loading...
Home / হাত বাড়িয়ে দাও / ব্যর্থ মানুষের গল্প বাফেটের বড় ভুল

ব্যর্থ মানুষের গল্প বাফেটের বড় ভুল

অনলাইন ডেস্ক : কিশোর বয়সে টাকা আয়ের জন্য বাড়ি বাড়ি চুইংগাম, কোমল পানীয় এমনকি সাপ্তাহিক ম্যাগাজিনও বিক্রি করতেন ওয়ারেন বাফেট। এক সময় বাড়তি টাকা আয়ের জন্য দাদার মুদি দোকানে কাজ শুরু করেন তিনি। একদিকে দোকানে কাজ অন্যদিকে পত্রিকার হকারি, গলফ বল বিক্রি। সেই মুদি দোকানে কাজ করা ছেলেটিই আজকের পৃথিবীর ধনী ব্যক্তিদের মধ্যে অন্যতম। শুধু কী তা-ই, বিদায়ী বছরের আয়ের ভিত্তিতে বিশ্বের শীর্ষ ১০ জনের নাম প্রকাশ করেছে ফোর্বস ম্যাগাজিন। তালিকায় সবার ওপরে আছে ওয়ারেন বাফেটের নাম। গেল নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্প জয়ী হওয়ার পরে মাত্র ৫৩ দিনেই মার্কিন ধনকুবের বাফেট আয় করেন ৭৮০ কোটি ডলার, সে হিসেবে তার সম্পদ বেড়েছে ১২.৩, যার বর্তমানে নিট সম্পদমূল্য ৭৪.২।

মজার বিষয় হলো দুনিয়াজুড়ে ধনী ব্যক্তিদের সফলতার গল্প প্রচলিত থাকলেও, তার ব্যর্থতার কথা খুব একটা শোনা যায় না। এদিক থেকে ওয়ারেন বাফেট ব্যতিক্রম। তিনি নিজের ব্যর্থতার কথা বলতেই বেশি পছন্দ করেন। তার তেমনই একটি গল্প লোক মুখে প্রচলিত আছে। জানা যায়, ‘বার্কশায়ার হ্যাথাওয়ে’ নামে যে ৩০০ বিলিয়ন ডলারের সাম্রাজ্য ওয়ারেন দাঁড় করিয়েছেন গত ৫০ বছর ধরে তা ছিল একটা ‘এপিক ফেইলুর’। বার্কশায়ার হ্যাথাওয়ে এর সাথে বাফেটের সম্পৃক্ততার শুরু ১৯৬২ সালে, তার অন্য অনেক বিনিয়োগের মতোই তিনি এ কোম্পানির স্টক কেনেন প্রতি শেয়ার ৭.৫০ ডলার করে। যেখানে এনালাইসিস বলে, এ স্টকের দাম ২০ ডলার হওয়া উচিত। তাই বাফেট স্বল্পমূল্যের কিছু স্টক কিনলেন লাভের আশায়। সেই লাভ আসতে বেশি সময় নিলো না। সে সময় বার্কশায়ারের প্রেসিডেন্ট ছিলেন সিবারি স্ট্যান্টন, তিনি বাফেটকে কফি খেতে ডাকলেন। কফিটা ভালো ছিল, বাফেট জানালেন তার বিক্রিতে আপত্তি নেই যদি প্রতি শেয়ারে ১১.৫০ ডলার করে দাম পান স্ট্যান্টন রাজি হলেন, কিন্তু ঝামেলাটা বাধলো যখন ফর্মাল অফার হিসেবে প্রতি শেয়ার ১১.৩৭ ডলার করে দিতে চাইলেন। এ ক্ষেত্রে যে কোন বিচক্ষণ লোক, এতটুকু কম পরিমাণে বিক্রি করবে কি না চিন্তা করবে বা বিক্রি না করলেও ধৈর্য ধরবে অনুক‚ল পরিবেশের জন্য। কিন্তু বাফেট যা করলেন তা তার ব্যক্তিত্বের সাথে বেমানান। একে তো অল্প বয়স, রক্ত গরম, তিনি ভয়ানক রেগে গেলেন। সিদ্ধান্ত নিলেন স্ট্যান্টনকে উচিত শিক্ষা দিতে হবে। যা ভাবা তাই কাজ, শুরু করলেন ‘বার্কশায়ার হ্যাথাওয়ে’ স্টক কেনা, যাতে মেজর স্টকহোল্ডার হয়ে বোর্ডে বসতে পারেন আর স্ট্যান্টনকে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বের করে দিতে পারেন!

সর্বকালের সেরা ধনী ব্যক্তিটি শুধুমাত্র একজন লোককে শায়েস্তা করার জন্য একটা কোম্পানির মেজরটি স্টক কিনলেন। যা হওয়ার তাই হলো, ওয়ারেন বাফেট তার জীবনের সবচেয়ে ভুল সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেললেন। ‘বার্কশায়ার হ্যাথাওয়ে’ আজকের মতো তখন এরকম জায়ান্ট কোম্পানি ছিল না। একটা টেক্সটাইল মিল যারা সাউথ থেকে তুলা আমদানি করে কাপড় বানাতো। তখন পর্যন্ত এয়ার কন্ডিশনিং প্রযুক্তি আসেনি। ‘বার্কশায়ার হ্যাথাওয়ে’ একটা জিনিস চিহ্নিত করেছিল যে যদিও সাউথে কাঁচামাল এবং শ্রম স্বস্তা ছিল তারপর এরকম ফ্যাক্টরির জন্য অপেক্ষাকৃত ঠাণ্ডা এবং কম আর্দ্র পরিবেশ দরকার। কিন্তু যখন বাফেট কোম্পানির মেজর স্টকের মালিক হলেন ততদিনে অবস্থা আর আগের মত নাই। এয়ার কন্ডিশনিং প্রযুক্তি চলে এসেছে, দক্ষিণের শ্রম ও কাঁচামাল সহজলভ্য, ‘বার্কশায়ার হ্যাথাওয়ে’ তখন একটা লুজিং কনসার্ন। বাফেট চেয়ারম্যান হলেন, মধুর প্রতিশোধ নিয়ে স্ট্যান্টনকেও সরানো হলো। কিন্তু কোম্পানির গতি নিম্নমুখী, টিকে থাকাই বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিল। বাফেট আরও টাকা ঢাললেন কোম্পানিতে, কোনো লাভ হলো না। স্টক বিক্রি করতে চাইলেন, কেউ কিনলো না। উপায় না দেখে শেষ পর্যন্ত বাধ্য হলেন ফ্যাক্টরি বন্ধ করে দিতে। ততদিনে জল অনেক দূর গড়িয়েছে। ব্যবসা খারাপ হওয়াতে বাফেট বাধ্য হয়েছিলেন কোম্পানির বিনিয়োগে বৈচিত্র্য আনতে, খুব সহজেই চিহ্নিত করলেন ইন্স্যুরেন্স খাতকে। ১৯৮৫ সালে বার্কশায়ার তাদের শেষ টেক্সটাইল ফ্যাক্টরিটাও বন্ধ করে দেয়। কিন্তু ততদিনে অন্য আরো অনেক বিনিয়োগের সাথে ইন্স্যুরেন্স খাতের বিনিয়োগ বার্কশায়ার হ্যাথাওয়েকে পরবর্তী ৫০ বছরে ৩০০ বিলিয়ন ডলারের কোম্পানিতে পরিণত করার ভিত তৈরি করে দিয়েছে।
২০১০ সালে এসে বাফেট বলেছেন, ‘বার্কশায়ার হ্যাথাওয়ে’ আমার জীবনের সবচেয়ে বড় ভুল। যদি এ প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ না করে সরাসরি ইন্স্যুরেন্স খাতে বিনিয়োগ করতাম তাহলে আমার সম্পত্তি কয়েকশত গুণ বেশি হতো।’

বাফেট অনেকগুলো ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন যা তাকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে এসেছিল। কিন্তু বাফেট কখনো হাল ছেড়ে দেননি। বিনিয়োগে বৈচিত্র্য এনে সফলতা পেয়েছেন। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হলো, ওয়ারেন বাফেট তার ব্যর্থতা কখনো লুকানোর চেষ্টা করেননি, বরং ব্যর্থতাকে তিনি প্রকাশ্যে নিয়ে এসেছেন। যার প্রমাণ দেখিয়েছেন তিনি, ‘বার্কশায়ার হ্যাথাওয়ে’ কে ব্র্যান্ড নেম হিসেবে রেখে দিয়ে। যাতে প্রতিদিন কোম্পানির নাম তার ব্যর্থতা মনে করিয়ে দেয় এবং উনি ভুল থেকে শিখতে পারেন।

loading...

About admin

Check Also

আইফুকে বাঁচাতে এগিয়ে আসুন

আইফুকে বাঁচাতে এগিয়ে আসুন

অনলাইন ডেস্ক : জীবনের শুরু হওয়ার আগেই শুরু জীবনযুদ্ধ। সিনেমার গল্পকেও হার মানিয়ে অবিচল পথ চলছিল …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *