেকে কোষ্ঠকাঠিন্যে ভুগে থাকেন। ওটস এর প্রচুর ফাইবার আপনাকে এই সমস্যা থেকে মুক্তি দিবে। ওটস বিভিন্ন সুপার শপ এবং দোকানে কিনতে পাওয়া যায় ।

সবুজ শাকসবজি:
শাক সবজি নিয়ে বলার তেমন কিছুই নেই। এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যা বাচ্চা ও মা দুই জনকেই সুস্থ রাখবে।

পানি
রোজ প্রচুর পরিমাণে পানি পান করতে হবে। পানির সঙ্গে বিভিন্ন স্যুপ, টাটকা ফলের রসও খাওয়া যেতে পারে।

একজন গর্ভবতীর খাবারের প্রতি প্রয়োজন বাড়তি যত্ন। প্রয়োজনীয় সকল পুষ্টি সমান অনুপাতে প্রয়োজন। আর তাই এই সময় ডাক্তারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখুন। ডাক্তারের পরামর্শ মতো খাবার খাওয়া উচিত।

loading...

About admin

Check Also

মুক্তামনির জন্য উপহার পাঠালেন প্রধানমন্ত্রী

মুক্তামনির জন্য উপহার পাঠালেন প্রধানমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক : ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিরল রোগে আক্রান্ত মুক্তামনির জন্য চকলেট পাঠিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *